somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞাপন 3 >> যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা লোক

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও ব্রাত্য রাইসু বিরচিত
যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা লোক

(আগের কিস্তির পর)

[গাঢ়] তিন. [/গাঢ়]
[ইটালিক] আবদুর রাজ্জাকের সাপাহার যাত্রা [/ইটালিক]
1.
আবদুর রাজ্জাকের মন খালি ভ্রমণ করতে চায়। ভ্রমণের তরে একটা ব্যাগ সে কিনেছে, বঙ্গবাজার থেকে। বাংলাদেশে এসব ব্যাগকে বলা হয় 'এয়ার ব্যাগ'। কেন বলা হয়, আরো অনেক কিছুর মতো এটিও আবদুর রাজ্জাক জানে না। তবে রবীন্দ্র-গবেষকদের ধারাবাহিক ও মূল্যবান অনুসন্ধান থেকে আবদুর রাজ্জাক জানতে পেরেছে হরেকরকম আকাশভ্রমণের সময় রবীন্দ্রনাথ সাহেব এ-ধরনের একটি ব্যাগ সঙ্গে রাখতেন। যার ভেতরে থাকতো তাঁর ওষুধপত্র এবং পড়ার জন্য দুএকটি বই, কবিতা লেখার একটি বাঁধানো খাতা, পানির বোতল এবং কিছু হাত-রুমাল। হয়তো সে থেকেই এয়ার ব্যাগের প্রচলন। রবীন্দ্রনাথ, সম্ভবত, বাঙালির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছিলেন। জলে স্থলে এবং অন্তরীক্ষে। আবদুর রাজ্জাক রবীন্দ্রনাথ নয় (হলেও আমরা জানি না), কিন্তু তার এয়ার ব্যাগেও ওইসব থাকে। কবিতার খাতাটি ছাড়া তার কাছে পরনের কিছু কাপড়-চোপড় এবং একজোড়া বাটার সলিমশাহীও আছে। পথিমধ্যে এবং গন্তব্যে পেঁৗছে পাঠ করার জন্য সে এবার যেসব বই নিয়েছে : হুমায়ূন আহমেদের দুটি সামপ্রতিক উপন্যাস, যেগুলো কিছুটা সংকোচের সাথে সে ব্যাগের গভীর তলদেশে ঢুকিয়ে দিয়েছে। একটি খাবনামাও, তবে সেটি নিয়েছে সে অজান্তেই। বাংলাবাজারের একটি দোকানে সে ফরহাদ মজহারের ইবাদতনামা চেয়েছিলো, দোকানী প্যাকেট করে একটি খাবনামা তার হাতে তুলে দিয়েছে, সেটি প্যাকেটায়িত অবস্থাতেই ব্যাগে ঢুকিয়েছে সে (তার কোনো ধারণা নেই ইবাদতনামার কলেবর নিয়ে, থাকলে সে আশ্চর্য হতো এবং যাচাই করে দেখতো)। আর ঢুকিয়েছে তৃতীয় একটি বই : আগে-কথিত- Preface to the Critique of Political Economyকাল মার্ক্সলিখিত। আর একটি বই নিতে সে বেমালুম ভুলে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি বই।

ও, দাঁতের ব্রাশ, সাবান এবং দাড়ি কামানোর সামগ্রী সে ভুলে যায় নি। সেগুলোও নিয়েছে।
আবদুর রাজ্জাকের সাপাহার যাত্রা কেন জটিল বলা হয়েছিলো, সে কথায় এখন আসছি। না, তার বাস পেতে বা ঠিক বাসে উঠতে কোনো অসুবিধে হয় নি। আসনটিও পেয়েছে জানালার পাশে। বস্তুত গাবতলী থেকে তার যাত্রার শুরুটি হয়েছে সুমধুর-কোনো পরিবহন শ্রমিকের সঙ্গে তার রেষারেষি কিংবা খুনসুটি হয় নি, কোনো পকেটমার তার পকেটে হাত ঢোকায় নি। তবুও তার সাপাহার যাত্রাটি হয়েছে জটিল এবং তার কারণ দার্শনিক। সেই দর্শনের সূত্রপাত ভাষা শহীদ বরকত ফেরিতে, যখন গাদাগাদি যানবাহন ও যাত্রীসাধারণ, ওষুধবিক্রেতা এবং ঝালমুড়িওয়ালা, ভাসমান পতিতা (ভাসমান!) এবং কিশোর অপরাধীদের ভিড় উজিয়ে সে রেলিং-এর পাশে এসে দণ্ডায়মান হলো এবং নিম্নে, সম্মুখে, পশ্চাতে পদ্মার অসাধারণ বিস্তার দেখে মোহিত হয়ে গেলো। তার মনে হলো, বাংলাদেশের চিরায়ত, শাশ্বত এবং অপরিবর্তনশীল জীবনপ্রবাহের একটি উৎপ্রেক্ষা যেন এই রুপালী স্রোত এবং তা পুনঃপুনঃ তার চেতনায় আঘাত করতে থাকলো, তাকে জাগিয়ে দেয়ার জন্যে। পদ্মাকে তার মনে হলো মহাজীবন; পরক্ষণে মনে হলো মা; এবং আবেগে চোখ বোজার আগে নিয়তি।

আমাদের আবদুর রাজ্জাক পদ্মাকে রবীন্দ্রনাথের মতোই ভালোবাসে, রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র এ-কারণে তার কাছে বাইবেলসম। তার অনেকবারই মনে হয়েছে, পত্রগুলি তার উদ্দেশেই যেন লেখা। কোনো এক সময় একটি রচনায় সে পড়েছিলো, বুদ্ধদেব বসু কোথাও ভ্রমণে গেলে--সে চিল্কা হ্রদই হোক ডায়মন্ডবারই হোক, একখণ্ড ছিন্নপত্র সঙ্গে নিয়ে যেতেন। একথা মনে হতে হঠাৎ সে চমকে ওঠে; ছিন্নপত্র সঙ্গে আনতে সে কি ভুলে গেছে? হা ঈশ্বর! সে ব্যাগটা রেলিং-এর ওপর রেখে, জিপার খুলে, দ্রুত হাত চালালো অভ্যন্তরে। তার হাতে উঠে আসলেন হুমায়ূন আহমেদ, লোকমান আলী জিন্দাবাহারী (খাবনামার লেখক), কার্ল মার্ক্স! কিন্তু ছিন্নপত্র কোথাও নেই। তার প্রচণ্ড আক্ষেপ হলো, নিদারুণ ক্রোধ এবং অভিমান হলো নিজের ওপর। কিছুক্ষণ খাবনামার প্যাকেটটি ধরে সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো (বস্তুত, খাবনামার প্যাকেট একবার হাতে নিয়ে ফেললে দাঁড়িয়ে-পড়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। তারপর সেটি ব্যাগে রেখে, ব্যাগ বন্ধ করে অন্যদিকে হাঁটা দিলো। তার গন্তব্য : ওপরের ডেকের রেস্টুরেন্ট, সেখানে জানালার পাশে বসে, চা খেতে খেতে, তার জন্য এইমাত্র মলিন-হয়ে-যাওয়া দিনের বাকি অংশটুকু সে উদ্ধার করবে। রবীন্দ্রনাথের চোখ দিয়ে পদ্মাকে দেখবে। সমাপ্তির সেই মেয়েটিকে পাড়ে কোথাও আবিষ্কার করবে।

এই ছিলো তার ভুল--না, রবীন্দ্রনাথের চোখ দিয়ে পদ্মা দেখবার অভিলাষ নয়, রেলিং-এর ওপর ওর ব্যাগটা খোলা, সেটাই ছিলো ভুল। তার চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা ছিলো, তার হস্তসঞ্চালন দ্রুত ছিলো--সে নিজে এসব সম্পর্কে অবগত ছিলো না, কিন্তু ভিন্ন একজন মানুষ অবগত হচ্ছিলো। তার পাশে দাঁড়িয়ে পদ্মার দিকে দৃষ্টি মেলে, সেই লোকটি আসলে তার তৃতীয় চোখটি মেলে দিয়েছিলো আবদুর রাজ্জাক এবং তার এয়ার ব্যাগের দিকে।

তারপর খাবনামার প্যাকেট হাতে যখন নিশ্চল দাঁড়িয়ে ছিলো আবদুর রাজ্জাক, লোকটি তার সেদিনের সিদ্ধান্ত এবং সংকল্পটি ঠিক করে নিয়েছিলো।

তার সিদ্ধান্ত : এই সহযাত্রীটি নিশ্চয়ই মূল্যবান কিছু বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। যথা টাকা, অথবা স্বর্ণ।

তার সংকল্প : উপরোক্ত টাকা অথবা স্বর্ণ হস্তগত করা। লোকটি জানে না কিন্তু আমরা জানি, আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে খুব একটা টাকা-পয়সা ছিলো না। তবে ঠিক কতো টাকা, সেটা বলা মুশকিল, সম্ভব নয়। সেটি উহ্যই থাকুক, কাহিনীর জন্য তা প্রয়োজনীয় নয়।

কাহিনীর কথায় যখন আসা গেলো, তখন সর্বজ্ঞ বর্ণনাকারী হওয়ার সুবাদে এবং সে সুবিধেটুকুর খানিক অপব্যবহার করে, ওই লোকটির সাথে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেয়ার একটি প্রয়োজনীয়তা আমরা অনুভব করছি।

লোকটির নাম আকলিমুর রহমান। পেশায় সে চোর, তবে সিঁধেল চোর বা ছিচকে চোর নয়, সে যাকে বলে ঠকবাজ চোর। চোরদের নিয়ে আসলে কোনো গল্প থাকা উচিৎ নয়। এটি অনৈতিক এবং তরুণ পাঠক-পাঠিকাদের জন্য খারাপ উদাহরণ। তবে নাগীব মাহফুজ এক চোরকে নিয়ে লিখেছেন একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য উপন্যাস চোর এবং সারমেয় সংবাদ। সেটি মিসরের জনজীবনে কোনো অবক্ষয় নিয়ে আসে নি, এ পর্যন্ত; আমরা নিশ্চিত। সেই ভরসায় আকলিমুর রহমানকে হাজির করা গেলো। আমাদের মার্জনা করবেন। তবে আকলিমুরের আরেকটি পেশা আছে, যেটি তার দৃশ্যমান পেশা--যেটি তার দৃশ্যমান পেশা--সে ফেরিতে তার নিজের লেখা প্রবচন বিক্রি করে। তার কাটতি মন্দ নয়। কিন্তু মাসটা তাতে ভালো কাটে না। চৌর্যবৃত্তির মহড়া প্রায় নিয়মিতই দিতে হয়, এ-কারণে।

কবি আকলিমুর রহমানের হাত উসখুস করে। গরমের এই মাসটিকে আকলিমুর রহমান খুব একটা পছন্দ করে না। সে লক্ষ্য করেছে গরমের দিনে তার প্রবচনরা সহজে আসে না। তখন সে অন্য প্রবচন লেখকদের থেকে ধার করে অথবা তাদেরগুলি আত্মসাৎ করে, নিজের প্রবচনসামগ্রী সাজায়, যেমন এবার সাজিয়েছে এই নিদাঘের মাসে। বাঙালি বিষয়ে দিন তিনেক প্রবচন বলার পর অবশ্য সে দেখতে পেলো তাতে জীবনের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। জাতীয়তাবাদী এক পরিবহন শ্রমিকনেতা তাকে 'বাংলাদেশী'র জায়গায় 'বাঙালি' ব্যবহারের অপরাধে প্রায় পদ্মায় নিক্ষেপ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলো। দুর্বিপাকের পর এই নিদাঘের বাকি মাসটিতে তার প্রবচনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে 'বাংলাদেশী'। যেমন, সে লিখেছে : 'বাংলাদেশীরা যখন সুযোগ পায় তখনই তাদের রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করে অথবা ছুড়ে ফেলে দেয়, অথচ প্রত্যেক বাংলাদেশী রাষ্ট্রপতি হতে চায়'। অথবা 'একজন বাংলাদেশীকে যদি দয়া করে একটি আধুলী দেন, সেটি অচিরেই একটি আধলা হয়ে আপনাকে আঘাত করবে'। (টিকা : আধলী=আধুলি, আধলা=অর্ধেকটা ইট। আকুলিমুর রহমানের প্রায়োগিক ভাষাজ্ঞান জোরালো নয়, সে জন্য তাকেও মার্জনা করবেন)।

কিন্তু আকলিমুর রহমানের দৃশ্যমান পেশার খবর দেয়ার আর প্রয়োজন নেই, এবার আমরা তার অন্য পেশার Modus Operandi প্রত্যক্ষ করার মানসে বরং যাই, তার পিছু পিছু, যেমন সে যাচ্ছে আবদুর রাজ্জাকের। ওপরের ডেকে।

2.
জানালার পাশে একটা টেবিলে আয়েশ করেই বসলো আবদুর রাজ্জাক, তবে তার মনটা তৎক্ষণাৎ খারাপ হলো, জানালার কাঁচের অস্বচ্ছতায়। ছিন্নপত্র না এনে এমনিতেই মনটা মেঘলা হয়েছে, এখন রবীন্দ্রনাথের স্বচ্ছ দৃষ্টি যে তার পক্ষে অর্জনের উপায় নেই, এটি ভেবে সে বিমর্ষ হলো। আয়েশের ভাবটি উবে গেলো। তবুও দেখলো সে, পদ্মার চলমান জীবন। নদীতে প্রচুর পানি, প্রচুর নৌকা, অন্যান্য জলযান। সে ভাবলো রবীন্দ্রনাথ পদ্মাকে এতটা কোলাহলময় কি দেখেছেন কখনো? তাঁর হাউসবোট চলতো প্রায় নিঃশব্দে, বড়জোর বৈঠার শব্দ হতো, বিবিধ জলজ শব্দ হতো। কিন্তু সময় তো বদলায়, দিন তো বসে থাকে না। বসে থাকে না নদীও।

এসব অনুধাবন তাকে হিরাক্লিটাস এবং বার্গস'র মতো এক দার্শনিক অন্তদর্ৃষ্টি এবং স্বস্তি দিলো। সে দেখলো, তার গতকাল, গত সপ্তাহ গত মাস ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছে দিগন্তে ফেলে আসা আরিচা ঘাটের মতো। এবং সে ক্রমশ সময়ের আগ্রাসন থেকে মুক্ত হচ্ছে।

তার ইচ্ছা হলো জোর গলায় এমন কিছু আবৃত্তি করে, যা তার বর্তমান দার্শনিক epiphany'র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কিন্তু কোনো তৈরি-কবিতা বা গদ্য তার মনে আসলো না। অগত্যা ছিন্নপত্র থেকে একটি অংশ, যেটি স্মৃতিস্থ করেছে সে বহুদিন আগে, আবৃত্তির সিদ্ধান্ত নিলো। সময় সম্পর্কে তার এপিফ্যানির মুহূর্তে তার ভিতরে এক অনির্বচনীয় লঘুত্বের সৃষ্টি হয়েছে। কেন, সে জানে না, আমরাও জানি না। কিন্তু আমরা এটুকু বলতে পারি : গাবতলীতে যে-মুহূর্তে বাসে ওঠে আবদুর রাজ্জাক, সে-মুহূর্তেই সে একটি মনোভঙ্গির চর্চা শুরু করেছে যাকে 'অনাগরিক,' অনাধুনিক'--এসব বলে বোঝানো যাবে না। সে অকারণেই প্রীতিবোধ করেছে। বাসটাকে তার ভালো লেগেছে, বাসের চালক তারপর চাকাকেও ভালো লেগেছে। বাস টার্মিনালের কোলাহল ও ক্যাওস'কেও তার ভালো লেগেছে।

এ কি এ জন্য যে, প্রকৃতির কোলে ফিরে যাচ্ছে প্রকৃতিরই খোকা? অথবা এজন্য যে, মণ্ডল কার সেন্টারের লাভক্ষতির হিসাব-নিকাশ, কাস্টমারের সঙ্গে মিথ্যে হাসি মিথ্যে অভিনয় এবং তার থেকেও অল্পশিক্ষত এবং অপরিণত একজন মানুষকে অবিরাম 'বস' বলার গ্লানি থেকে তার সাময়িক মুক্তি? কিন্তু মণ্ডলকে যে সে সত্যিই পছন্দ করে এবং মণ্ডলের পয়সাতেই যে এই ভ্রমণ!

'কেন'-র কোনো পর্যাপ্ত উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। মানুষের মন একটা জটিল কারখানা। এতসব কলকব্জা, এত বিচিত্র তাদের বিন্যাস, প্রতিবিন্যাস, গতি-যতি-ক্রিয়াকর্ম, যে মানুষ নিজেই অসফল, তার পরিচয়টাও জানতে। সর্বজ্ঞ বর্ণনাকারী হই, আর না হই, ওই কারখানার খবর দেয়া আমাদের কাজ নয়, বিশেষ করে আবদুর রাজ্জাকের মনের, যার কলকব্জাগুলির কোনোটা এসেছে রাশিয়া থেকে কোনোটা চীন, কোনোটা আমেরিকা থেকে।

3.
আবদুর রাজ্জাকের আবৃত্তি-ইচ্ছা উবে গেলো বেয়ারা হঠাৎ করে চায়ের কাপ এবং সমুচার প্লেট রেখে যেতে। সে সমুচার আকৃতি দেখে খুশী হলো এবং সেদিকেই তার মনোযোগ গেলো। সমুচায় কামড় দিয়ে তার ভালো লাগলো এ জন্য যে, ভাজার সঙ্গে যে পোড়ার গন্ধটা আসে এতে তা নেই। চমৎকার মচমচে ভাব, জানালার বাইরে নিদাঘ দিনের মতো, পদ্মার ওপর ঝুঁকে-পড়া আকাশটার মতো। অনেকক্ষণ ধরে সমুচাটা খেলো সে এবং নিদাঘের দিন দেখলো, জানালা দিয়ে। সে সারা ফেরিতে আতিপাতি করে নারী-মানুষ খুঁজলো। নেই! যেন ফেরিতে মেয়েদের উঠতে হয় না। সমুচা শেষ হলে সে চোখ ফেরালো ভিতরে; এবং এই প্রথমবার তার চোখ ছিলো আকলিমুর রহমানের ওপর।

আকলিমুর রহমান চমৎকার হাসলো, 'এই ফেরির সমুচা, ভাইসাহেব এক কথায় অপূর্ব।'
আবদুর রাজ্জাক কিছুটা আশ্চর্য হয়ে মাথা নাড়লো। মাথা নাড়াটা তার সততার পরিচয়। কিন্তু সে আশ্চর্য হয়েছে লোকটার গায়ে-পড়া ভাব দেখে।

সে কিছু না বলে চায়ের কাপটা টেনে নিলো। চা ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। বিরক্ত হয়ে বেয়ারাকে ডাকলো সে, চা-টা বদলে দেয়ার জন্য।

'চা বদলান যাইব না।' বললো বেয়ারা, 'নতুন চা'র অর্ডার দিতে পারেন।'

আবদুর রাজ্জাক কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করে বললো, চা তো প্রথমে থেকেই ঠাণ্ডা ছিলো।

আকলিমুর রহমান, সুযোগসন্ধানী, এবার নিজেকে আবদুর রাজ্জাক ও বেয়ারার মাঝখানে স্থাপন করে, বেয়ারা কিছু বলার আগেই, উচ্চস্বরে বলে, দু কাপ ফ্রেশ চা নিয়ে আয়, বেটা। যা।

তার গলায় কতর্ৃত্বের গন্ধ ছিলো; তাছাড়া ফেরিতে আকলিমুর রহমান যে-রকম জীবিকার জন্য পরিশ্রম করে, বেয়ারাটিও তেমনি করে। এই সহকর্মী-মর্মিতার জন্য সে কোনো কথা না বলে আবার চা আনতে গেলো।

আকলিমুর রহমান গলা নামিয়ে দেয়, 'এই ফেরির লোকজনের সঙ্গে তর্ক করাটা ঠিক না, এরা প্রায় নিয়মিত যাত্রী পিটায়, সন্ত্রাসবাদী এরা। এই দেখুন না--' বলে সে মাসের গোড়ার দিকের ঘটনাটি বিশদ বর্ণনা করে। আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা শুনে খুব উত্তেজিত হয়ে ছিলো। সে বাঙালির বাঙালিত্বে বিশ্বাস করে, 'বাংলাদেশী' কথাটি তার নাগরিকত্ব প্রকাশক বলেই তার ধারণা। জাতীয়তা প্রকাশক তা নয়। সে বললো 'ইচ্ছে করলেই একটি জাতির জাতিসত্তাকে এভাবে মুছে ফেলা যায়?' আকলিমুর রহমান প্রবল বেগে মাথা নাড়ে, 'না, না, যায় না, কখনো যায় না।'

'যাবেও না,' যোগ করলো আবদুর রাজ্জাক। সে প্রীত হলো, প্রবচন রচয়িতার সঙ্গে পরিচিত হয়ে। 'আপনি সাহসের সঙ্গে লিখে যান,' সে বললো আকলিমুর রহমানকে। 'মনে রাখবেন 12 কোটি বাঙালি আপনার সঙ্গে আছে।'

আকলিমুর রহমানের কানে যে এই প্রত্যয়ী বাণীটি পেঁৗছেছে, তা বোঝা গেলো না। সে শুধু 'তা তো আছেই, তা তো আছেই' বলে পাশ ফিরে তার ঝোলার মধ্যে হাতড়াতে লাগলো। শেষ পর্যন্ত প্রবচনমালা শীর্ষক ছোট একটি চটি বই উদ্ধার করে, অমায়িক এবং লাজুক হেসে এগিয়ে দিলো আবদুর রাজ্জাকের দিকে। 'এটি রাখুন, ভাই সাহেব, আপনাকে দেয়া আমার সামান্য উপহার।'

আবদুর রাজ্জাকের চোখে প্রায় পানি এসে গেলো। অথচ আশ্চর্য, ফকিরেরপুলে মণ্ডল কার সেন্টারে এ ঘটনাটি ঘটলে তার চোখে প্রায় পানি আসা দূরে থাকুক, বরং বিরক্তই হতো সে। এক ধরনের উন্নাসিকতা প্রদর্শন করে প্রবচন রচয়িতাকে মাঝপথে থামিয়ে দিতো সে এবং হয়তো রাস্তা দেখিয়ে দিতো।

কিন্তু ভাষা শহীদ বরকত ফেরিতে তার বোধ-অনুভূতিগুলি যেন গা ঝাড়া দিয়ে জেগে উঠছে। এখানে ফেরিটি এজেন্ট মাত্র, এমনকি পদ্মাও তাই--হয়তো এই খোলা আকাশ, উদার প্রকৃতিও তাই--তাকে উদ্ধার করছে যে-আবেগে, সেটি আসলে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে গূঢ় একটি রহস্যকেন্দ্র থেকে, যার পরিচয় পেতে রবীন্দ্রনাথ দশটি বছর নদীতে কাটিয়েছেন।

আবারও রবীন্দ্রনাথ! কিন্তু পদ্মায় পা রাখলেই আবদুর রাজ্জাকের চেতনা অধিকার করে নেন ভাসমান রবীন্দ্রনাথ।

কেন জানি না এবং এই প্রশ্নের পেছনের কার্যকারণ খোঁজা নিরর্থক--সে বললো প্রবচনওলাকে, পদ্মায় না এলে রবীন্দ্রনাথের অনেক কবিতা, ছোটগল্প অলিখিত থেকে যেতো।
আকলিমুর রহমান মাথা নাড়লো। সে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিবহাল, এমনটি মনে হলো না তার মাথা নাড়া দেখে।

আবদুর রাজ্জাক বললো, পদ্মা আপনাকে প্রভাবিত করে? আকলিমুর রহমান আবারও বিপন্ন মাথা নাড়লো, 'এই ফেরিটা আছে বলেই কোনোরকম বেঁচে আছি, কায়ক্লেশে, ভাইসাহেব।'

এ ছিলো আবদুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় ভুল। এই পদ্মা ও রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে অতটা উতলা হয়ে যাওয়া। কারণ আকলিমুর রহমান খুব স্পষ্টভাবে দেখতে পেলো, তার শিকার কতো সহজে চলে এসেছে ধরা-ছোঁয়ার মধ্যে। সে তার প্রতি আবদুর রাজ্জাকের বিশ্বাস, সহানুভূতি এবং দরদ জোরদার করার জন্য জোর করেই চায়ের দাম মিটিয়ে দিলো। আবদুর রাজ্জাকের প্রতিবাদের মুখে সে শুধু বললো, আপনার মতো একজন সংবেদনশীল মানুষের সঙ্গে পরিচিত হলাম--আমার দিনটাই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আমরা একটুও বাড়িয়ে বলছি না, ঠিক এ-কথাগুলিই বলেছিলো প্রবচন-লেখক আকলিমুর রহমান। সে বুঝতে পেরেছিলো আবদুর রাজ্জাক তৎসম-শব্দবহুল এবং সাধুরীতির বাংলা ভাষার ভক্ত। এই বিমূর্ত ভাষাজ্ঞান তাকে আগেও বহুবার সাহায্য করেছে।

আবদুর রাজ্জাকের চোখ ঠেলে আবার পানি আসতে চাইলো--সে দূরে দিগন্তরেখার দিকে তাকিয়ে তা গোপন করলো।

আকলিমুর রহমান ঝোলা থেকে একটা কৌটা বের করে যত্নের সঙ্গে দুটি পান তুলে নিলো, খিলি করা পান। একটি মুখে দিয়ে অন্যটি সে এগিয়ে দিলো আবদুর রাজ্জাকের দিকে। আবদুর রাজ্জাক পান খাওয়াকে গ্রাম্যতা বলেই ভেবে এসেছে এতদিন। মানুষ কেন পান খায়, সে ভাবতো। মানুষের ভিতর কি উদ্ভিদভোজী চতুষ্পদ প্রাণীর প্রবৃত্তি এখনও এমনভাবে সক্রিয় (আবদুর রাজ্জাক বলা বাহুল্য, ডারউইনের বিবর্তনবাদের একনিষ্ঠ সমর্থক--তবে সে কথায় পরে আসা যাবে) যে, দিনের দীর্ঘ সময় দাঁত ও চোয়াল এই লজ্জাহীন প্রক্রিয়ায় সচল রাখতে হবে, জানান দিতে হবে এই সত্য যে, ঘুমিয়ে আছে ছাগশিশু এক সকল শিশুর অন্তরে? হা!

কিন্তু আজ আকলিমুর রহমানের ভালোবাসার দানটি সে ফিরিয়ে দিতে পারলো না। বলতে পারলো না, আমি পান খাই না, ভাই। আপনিই খান। পানটা নিয়ে খুব যত্ন করে সেও সেটি মুখে পুরলো। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে সে পান চিবুলো এবং অচিরেই পানের সুমিষ্ট রসে তার মুখগহ্বর পূর্ণ হয়ে গেলো। নিচে এসে পূর্বকথিত রেলিং-এর ধারে সে দাঁড়ালো। কিন্তু দাঁড়াতে গিয়ে তার মনে হলো, রেলিংটা যেন ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছে। বলে কী? রেলিংটা যে ধরতে পারছি না?

আকলিমুর রহমান বললো, তাহলে ধরার দরকার কী? এখানেই বসি না হয়।

বলে সে স্তূপ-করে রাখা কিছু বস্তার আড়ালে হাত ধরে বসালো আবদুর রাজ্জাককে। আবদুর রাজ্জাকের চোখ কিছুটা যেন ঝাপসা হয়ে এসেছে, কণ্ঠও নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। কেন, সে বুঝতে পারছে না।

ফেরিতে কৌতূহলী একজন এগিয়ে এসেছিলো, 'কী হইছে ভাই, কী হইছে?' অভিজ্ঞ আকলিমুর রহমান তার অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করে। সে বলে, 'বমি করে ভাই, বমি করে।'

তারপর কি হলো, তার আর কিছুই আবদুর রাজ্জাকের মনে নেই। থাকার কথাও নয়। কী বলেন?

4.
আকলিমুর রহমান কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো, তারপর আবদুর রাজ্জাকের ব্যাগটা টেনে নিয়ে ভেতরে অনুসন্ধান চালালো, খাবনামা? প্যাকেটটা উঠে আসতে সে প্রীত হলো, কিন্তু প্যাকেট খুলে যখন দেখলো বই, ভয়ানক মর্মাহত হলো, কিন্তু খাবনামাটি নিজের ঝোলায় রেখে দিলো। নতুন বই, নাম লেখা নেই। কোনো জটিলতার সৃষ্টি হবে না। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস দুটি যথাস্থানে রেখে দিলো। কিন্তু মার্ঙ্ের বইটির পাতা উল্টে যখন দেখলো ভিতরে লুকানো কোনো টাকার নোট নেই, রেগে সে তা ছুড়ে ফেললো পানিতে। পদ্মার গর্ভে অচিরেই বিলীন হয়ে গেলো মার্ক্সের অমর কীর্তি। আকলিমুর রহমান অবশেষে আবদুর রাজ্জাকের পকেট থেকে ওই অনির্দিষ্ট অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে, আশাভঙ্গের কিছুটা বেদনা নিয়ে, সরে গেলো অকুস্থল থেকে। ফেরির অন্য একটি প্রান্তে তার কণ্ঠে প্রবচনমালা শোনা যেতে থাকলো, কিছুক্ষণ পর।

আবদুর রাজ্জাকের মোজার ভিতরে কিছু টাকা ছিলো, শার্টের কলারের ভিতরে কিছু টাকা ছিলো, সেগুলোর খবর আকলিমুর রহমান জানতো না। আমরা জানি, কারণ এসব খুটিনাটি জানাই আমাদের ব্যবসা।

5.
নগরবাড়ি ঘাটে ফেরি পেঁৗছলে অচেতন আবদুর রাজ্জাককে এক সময় দুজন পরিবহন শ্রমিক আবিষ্কার করে, তারা বিষয়টি জানায় ফেরির সারেংকে, সারেং দুজন আনসারের হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বলে, থানায় পেঁৗছাইয়া দিয়েন, দয়া কইরা।

আনসার দুজন তাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নগরবাড়ি ঘাটের একটি চায়ের দোকানে রেখে দেয়, দিয়ে, তারা স্ব স্ব গন্তব্যে চলে যায়। চায়ের দোকানীর কাছে এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। সে এরকম ধরা-খাওয়া পাবলিককে বিনা পয়সায় চা খাওয়ায়।

বেচারা আনসার! দরিদ্র, কিন্তু সৎ-এই অর্থে যে, আবদুর রাজ্জাকের ব্যাগটি তারা দোকানীকে দিতে ভুললো না।

বেচারা দোকানী! দরিদ্র, কিন্তু সৎ--সে ব্যাগটি তুলে রাখলো এবং দু একজন মানুষ ডেকে আবদুর রাজ্জাকের জ্ঞান ফেরানোর প্রয়াস পেলো।

তার দোকানের চৌদ্দ বছরের এক বয় আবদুর রাজ্জাককে একবার দেখেই বললো, 'ধুতরার গোড়া খাওয়াইছে, মুখ দিয়া ফেনা উটছে!'

দোকানী বললো, এখন উপায়?

বয় বললো, উপায় আবার কী, আপনেই ঠিক হইয়া যাইবো। ঘণ্টা পাঁচেক পর জ্ঞান এবং সম্বিৎ ফিরলো আবদুর রাজ্জাকের। আমি কে, আমি এখানে কেন, আপনারা কে, এ ধরনের কিছু প্রশ্ন সে করলো।

সদুত্তরও পেলো।

আকুলিমুর রহমান সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলো আবদুর রাজ্জাকের ব্যক্তিত্বে। এ জন্য ধুতুরার সর্বনিম্ন প্রয়োগ সে করেছিলো আবদুর রাজ্জাকের পানে, সংবেদনশীলতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করে।

চায়ের দোকানী ফ্রি চা খাওয়ালো আবদুর রাজ্জাককে। দুটো পরোটা এবং একটি অমলেটও আবদুর রাজ্জাক খেলো। তার পয়সা দিলো এক ট্রাক ড্রাইভার। ট্রাক ড্রাইভাররা, দেখা যাচ্ছে, শুধু মানুষের প্রাণ সংহারই করে না, প্রাণ রক্ষাও করে।

তার আগে চৌদ্দ বছরের বয়টি তাকে বমি করিয়েছে, নুন খাইয়েছে এবং প্রচুর পানি পান করিয়েছে। তার নাম হাশেম।

6.
রাতটা চায়ের দোকানে কাটালো আবদুর রাজ্জাক। তার সামনে দুটি পথ খোলা ছিলো-ঢাকায় ফিরে যাওয়া, অথবা সাপাহার যাত্রা জারি রাখা। ঢাকা সম্পর্কে একটি বিতৃষ্ণা কেন তার মনে উদয় হলো কে জানে। সে ঠিক করলো রাত্রিটা এখানে, এই পদ্মার তীরে কাটিয়ে দিয়ে কাল যাবে সাপাহার।
মোজা ও কলার থেকে টাকাগুলি বের করেছিলো সে। দোকানী খাবারের দামটা নেয় নি। রাতটা তার কাটলো উদাস উদাস ভাবে। যেন সে এক সাদা কাগজ, অলেখা শ্ল্লেট। তাতে বিধাতা আজ যা কিছু ইচ্ছে লিখে নিতে পারবেন।

আবেগে তার কান্না এলো। সে নদী পাড়ের দিকে হাঁটা দিলো। তার ভাবাবেগ গভীর হয়েছে। সে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আজ কাঁদবে।

7.
সাবধানে, চারপাশ দেখে নিয়ে, আবদুর রাজ্জাক কাঁদতে শুরু করলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:২১
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধের দায় হযরত আলীর (রা.) হলে আমরা হযরত মুয়াবিয়াকে (রা.) কেন দোষ দেব?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৪



সূরাঃ ৯ তাওবা, ৬০ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬০। সদকা বা যাকাত ফকির, মিসকিন, এর কর্মচারী, মোয়াল্লাফাতে কুলুব (অন্তর আকৃষ্ট),দাসমুক্তি, ঋণ পরিশোধ, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

গর্ব (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০

একটা সরকারি প্রাইমারি স্কুল। ক্লাস শুরু হয়েছে বেশ আগে। স্কুলের মাঠে জন মানুষ নেই। কয়েকটা গাছ, দু'একটা পাখি আর চিরসবুজ ঘাস তাদের নিজের মতো আছে। একান্ত চুপচাপ একজন মানুষ শিক্ষক-রুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×