somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুনে কামাল কিয়া ভাই

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ করেই আজকে আমার একটি গীতি নাট্যের কথা মনে পড়ে গেল।সত্যি করে বলতে শুধু একটি লাইন-ই মাথায় ঘুরছিল। সেই প্রসঙ্গে একটু পরে আসছি।

আমার আজকের এই লিখায় আমি ৪ জন ব্যাক্তিত্ব কে নিয়ে কথা বলব।

প্রথমজন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- জাতীয় সংসদের ২ বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে তার আজকের এই রাজনৈতিক অবস্থান।অবশ্য এর জন্য তাকে মূল্য ও দিতে হয়েছে অনেক। ৭৫ এ হারিয়েছেন বাবা-মা-ভাইদের।বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করবার পর, আওয়ামী লীগ কে নিশ্চিহ্ন করে দেবার উদ্যোগ ও নেয়া হয়েছিল।সভানেত্রী হিসেবে দেশে ফিরে তিনি তিলতিল করে গড়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগকে।

তার জীবনের উপর আঘাত অনেকবারই এসেছিল। ভয়াবহ ছিল সেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা।শুধুমাত্র জনগনের ভালবাসা আর দোয়াই আমাদের নেত্রীকে আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখে।

নেত্রীকে সইতে হয়েছিল ওয়ান ইলেভেন এর ধাক্কা। জেল জুলুম নির্যাতন সয়েছেন। মাইনাস টু ফর্মুলার সামনে দাঁড়িয়ে ভীত হননি।অবিচল থেকেছেন। ভেঙ্গে পড়া দলের মনোবল এক করে দলকে নির্বাচনে জিতিয়ে নিয়েও এসেছেন।তিনি-ই আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দ্বিতীয়জন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আমি শুরুতে যেই গীতি নাট্যের কথা বলেছিলাম সেটি তারই লিখা।'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।আর যাকে নিয়ে তিনি এ লিখা লিখেছেন তিনি হলেন আমার তৃতীয় ব্যাক্তিত্ব মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক বা কামাল পাশা। আধুনিক তুরস্কের স্থপতি।ঢাকার বনানীতে তার নামে একটা রাস্তাও আছে- "কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ"।

এই মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক বা কামাল পাশা'র বীরত্ব নিয়ে কাজী নজরুল লিখেছিলেন-

"ওই ক্ষেপেছে পাগলী মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই
অসুর-পুরে সুর উঠেছে জোরসে সামাল সামাল তাই
কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই
হো হো কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই

সাব্বাস ভাই। সাব্বাস দেই, সাব্বাস তোর শমসেরে
পাথিয়ে দিলি দুষমন সব যম-ঘর একদম-সে রে
বল দেখি ভাই, বল হাঁ রে
দুনিয়ায় কে ডর করে না তুর্কীর তেজ তলোয়ারে??”

আমার চতুর্থ ও শেষ ব্যাক্তিত্ব হচ্ছেন কামাল আহমেদ মজুমদার! বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় এমপি।আওয়ামী টিকেটে ঢাকা উত্তর সিটি কোর্পোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী।

তবে ইদানিং তিনি ভিন্ন কারনেই সংবাদের শিরোনাম।আর টিভি'র একজন নারী সাংবাদিক কে শারীরিক ভাবে আঘাত করেই তিনি সংবাদ হয়েছেন।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গর্বভরে নারীর যেই ক্ষমতায়নের কথা বলেন, আমাদের এই নারী সাংবাদিক হয়ত তাতে বিশ্বাসী ছিলেন ।কিন্তু তারপর ও তিনি মার খেলেন। কি করেছিলেন ওই সাংবাদিক?

মনিপুর স্কুল এণ্ড কলেজের ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত, উন্নয়ন ফি বাবদ আরো ২০ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছিল এবং তা বিনা রসিদেই।এই বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি করেছিল তীব্র ক্ষোভ। এটি নিয়েই রিপোর্ট করতে আর টিভি'র সাংবাদিক অর্পনা সিংহ গিয়েছিলেন মনিপুর স্কুলে। কথা বলেছিলেন অভিভাবকদের সঙ্গে। পরবর্তীতে কথা বলতে চেয়েছিলেন স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদারের সাথে।তিনি তো কথা বলেনই নাই বরং গালাগালি করেছেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিক অর্পনার হাত মুচড়ে ধরেন, মাইক ফেলে দেন এবং তার সাথের লোকজন আর টিভি'র ক্যামেরা ও ভাংচুর করে। এ দৃশ্য শুধু উপস্থিত অভিভাবক-অভিভাবিকারাই দেখেননি বরং মিডিয়ার কল্যানে সবাই ই জেনে গেছে। শুধু তাই না পরবর্তীতে কামাল আহমেদ মজুমদারের সাথে থাকা একজন লোক বলে সাংবাদিক দের গুলি করবার ও হুমকি দিয়েছিলেন!

ভিডিওটি অনেকই হয়তো দেখেছেন। তারপর ও আমি লিঙ্ক দিচ্ছি http://www.youtube.com/watch?v=-GcMnNr4s4E

আমার তো মনে হয় এই ঘটনার পর কামাল আহমেদ মজুমদারের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়ে গেছে। এই তিনি-ই উত্তর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী টিকেট চেয়েছিলেন!! মিডিয়ার কল্যানে মানুষ তো সব দেখে নিল।

জননেত্রী শেখ হাসিনা জেল-জুলুম-নির্যাতন পেরিয়ে দলকে সংগঠিত করে ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ সাগরে নৌকা ভাসাচ্ছেন। আর কিছু নৌকার সওয়ারি প্রতিনিয়ত সেই নৌকায় ফুঁটো করছেন।

নারী সাংবাদিক নির্যাতনের এই ঘটনার পর তো বলতেই হয়-

কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই
হো হো কামাল তুনে কামাল কিয়া ভাই!!...
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×