একগুঁয়ে আওয়ামী লীগ অনড় বিএনপি।
বিএনপি চায় ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন’। আর আওয়ামী লীগ চায় ‘অন্তরবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন’।
আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড চায় ভারতসহ গণতান্ত্রিক দুনিয়ায় নির্বাচনের সময় যেভাবে সরকারের কার্যক্রম থাকে না, তেমনি এখানেও তাই হবে। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন কর্তৃত্ব নিয়ে নিরপেক্ষতার সঙ্গে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করবে। নির্বাচনের সময় দলীয় সরকারকে আওয়ামী লীগ 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' বলে চিহ্নিত করছে।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এটাকে অন্তর্বর্তী নয়, শেখ হাসিনার বা দলীয় সরকার হিসেবেই দেখছে।
বিরোধী দলের বক্তব্য হচ্ছে খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শক্তি যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে তখন কমনওয়েলথ মহাসচিবের প্রতিনিধি স্যার নিনিয়ানের রাজনৈতিক সমঝোতাকালে এ ধরনের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বলেছিলেন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকলে তা মানবেন না এবং তিনি মানেননি। তাই আজ বিএনপি বলছে নির্বাচনের সময় সরকারটি হবে নির্দলীয়, তখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরাও ক্ষমতায় থাকবেন না। নামে যাই হোক, সেটি হতে হবে নির্দলীয় সরকার।
নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় সংবিধান সংশোধনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার নীতিগতভাবে একমত না হওয়া পর্যন্ত সংসদে গিয়ে তাদের প্রস্তাব উত্থাপন অর্থহীন বিধায় সরকার সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত বিএনপি সংসদে যাবে না।
আর আওয়ামী লীগ ও সরকারের হাইকমান্ড মনে করে, বিএনপি যাই বলুক সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী-উত্তর বিদ্যমান আইন ও বিধান মেনে নিয়েই নির্বাচনে আসবে এবং অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
যদিও মজা করতেই বলা, অধম আমার মত হল, দেশের স্বার্থে দুই বড় দলকেই ছাড় দিতে হবে।
নির্বাচন হবে এবং সেটা ‘অন্তরবর্তীকালীন সরকার’ এর অধীনেই হবে। প্রধান বিরোধী দলকে এতটুকু ছাড় দিতেই হবে। তবে...
ক্ষমতাসীন সরকারি দলকেও ছাড় দিতে হবে। সেটা কিভাবে? সেটা এভাবে- ‘অন্তরবর্তীকালীন সরকার’- এ যারা থাকবেন তারা জাতীয় নির্বাচনে এবং পরবর্তি উপনির্বাচনেও প্রার্থী হতে পারবেন না। এবার সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা হোক- নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য/সদস্যা, বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ কারা কারা অন্তরবর্তীকালীন সরকারে থাকতে আগ্রহী।
ডিসক্লেইমারঃ সকল মতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, কারো ভাবাবেগ বা আদর্শ কে আঘাত করবার অভিপ্রায় আমি পোষন করি না।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৪:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



