somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সারাদিন কর্মক্ষম থাকার কিছু গোপন কথা

০৬ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কে না চায় সারাদিন চাঙ্গা থাকতে? কে না চায় কাজের সময় সকল প্রাণশক্তির প্রয়োগে সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে? সবাই কি পারি এমন?
পারি না বলেই আমরা খুঁজে ফিরি সেই আলাদিনের যাদুর চেরাগ যার বদৌলতে আমরা থাকতে পারবো সারাটা দিন সতেজ, কর্মক্ষম।
বাস্তবের দুনিয়ায় আলাদিনের চেরাগ নেই, তাই আজ আমরা জেনে নেবো কর্মক্ষম থাকার কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান যেগুলো আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

১। ঘুমাতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে:
ঘুমকে অবহেলা করা যাবে না। অবহেলা করেছেন কি মরেছেন। ঘুমের সময়ে শরীর তার ক্ষয় পুরণ করে, তার যন্ত্রাংশগুলোকে মেরামত করে, নতুন করে গড়ে তোলে শরীরকে। তাই ঘুম দরকার প্রয়োজনমত। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারনত ৭-৮ ঘন্টার ঘুমই যথেষ্ট তরতাজা হয়ে জেগে ওঠার জন্য।
ঘুমাতে যাবার জন্য ভালো সময় রাত ১০ টার মাঝে। এ সময় ঘুমালে লাভ হচ্ছে আমাদের দেহের গ্রোথ বা বৃদ্ধির জন্য নিয়োজিত হরমোন রাত ১১ থেকে রাত ১ টার মাঝে নিঃসৃত হয় যা ঘুমের সময় দেহের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।

২। প্রাতরাশে নেই কোন ফাঁকিঃ
প্রাতরাশ হবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার কেননা এটা সমগ্র দিন চলার গ্যাসোলিনের যোগান দেবে। ক্ষুধা না লাগলেও খেতে হবে ব্রেকফাস্ট।
ব্রেকফাস্ট শব্দকে ভাঙ্গলে আমরা পাই ব্রেক এবং ফাস্ট অর্থাৎ অনাহার থেকে মুক্ত হবার খাবার। আপনি অনাহারী থেকে কাজ শুরু করলে কাজে বার বার ব্রেক নিতে হবে। ব্রিটিশ এক গবেষণা থেকে দেখা যায় পর্যাপ্ত প্রাতরাশ আপনার স্ট্রেস হরমোন বা করটিসলের নিঃসরণকে বাধাগ্রস্ত করে যার ফলাফল স্ট্রেস বা ক্লান্তি কম আসা। তাই শুরু হোক প্রাতরাশের জয়গান আজ থেকে।

৩। আহারে যোগ করুন আঁশযুক্ত খাবারঃ
বলা হচ্ছে সারাদিনের আহারে থাকতে হবে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম আঁশ যদিও গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১৫ গ্রাম আঁশ আমরা গ্রহণ করছি দিনে। আশের প্রতি এতো গুরুত্ব দেয়া হওয়ার পেছনে কারণ ও রয়েছে। খাবারে আঁশ থাকলে সেটি শর্করা শোষণে দেরী করায়, যার ফলাফল হচ্ছে একবারে দ্রুতগতিতে রক্তে শর্করা প্রবেশ না করে ধীরে ধীরে মধ্যম গতিতে অনেক সময় নিয়ে প্রবেশ করা। অর্থাৎ অনেক সময় ধরে শক্তির যোগান বজায় থাকা যা একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও খুবই দরকারী এক ব্যবস্থা। আঁশের জন্য দেশি খাবারের মাঝে বরবটি, সজিনা, ঢেঁড়স ইত্যাদি বেশ ভালো কাজ করে। খেতে পারেন আপেল, জামরুল, পেয়ারা ইতাদি ফল। জামরুল অনেকেরই প্রিয় ফল যা একাধারে পানি ও আঁশ বহন করে যথেষ্ট পরিমাণে। প্রচণ্ড গরমে দেশি ফল হিসেবে জামরুলের মজাই আলাদা।

৪। কম খাবেন, বার বার খাবেনঃ
একবারে বেশি করে না খেয়ে কম করে বার বার খেতে বলা হচ্ছে বর্তমান সময়ে। একবারে অধিক খাবার খেলে সেটা হজম করতে দেহের অনেক শক্তি একবারে প্রয়োজন পড়ে যার ফলে ভুরিভোজের পরে আমরা ক্লান্তি অনুভব করি। প্রধান তিন আহারের পরিমাণ মাঝারি রেখে তার মাঝে মাঝে সময়ে ২ বার হাল্কা কিছু খেয়ে নিন। যাকে বলে স্ন্যাক্স, সেই স্ন্যাক্স গ্রহণ করুণ।
৪। পান করুন প্রচুর পানিঃ
পানি খান বা পান করুন বেশি করে। পানি রক্তকে রাখে তরল, দেহের যন্ত্রাংশগুলোকে রাখে সতেজ। পানির অভাবে রক্ত হয়ে পড়ে ঘন, ঘন রক্তকে সারা দেহে সঞ্চালন করতে আমাদের আবেগের হৃদয়কে খাটুনী দিতে হয় বেশি, সে হয়ে পড়ে দুর্বল, আর আমরাও হয়ে পড়ি ক্লান্ত। প্রতি ২ থেকে ৪ ঘন্টায় একবার মূত্র ত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন, সেভাবে পানি পান করুন আর মূত্র যেনো হয় পরিস্কার অথবা হালকা হলদে।
৫। মস্তিস্কের প্রয়োজন ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডঃ
মস্তিস্কের চনমনে ভাব আনার জন্য ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডের ভূমিকা খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা। আমাদের দেশের সামুদ্রিক মাছ যেমন ইলিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এই মেদঅম্ল। এই অম্ল দেহের শর্করাকে নিরেট মেদের বদলে গ্লাইকোজেনে রুপান্তরিত হতে সাহায্য করে আর গ্লাইকোজেন হলো আমাদের দেহের সঞ্চিত শক্তির প্রধান উৎস যা সাধারণ মেদের মতো অপকারী নয়।

৬। চা বা কফিঃ
ক্লান্তি এড়াতে জুড়ি নেই চা বা কফির। ১ বা ২ কাপ কফি হলেই চলে যায় অনেকের সারাটা দিন। আগামীকাল ভাইভা পরীক্ষা, অনেক পড়া বাকি, সারারাত জাগতে হবে, এমন অবস্থায় গরম এক মগ কফির জুড়ি নেই। তবে ঘুমানোর আগে এসব পানীয় পান করলে কিন্তু ঘুমটাই নস্ট
হবে, তাই পান করুন হিসেব রেখে।
৭। শ্বাস নিন গভীর ভাবেঃ
আমাদের একটা সাধারণ অভ্যাস হলো হাল্কা করে বুক দিয়ে শ্বাস নেওয়া। পেট ফুলিয়ে শ্বাস নেয়ার মানে ফুসফুসে অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রবেশ করা যা দেহের জ্বালানী পোড়াতে অধিক সাহায্য করে। ফলশ্রুতিতে মস্তিস্ক হয়ে ওঠে চাঙ্গা, শরীর পায় অতিরিক্ত শক্তি।

৮। গোসলের জুড়ি নেইঃ
সতেজ থাকতে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল বা শাওয়ার বেশ উপকারী। মনকে করবে উৎফুল্ল, দূর করবে দেহের ময়লা আর চোখের ঘুম। খুব ক্লান্তি এলে মুখে দিতে পারেন ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা।


৯। অনুভূতিকে প্রকাশ করুন, বেধে রাখবেন নাঃ
সব কিছু বেদনা, দুঃখ, কস্ট মনের মাঝে চেপে রেখে আমরা নিজেরদের ম্যাচিউরিটি প্রকাশ করতে চাই যা প্রকারন্তরে বয়ে আনে ক্লান্তির অনুভূতি।
কারো সাথে নিজের অনুভুতির বা সমস্যার আলোচনা আপনার মনের জানালায় প্রবাহিত করে তাজা হাওয়া আর আপনিও হয়ে ওঠেন তরতাজা মানসিক দিক দিয়ে।
১০। হাঁটুন বা ব্যায়াম করুনঃ
খুব ক্লান্ত লাগলে কিছুটা হেটে নিতে পারেন অথবা শরীর চর্চা।
গবেষকেরা দেখেছেন ক্লান্তি দূর করতে শরীর চর্চার ভালো ভূমিকা রয়েছে। শরীর চর্চা করলে শরীরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়, হৃদয়ের গতি বাড়ে, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে প্রবেশ করে অতিরিক্ত অক্সিজেন, দ্রুত রক্ত সঞ্চালনের কারনে দেহ পায় অধিক জ্বালানী। এভাবে দেহ হয় 'বুস্টেড আপ'।
১১। শুনতে পারেন গান, প্রশান্তিদায়ক সঙ্গীতঃ
সঙ্গীতের সুমধুর সুর মনকে এনে দেয় প্রশান্তি, আনন্দময় এক মুহূর্ত। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে সঙ্গীত বেশ ভালো কাজ করে।

মানুষের ক্লান্তি আসবেই, দুর্বলতা থাকবেই। আমরা মেশিন নই তবু যতটা পারা যায় শক্তির সঠিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা দেহের অপটিমাম ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারি। পরিশেষে কবি গুরুর একটি কবিতা দিয়ে আজকের আলোচনার ইতি টানবো-
ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু,
পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু॥
এই-যে হিয়া থরোথরো কাঁপে আজি এমনতরো
এই বেদনা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু॥
এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু,
পিছন-পানে তাকাই যদি কভু।
দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায় শুকায় মালা পূজার থালায়,
সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু॥

লেখাটি স্বাস্থ্যবাংলাতেও প্রকাশিত হয়েছে
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৪ সকাল ১১:০১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×