somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষক মূল্যায়ন : ছাত্র যখন বিচারক

২৬ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুগে যুগে শিক্ষকরাই মূল্যায়ন করে আসছেন ছাত্রদের। এমন যদি হয়, ছাত্ররাও মূল্যায়ন করবে শিক্ষকদের! শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অনেকে চান দেশে এ পদ্ধতি চালু হোক। লিখেছেন রাহাতুল রাফি

দিনভর ছিল বিদায় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানেই বিদায়ী শিক্ষার্থীরা গোপন ভোটের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে শিক্ষকদের। এমনকি গোপন ভোটের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ কর্মচারীও নির্বাচন করে শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটী ইউনিয়নের অখ্যাত বিদ্যাপীঠ কালটিয়া আরএস আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের। গেল বছর মার্চে ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা।
গোপন ভোটের মাধ্যমে শিক্ষক মূল্যায়নের ঘটনাটি অনেকের নজর এড়ালেও এটি হতে পারে শিক্ষাবান্ধব একটি উদ্যোগ। আমাদের দেশে এ পদ্ধতির চল নেই। তবে সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প পরিসরে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। স্কুল-কলেজগুলোতে এটি চালু করা হলে সুফল পাবে শিক্ষার্থীরা_
এমনটিই মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা।

শিক্ষক মূল্যায়ন কী ও কেন

শেষ ক্লাসে শ্রেণীশিক্ষক একটি করে মূল্যায়নপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেবেন। এতে দেওয়া থাকবে বিভিন্ন সূচক। প্রতিটি সূচকে আলাদা আলাদা নম্বর বণ্টন করা থাকবে। এতে শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষক সম্পর্কে নির্ভয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবে। এভাবেই শিক্ষককে মূল্যায়ন করবে শিক্ষার্থীরা।
কোনো শিক্ষক যদি শ্রেণীকক্ষে দায়িত্বহীনতা, অপরিপক্বতা ও অদূরদর্শিতার পরিচয় দেন তা উঠে আসবে মূল্যায়নপত্রে। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ, পাঠদানের কলাকৌশল, ক্লাসরুমে আলোচ্য বিষয়ে জ্ঞানের গভীরতা, বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়ানোর কৌশলসহ নানা বিষয় মূল্যায়ন করা হবে এতে।

শিক্ষক মূল্যায়ন দেশে দেশে

উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের খ্যাতনামা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু আছে। বিভিন্ন রীতির মধ্যে বহুল প্রচলিত পদ্ধতি হলো 'শ্রেণী মূল্যায়ন পদ্ধতি'। বছরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের হাতে মূল্যায়নপত্র তুলে দেন শিক্ষক। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের পাঠদান, আচার-আচরণ, চলাফেরা প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা মত প্রকাশ করেন মূল্যায়নপত্রে।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স ও শ্রীশিক্ষায়তন কলেজে চালু আছে এ পদ্ধতি। এই দুই কলেজে শিক্ষকদের মূল্যায়নের পাশাপাশি কলেজ সম্পর্কেও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে শিক্ষার্থীরা।
এই দুই কলেজের আদলে রাজ্যের সব কলেজে শিক্ষক মূল্যায়ন চালু করতে চাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা সংসদ। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য শিক্ষকদের বিষয়ে তাদের মতামত জানাবে ছাত্রছাত্রীরা।

যা বলেন শিক্ষকরা

একজন শ্রেণীশিক্ষকের যথাযথ মূল্যায়ন কেবল শিক্ষার্থীরাই করতে পারে বলে মন্তব্য করেন হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, 'স্কুলের শিক্ষার্থীরা অনুকরণপ্রিয়। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক প্রবেশ করার পর থেকে শিক্ষার্থীরা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রতিটি বিষয় লক্ষ করে। শিক্ষকের চালচলন, কথাবার্তা, আচার-ব্যবহারসহ কোনো কিছুই শিক্ষার্থীদের চোখ ফাঁকি দিতে পারে না। তাই শিক্ষকদের মূল্যায়ন শিক্ষার্থীদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।'
শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর পক্ষে মত দিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ। যদিও তিনি মনে করেন, আমাদের দেশে এ পদ্ধতির প্রয়োগ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ ছাড়া যে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন সূচক বোঝার একটা ব্যাপার থাকে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যা বলছেন

রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র ইভান দেবনাথ জানায়, 'আমরা চাই শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হোক। অনেক ভালো একটি উদ্যোগ এটি। যেহেতু মূল্যায়নপত্রে শিক্ষার্থীর নাম, রোল লেখা থাকবে না, এতে শিক্ষার্র্থীরা নির্ভয়ে শিক্ষকদের বিষয়ে মতামত তুলে ধরতে পারবে।'
মাইলস্টোন কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র আলম বাদশা বলেন, 'অনেক স্যারের ক্লাস আমরা সহজেই বুঝতে পারি আবার অনেকের ক্লাস আমাদের কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়। এ পদ্ধতি চালু হলে আমরা এ ধরনের নানা সমস্যার কথা খুব সহজেই জানাতে পারব।'
হলিক্রস স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সানজিদার অভিভাবক বজলুর রশিদ বলেন, 'কোন শিক্ষক ক্লাসে কেমন পড়ান তা কেবল শিক্ষার্থীরাই বলতে পারবে। মূল্যায়ন পদ্ধতিতেই বেরিয়ে আসবে শিক্ষকরা ক্লাসে কতটুকু বোঝাতে পারছেন।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, 'রাজনৈতিক বিবেচনায় স্কুল-কলেজগুলোয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক অযোগ্যরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। ক্লাসে এসে সেই শিক্ষক বই দেখে পড়াচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ক্লাসে কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দিচ্ছেন না। এটা তো হতে পারে না। শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হলে এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরতে পারবে শিক্ষার্থীরা।'

বিশেষ মন্তব্য
'মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে হতে হবে
'সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ
শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি একটি ভালো উদ্যোগ। অনেক দেশে এটা চালু আছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মূল্যায়ন করলে যথাযথ ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে হতে হবে। আবার এটা হুট করে শুরুও করা যাবে না। কারণ ইউরোপ-আমেরিকার যে অবস্থা তা এখানে চিন্তা করলে হবে না। অবশ্যই বাস্তবতা বুঝতে হবে। আমাদের দেশে শিক্ষকরাজনীতি রয়েছে। দেখা যাবে এ নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। তাই সব কিছু ভেবে মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করতে হবে। তা না হলে ফল পাওয়া যাবে না।
আর এ পদ্ধতি চালু করার আগে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। তাঁদের বেতন-ভাতাও বাড়াতে হবে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কমাতে হবে। তবেই শিক্ষার্থী মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হলে সফল হবে।

(সূত্র : দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৩.১১.১১ Click This Link)

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:১৯
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×