বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বলতে গেলে জঙ্গিবাদ ই।তার চেয়ে বড় বিষয়,উচ্চবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের এ ব্যাপারে জড়িয়ে পড়া।একটু পেছনে ফেরা যাক।
১০/১২ বছর আগে জঙ্গিবাদের কথা উঠলেই বুঝে না বুঝে যাই হোক আঙুল তাক করা হতো কাওমী মাদ্রারাসার ছাত্রদের উপর।সেটা একেবারে অমূলক ছিল যে, তাও না।যথার্থ ই ছিল।আর এখন একই আঙুল তাক করা হচ্ছে উচ্চবিত্ত শিক্ষিত ছেলেদের উপর।১০/১২ বছরের ব্যবধানে এ আঙুল ঘুরে গেল কেন?উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।
আগে,জঙ্গিবাদের হোতাদের টার্গেট ছিল মাদ্রাসার ছাত্র।তার কারনও স্পষ্ট।মাদ্রাসার ছেলেদের একমুখী(শুধু ধর্মীয়) শিক্ষা থাকায় সহজেই তাদের ব্রেন ওয়াস সম্ভব হতো।এখনো সে হোতা ব্যক্তিবর্গ একই কৌশল,ব্রেনওয়াস ব্যবহার করছে।শুধু লক্ষ্যবস্তু ভিন্ন।এখনকার টার্গেট উচ্চবিত্ত শিক্ষিত যুবক।প্রশ্ন হতে পারে,এরাও কি একমুখী শিক্ষার ফলাফল ভোগ করছে?এককথায় জবাব,"হ্যা"।খোলাশা করা প্রয়োজন।
ছেলেরা জন্মের পরপরই দেখে তাদের কাঁধের উপর ইংরেজি বইয়ের বিশাল স্তুপ।একদিকে টিউটর,আরেকদিকে বাবা-মামা,সবার একই শব্দ,"পড়,যুগের সাথে তাল মিলাতে হবে।ফাস্ট হতে হবে।"ইচ্ছা-অনীহায় মৃত্যু ঘটে কোমল একটি প্রানের।সে যান্ত্রিক মানবে পরিনত হয়।যেখানে ইনপুট,প্রসেসিং আর আউটপুটের খেলা চলে।সে হয়ে উঠে একমুখী।শুধু পাঠ্যবইমুখী।তার জানার বাইরে থেকে যায় বিশাল এক জগত।
আমি এক্ষেত্রে বাবা-মামা কেই প্রথমে কাঠগড়ায় দাড় করাবো।কোনদিন একটা সাহিত্যের বই নিয়ে ছেলের হাতে দিয়েছেন?কোনদিন ছেলেকে নিয়ে আকাশ দেখেছেন?ছেলে কী চাইছে না চাইছে তার খোঁজ নিয়েছেন?সব উত্তর ই যদি না হয়,তো আপনার ছেলে জঙ্গী হবে নাতো কার ছেলে হবে?কথাটা রাফলি বলার জন্য দুঃখিত।
মূল ব্যাপার হচ্ছে,শুধু পাঠ্যবইয়ে মুখ ঘুঁজে থাকার ফলে সে জানে না ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে,সে জানে না মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে। সে রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,জীবনানন্দ সম্পর্কে জানে না।জানে না সুকান্ত, বিষ্ণু দে সম্পর্কে। যে ছেলে জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' পড়েনি সে কী করে জানবে ভাষা আন্দোলন কী?যে ছেলে জীবনানন্দকে চিনে না সে কী করে জানবে বাঙালি জাতিসত্তা কী?নজরুল,রবীন্দ্রনাথ, জসীমউদ্দিন প্রত্যেকেই এক একটি বাংলাদেশ।যে ছেলে সাহিত্য পড়তে জানে সে জঙ্গী হবে না।কারন সে জানে,আমরা বাঙালি,এক আত্মা।
পরিশেষে বলতেই হয়,
"যে কবিতা শুনতে জানে না,
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।"
জঙ্গীবাদের কবল থেকে তরুন সমাজকে বাঁচাতে ইংরেজী শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রদের দিতে হবে সাহিত্য,পারিপার্শ্বিক জ্ঞান।মা বাবার সন্তানের হাতে তুলে দিতে হবে সাহিত্য।তবে মুক্তি পাবে দেশ,জঙ্গীবাদের কড়াল গ্রাশ থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




