somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"ধর্ষন আমার জন্মগত অধিকার"

১৪ ই জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি পুরুষ,তাই ধর্ষন আমার জন্মগত অধিকার।সৃষ্টিকর্তা আমাকে বিশেষ ভাবে সৃষ্টি করেছেন যেন আমি ধর্ষন করতে পারি।আর নারীকে সৃষ্টি করেছেন ধর্ষিত হওয়ার জন্য।আমার আছে এক আশ্চর্য বস্তু,এক বিস্ময়কর অহংকার।সেই বস্তুটি দিয়ে আমি ধর্ষন করে চলি।সকালে বিকালে সন্ধ্যায় রাতে ভোর রাতে এবং আবার সকালে- সব সময় ধর্ষন করাটা আমার মৌলিক অধিকার।মানুষ এর মৌলিক অধিকার পাচটি- খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা ও চিকিৎসা।আর পুরুষ মানুষের মৌলিক অধিকার ছয়টি- খাদ্য,বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা,চিকিৎসা ও ধর্ষন।রাস্তায় খোলা মাংস দেখলে যেমন কুকুর ঝাপিয়ে পড়ে আমিও তেমনি মেয়ে দেখলে ঝাপিয়ে পড়ি-যদি মেয়ে দেখলে আমি ঝাপিয়ে না পড়ি,যদি মেয়েদের ওড়নার আড়ালে বুকের উচ্চতা,শাড়ির আড়ালে কোমরের বাক দেখে আমার বস্তু অহংকারি না হয়,আমি যদি ঝাপিয়ে না পড়ি তাহলে আমি কিসের পুরুষ?তাহলে তো আমি পুরুষত্বহীন,নপুংশ।কাজেই মেয়েরা সব ঢেকে ঢুকে চল আমার সামনে।চটের তৈরি ওড়না বুকে জড়াও যেন বুকের উচ্চতা বোঝা না যায়,বস্তা পেচিয়ে চল রাস্তায় যেন শরীরের কোন স্থানের চামড়া দেখা না যায়।যেহেতু ধর্ষন আমার মৌলিক অধিকার সেহেতু তোমার শরীরের কোন স্থানের চামড়া দেখা গেলেই ধর্ষন করতে বাধ্য থাকব আমি।

আমি পুরুষ।বিধাতার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।আমি রাজা হই কিংবা ভিখিরি হই-আমি পুরুষ।আমি শ্রেষ্ঠ।আর ধর্ষন আমার মৌলিক অধিকার।নারী ধর্ষিত হয় তার নিজের দোষে।কেন সে নিজেকে ঢেকে চলবে না?কেন সে কালো বোরখা নামক বস্তার ভিতর নিজেকে ভরে রাখবে না?ঢেকে ঢুকে না চললে ধর্ষন তো আমি করবই কেননা ওটা যে আমার জন্মগত অধিকার।পাচ বছরের বাচ্চা থেকে পঞ্চাশ বছরের মধ্য বয়স্ক মহিলা সবাইকে বস্তাবন্দি হয়ে চলতে হবে।কঠিন পর্দায় ঢেকে রাখতে হবে নিজেকে।আমি ধার্মিক।ধর্মকে,ধর্মের আদেশ কে শ্রদ্ধা করি।তাই পর্দা যে করে তার দিকে যদিও বা জিহবা বের করে লালা ফেলি কিন্তু ধর্ষন করিনা তাকে।কিন্তু যে পর্দা করবে না সে ৬ বছরের শিশু হোক কিংবা ১৬ বছরের কিশোরি তাকে আমি ধর্ষন করবই,কেননা সেটা আমার মৌলিক অধিকার।হোক সে শিশু- সে তো একটা মেয়ে-একটা মাংস পিন্ড।তারও যোনি আছে আমার অহংকার প্রবেশ করানোর জন্য।আমি অধিকার সচেতন তাই মাংস পিন্ড ছোট হক বড় হোক,কম বয়সি হোক বেশি বয়সি হোক কোন ছাড় দেইনা।কারন আমি পুরুষ,ধর্ষন আমার মৌলিক অধিকার।

আমি যখন শিক্ষক তখন ছাত্রীকে ধর্ষন করা আমার অধিকার,আমি যখন প্রেমিক প্রেমিকাকে ধর্ষন করা আমার অধিকার,আমি যখন পুরুষ তখন যেকোন নারীকেই যার একখানি যোনি আছে (কোন এক সময় আমি পৃথীবিতে এসেছিলাম এমন একটি যোনি পথ দিয়েই) তাকে ধর্ষন করা আমার সাংবিধানিক অধিকার।কেননা আমি পুরুষ।আমি প্রচন্ড।আমি কুত্তা তাই মাংস খাওয়া আমার অধিকার,আমি মাছি তাই খোলা মিষ্টি তে বসা আমার অধিকার।মাছি কিংবা কুত্তার কোন দোষ নেই,দোষ হল মাংসের-মিষ্টির।মাংস বা মিষ্টি যদি নিজেদের কে ঢেকে রাখত কয়েক খন্ড বিকট প্রকান্ড বস্ত্র দিয়ে তাহলে তারা রক্ষা পেত।তাই নারীদের কেও ঢেকে রাখতে হবে পা থেকে মাথা পর্যন্ত।শরীরের এক ইঞ্চি জায়গা দেখা গেলেও ধর্ষন বৈধ হবে আমার জন্য,কেননা আমি পুরুষ।ধর্ষন আমার মৌলিক অধিকার।
--------------------------------------------------------------------------------------

এটা কোন স্যাটায়ার না,কোন কাল্পনিক কথোপকথনও না।এটা এমন একটা মানসিক চিন্তা যা বিরাজ করছে দেশের বেশির ভাগ 'পুরুষ' এর মধ্যে।তারা মনে করে ধর্ষনের জন্য দায়ী মেয়েটি নিজে।৫-৬ বছরের শিশু ধর্ষিত হলেও তাদের এই চিন্তার কোন পরিবর্তন হয়না।আমি একবার একটি শিশু ধর্ষনের খবর শেয়ার করে লিখেছিলাম- "এই শিশুটি পর্দা করত না,এই জন্যই কি ধর্ষিত হল?"এই লিঙ্কে এক নরাধম কমেন্ট করল আমি কেন পর্দা প্রথার বিরূদ্ধে কথা বলছি???!!!ধর্ষন নিছক যৌন কামনা সংক্রান্ত কোন ব্যাপার নয়।ছয় বছরের একটি শিশুর পক্ষে যৌন উত্তেজনা জাগানো সম্ভব না।ধর্ষন বিকৃত এমন একটা মানসিক অবস্থা যেখানে যৌনতার থেকে পুরুষ হিসেবে কর্তৃত্ব স্থাপনের,পীড়ন করার একটা ব্যাপার কাজ করে। লক্ষ্য করে দেখবেন অনেকেই স্বজ্ঞানে অথবা অবচেতন ভাবে 'ধর্ষন' শব্দটির নানাবিধ ব্যবহার করে থাকে।যেমন- সেমিফাইনালে জার্মানি ব্রাজিল কে 'ধর্ষন' করে দিল!যেন ধর্ষন খুব সুখকর এবং গৌরবের ব্যাপার।

মেয়েরা পর্দা প্রথায় ঢুকে গেলে ধর্ষন বন্ধ হয়ে যাবে এই কথা যারা বলে তারা মনে মনে প্রতিনিয়ত নিজেদের মা,বোন,খালা,মামি,চাচি দের ধর্ষন করে চলে।আই রিপিট- মনে মনে প্রতিনিয়ত নিজেদের মা,বোন,খালা,মামি,চাচি দের ধর্ষন করে চলে।এদের জন্য গুগলে 'মা' লিখে সার্চ দিলে দুনিয়ার চটি গল্পের সমাহার চলে আসে।দম বন্ধ হয়ে আসে।লজ্জায় শিউরে উঠি,নপুংশ হয়ে যেতে ইচ্ছা হয়।পর্দার সাথে ধর্ষনের কোন সম্পর্ক নেই।সৌদি আরবে কঠোর পর্দা প্রথা,কিন্তু সেখানে বাপ ছেলে মিলে দাসীদের যৌন সম্ভোগ করে চলে।সেখানে যারা কাজ করতে যায় তারা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসে।কিন্তু সে জায়গাটি ভীষন রকমের অন্ধকার বলে সব খবর আমাদের সামনে আসেনা।

" আমার গায়ে কাপড়চোপর ই রাখতে দেয় নাই , আমাকে ঐ অবস্থায় শুইয়া রাখত আর লোক আসতো । আট জন লোক ছিল । যতক্ষন আমার সেন ( সেন্স ছিল ) আট জন লোক ছিল , আমি দেকেছি । কি জানি ঔষধ পানি খাই , কি জানি বিচিত মতন আছে ওইটা খাওয়াইলে আর হুশ জ্ঞান থাকে । তারা যখন উলঙ্গ হয়ে বসে থাকবে আপনি বাঁচবেন না । আপনি নিজেই ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবে । এমন কিছু করবেন ওরা যেন জীবন মরে যায় । আমি আল্লাহ্‌র কাছে কইছি – আল্লাহ্‌ , ওরা যেন মরে যায় । আমার সাথে সতেরো আঠেরো বছরের এক মেয়ে ছিল । সে বলছিল - বোন আমার জন্য বাংলাদেশে গিয়ে একটু বেবস্থা করো , আমি কিভাবে দেশে আসবো ? আমি নিজে দেশে আইলে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করাইয়া রাখচে , ওর ( মেয়েটির) বাড়ির একটা নাম্বার দিছে আমি ঐ নাম্বার হারাইয়া ফেলছি "
কান্নার স্রোতে গলায় আঁটকে আঁটকে যাওয়া উপরের কথাগুলো এক বাংলাদেশী নারীর যিনি দুবাই থেকে কপাল গুনে ফেরত আসতে পেরেছেন । গ্রামের খুবই সহজ সরল এই মেয়েদের ৪৫ হাজার টাকা চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করে দেয়া হয় । সেখানে মাফিয়াদের হাতে হাত বদল হয়ে তাদের জোর করে প্রবেশ করানো হয় পতিতাবৃত্তিতে । Click This Link

একটা মেয়ের সম্পূর্ণ অধিকার আছে স্বাধীন ভাবে চলার।আপনার যদি রাস্তায় মেয়ে দেখলেই দন্ড শক্ত হয়ে যায়,ঝাপিয়ে পড়তে ইচ্ছা হয় তাহলে বাসায় এসে মাস্টারবেট করুন।আপনাকে কেউ বাধা দিবেনা।আপনি চোখ বন্ধ করে রাস্তায় দেখে আসা দৃশ্যের কথা ভেবে ভেবে স্বমেহন করুন-আপনাকে কেউ আটকাবেনা।কিন্তু একটা মেয়েকে এই জন্য টিটকারি দেয়ার কিংবা তাকে ধর্ষন করার কিংবা টিজ করার অধিকার আপনাকে কেউ দেয়নি।আপনি মাংস লোভী কুত্তা হতে চান কিংবা নোংরা মাছি হতে চান- হতে পারেন।মাংসের কথা ভেবে যত ইচ্ছা লালা ফেলুন কিন্তু সেটির উপর ঝাপিয়ে পড়ার অধিকার আপনার নেই।

এরপরে যদি কখনও কেউ বলে ধর্ষন মেয়ের দোষেই হয় কিংবা পর্দা করলেই দুনিয়ার সব ধর্ষক নূরের ফেরেশতা হয়ে যাবে তাহলে সেই ব্যক্তিকে উপযুক্ত অপমান করে লাথি মারতে বাধ্য থাকব।আপনার পুরুষাংগটি সামলাতে না পারলে বরং কেটে ফেলে দিন।কুকুর তার যৌনাংগ নিয়ে গর্ব করতে পারে,মানুষের গর্ব করার মত আরও অনেক কিছু আছে...
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষাকে না বলুন। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করুন।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২

শুধু ভারত বিদ্বেষই না।

মাদ্রাসাগুলোতে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মোল্লারা ইসলামের দোহাই দিয়ে,

/নিজের দেশ তথা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ করা শেখায়।

/মোল্লারা তাদের মাথায় এই ধারণা খুব অল্প বয়সেই ঢুকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×