

“৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি”
অদ্ভুদ ঐশ্বরিক জ্ঞান সম্পূর্ণ একজন সাধকের কথা বলছি, মাত্র ৮ দিনের স্কুল এবং পরে নৈশ স্কুলে আজ্ঞরিক জ্ঞান ব্যাতীত যার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না কিন্তু লিখেছেন, সুর করেছেন এবং গেয়েছেন এমন সব অন্তর্নিহিত তাৎপর্যময় অবিশ্বাস্য গান, যে গানগুলি ছাড়া বাংলা গানের আসর কল্পনাই করা যায়না। হ্যাঁ আগে কি সুন্দর দিন কাটাতাম, গাড়ী চলেনা, আমি কুলহারা কলঙ্কিনী, মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে, গান গায় আমার মনরে বুঝায়, কেমনে ভুলিবো আমি বাচিনা তারে ছাড়া সহ এই রকম হাজারো গানের স্রষ্ঠা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কথা বলছি। সেই সময়ে অজপাড়া গায়ে সেইভাবে জন্ম তারিখ লিখা না থাকলেও তাঁর মায়ের মুখে শুনা কথা অনুযায়ী ১৯১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার উজান ধল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন তিনি। বাবা ইব্রাহীম আলী ছিলেন দরিদ্র কৃষক আর মা নাইওর জান সাধারন গৃহিণী। টান পোড়নের সংসারে লেখাপড়া করার সুযোগ না পেয়ে খুব অল্প বয়সেই রাখালের কাজ শুরু করেন তিনি। নৈশ স্কুলে যাওয়ার সুবাদে অক্ষর জ্ঞানটা রপ্ত হয় তার। ওস্তাদ করম উদ্দিন ও সাধক রহিম উদ্দিনের সংস্পর্শে খুব অল্প দিনেই গানের প্রতি অনুরক্ত হয়ে উঠেন তিনি। তার সহধর্মিণী মাফতাবুন্নেছা ১৯৯০ সালে মারা যান। প্রিয়তম স্ত্রীকে তিনি সরলা নামে ডাকতেন। তার এক মাত্র ছেলে শাহ নুর জামাল ও একজন বাউল। প্রায় ১৫০০ গানের রচিয়তা ২০০১ সালে রাষ্ট্রীয় সন্মান ২১ শে পদক প্রাপ্ত শাহ আব্দুল করিমের ৬ টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। শিল্পী তার জীবদ্দশায় প্রতিটি জাতীয় আন্দোলনে সাধারণের মাঝে সচেতনতা ও উৎসাহ সৃষ্টির জন্য গান করেছেন এবং গেয়েছেন। কাগমারী সন্মেলন, ১৯৫৪ এর নির্বাচন, ৬৯ এর গন অভ্যুথান, ১৯৭০ এর নির্বাচন, ১৯৯০ এর সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলন প্রতিটি ক্ষেত্রেই গান করেছেন সমাজ ও রাজনীতি সচেতন মানুষ হিসেবে উদ্বুদ্ধ করেছেন মানুষকে যুদ্ধ করতে, শক্তি যুগিয়েছেন ক্লান্ত বিচলিত যোদ্ধাদের। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
যথার্থই বলেছিলেন সাধক-
“বাউল আব্দুল করিম বলে বুঝা বড় দায়,
কোথা হতে আসে নাও কোথায় চলে যায়,
ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে মুয়ুর পঙ্খী নাও
কোন মিস্ত্রী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়।”
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



