somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন গাঁড়ল নাস্তিকের আত্মকথন

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি একজন নাস্তিক। আমার নাম গাঁড়রুল বাতিল। ধর্মভীরু পরিবারে জন্ম হওয়ায় নামটির মধ্যে একটু আরবীয় গন্ধ আছে বৈকি। আসলে আমার নাস্তিক হওয়ার কথা ছিল না। এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবারে আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। ছোটকাল থেকেই ধর্মীয় অনুশাসন মেনেই বড় হয়েছি। পড়াশোনার পাঠও চুকিয়ে ফেলেছি বেশ আগেই। কিন্তু হঠাৎ করেই কেন জানি ধর্মদ্রোহী হয়ে উঠলাম।

পরে বুঝতে পারলাম অতি ভালো কাজগুলোও ধর্মের দৃষ্টিতে খারাপ। আমার তথাকথিত ষড় রিপু যা চায় ধর্ম আমাকে তা করতে বাধা দেয়। আমি নিয়মিত পতিতালয়ে যেতে চাই আমার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও। কারণ, বিকৃত যৌনাচার না হলে আমার সুখ নেই। কিন্তু ধর্ম আমাকে তা করতে দেয় না। ধর্মের খড়গ আমাকে ব্যাভিচারের শাস্তি দিতে উদ্যত হয়। শুধু ধর্মের অজুহাতে পাশের ফ্ল্যাটের সুন্দরী ভাবীর পরকীয়ার উষ্ণ আহবান আমকে প্রত্যাখান করতে হয়। শুধু তাই নয়, ধর্মের দোহাই এর জন্য আমার কাছে গচ্ছিত আমার বন্ধুর টাকা আত্মসাৎ করতে পারি না। প্রতি পদে পদে ধর্ম আমাকে তথাকথিত আকাম-কুকাম করতে বাধা দেয়। পৃথিবীতে হেন ভালো কাজ নেই যা করতে ধর্ম বাধা দেয় না।

আমি রাত জেগে ব্লগানোর পর কিংবা আতি সুখকর অনুভূতির পর একটা লম্বা ঘুম দিতে চাই। কিন্তু ধর্ম আমাকে প্রত্যুষেই জাগিয়ে তুলে ধর্মীয় কৃত্যাদি সম্পন্ন করার জন্যে। আমি সারা বছর দড়ি ছাড়া গরুর মতো পরিভ্রমন করতে চাই। এখানে ওখানে ঢু মারতে চাই। কিন্তু ধর্ম আমাকে লাগাম পরানোর জন্যে সংযম নামক এক ধূয়া তোলে। আমি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে লেজুড়বৃত্তি করে তথাকথিত অবৈধভাবে টাকার কুমির হতে চাই। কিন্তু এখানেও ধর্ম আমাকে চোখ রাঙায়। আমি রাজনৈতিক গডফাদারদের পদলেহন করে আমার বাড়ির পাশের ছগীর আলীর একটুকরো জমি আমার করতে চাই। কিন্তু সেখানেও ধর্মের বাগড়া। আমি সাংবাদিকতার নামে খবরের কাগজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এক পক্ষকে নাজেহাল করে, তুষ্ট পক্ষের কাছ থেকে টু পাইস কামিয়ে নিতে চাই। কিন্তু ধর্ম বলে এসব গুনাহ্ কাজ।

আমি জনসেবার নামে অর্থ সংগ্রহ করে ফাইভ স্টার হোটেলে স্কচ হুইস্কির সাথে ব্লন্ডগার্লদের সঙ্গ লাভ করতে চাই। কিন্তু ধর্ম আমাকে পরকালের ভয় দেখায়। অন্য কেউ বলুক আর না বলুক আমি একজন লেখক। লেখা আমার নেশা, পেশা এবং প্রতিশোধ গ্রহণের হাতিয়ারও বটে! লেখক হওয়া সত্ত্বেও চটির মতো জনপ্রিয় সাহিত্য আমি লিখতে পারি না। পারি না অতি রগরগে ভাবে কামজ বর্ণনা লিপিবদ্ধ করতে। পারি না নারীদেহের তীব্র আবেদন ভাষায় প্রকাশ করতে। ধর্ম আমাকে বলে এতে যুব সমাজ কুপথে গমন করবে। ধর্ষণের মতো কার্যকলাপ বেড়ে যাবে। যা ধর্মের দৃষ্টিতে অপরাধ। ছাত্র জীবনে যখন আমি টিউশনি করতাম, তখন ছাত্রীর চোখের ভাষা বুঝতে পেরেও আমি কোনো শারীরবৃত্তীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারিনি। আমি পারিনা প্রগতিশীলতার নামে নারীদেরকে সুঁড়সুঁড়ি দিয়ে রাস্তায় নগ্ন করে বের করে আনতে। এখানেও ধর্ম পর্দা ফরজ, পর্দা ফরজ বলে রব তোলে।

এইসব মহৎ কাজ না করতে পারার যন্ত্রনা আমাকে তীব্রভাবে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। আমি ষড় রিপু দমন করতে পারিনা। আমি রিপু দমন করতে চাই না। আমি ভোগ করতে চাই। আমি সুখ পেতে চাই। কিন্তু ধর্মীয় বিধিনিষেধ আমাকে সুখ পেতে দেয় না। এতসব কর্ম করতে না পারার জন্য আমি প্রতিনিয়ত অন্তর্দহনে দগ্ধ হই। কিন্তু আমি আর নিজেকে দগ্ধ করতে চাই না। আমি সব পেতে চাই। কিন্তু ধর্মের যূপকাষ্ঠে আমার চাওয়াগুলো প্রতিনিয়ত বলি হয়ে যায়। তাই আমি ধর্ম মানি না। মানি না এই নিকৃষ্টতম আবিষ্কার। তাই আমি নাস্তিক। নাস্তিক না হলে কোনো মহৎ কাজ করা যায় না! পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক সেলিব্রেটিরা নাস্তিক ছিলেন। আমিও তাদের মতো সেলিব্রেটি হতে চাই। আমি বিকৃত যৌনাচারে সুখ পেতে চাই। আমি পাশের ফ্ল্যাটের সুন্দরী ভাবীর বাহুডোড়ে আবদ্ধ হতে চাই। আমি আমার বন্ধুর সাথে প্রতারণা করতে চই। আমি রাজনৈতিক দলগুলোর চাটুকারিতা করে টাকার পাহাড় গড়তে চাই। আমি হলুদ সাংবাদিকতা করে পুলিশের কাছ থেকে ঘুষের অংশ পেতে চাই। আমি ভোগের জন্য নারীদেরকে ফুঁসলিয়ে রাস্তায় বের করে আনতে চাই। আমি জনসেবার নামে টাকা সংগ্রহ করে স্কচ হুইস্কি নিয়ে ব্লন্ডগার্লদের সঙ্গ লাভ করতে চাই।

এতসব মহৎ কর্ম না করতে পারার জন্য আমার মধ্যে একরকম মানসিক বৈকল্য দেখা দিচ্ছে। কিন্তু আমি পরিপূর্ণ সুস্থ থাকতে চাই। আমি যাবতীয় আকাম-কুকাম করতে চাই। তাই আমি নাস্তিক। একজন গাঁড়ল নাস্তিক।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৭:১১
৪১টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×