somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আসুন থাইল্যান্ড দেশটি সম্পর্কে জানি

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ থেকে যে কয়টি দেশে সহজেই যাওয়া যায় তার মধ্যে থাইল্যান্ড একটি। থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। রাজধানীর নাম ব্যাংকক। ১৭৮২ সালে রাজা প্রথম রাম চাকরি সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে ব্যাংকককে বেছে নেন। থাইল্যান্ডের মধ্যভাগে রয়েছে একটি বিস্তীর্ণ উর্বর সমভূমি। এই সমভূমির মধ্য দিয়ে দেশের প্রধান নদী চাও ফ্রায়া এবং এর শাখানদী ও উপনদীগুলি প্রবাহিত হয়েছে। থাইল্যান্ডের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ থাই জাতির মানুষ। থাইল্যান্ডে বসবাসকারী অন্যান্য জাতির মধ্যে আছে চীনা, মালয় ও আদিবাসী পাহাড়ি জাতি, যেমন মং ও কারেন। কৃষিপ্রধান দেশ হলেও ১৯৮০-র দশক থেকে থাইল্যান্ডের অর্থনীতির দ্রুত উন্নতি ঘটছে। থাইল্যান্ডে আন্ডারওয়ার না পরে বাইরে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয়। আবার কোমরের ওপর খোলা শরীর নিয়ে গড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজা হলেন রাজা ভূমিবল অতুল্যতেজ। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের গভর্নর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু থাইল্যান্ডের বাকী ৭৫টি প্রদেশের গভর্নর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিযুক্ত হন। থাইল্যান্ডের ভিসা দেয়া হয় গুলশান স্টার সেন্টারে ভিএফএসের মাধ্যমে। দেশটার অর্থনীতিই দাঁড়িয়ে আছে পর্যটনের উপর। স্রেফ পর্যটনের উপর ভর করে কীভাবে একটা দেশের অর্থনীতি চলতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। দুহাজার বারো সালে থাইল্যান্ডে ঘুরতে আসা মোট বিদেশি পর্যটকের প্রায় তিরিশ শতাংশই ভারতীয়। ইমিগ্রেশনের ঝামেলা মিটিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখলেই মনে হবে পৌঁছে গেছেন ইউরোপের কোনও শহরে। ঝকঝকে রাস্তা, ঝাঁ-চকচকে আকাশছোঁয়া বহুতল। অফিস বা বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে যেসব ফুটপাথ ফাকা, রাতে সেগুলো জমজমাট বাজার হয়ে যায়, চেনাই যায়না যে দিনে এলাকাটা এত ফাকা ছিল। এগুলো মূলতঃ নাইট বাজার।

ব্যাঙ্ককের ফুটপাথের অন্যতম আকর্ষণ স্ট্রিট ফুড স্টল। দু-পা অন্তর চোখে পড়বে হরেক রকমের থাই-ফুডের পসরা। বেশির ভাগ স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাই ইংরেজি জানেন না। পাহাড়, সমুদ্র ঘেরা ছোট্ট শহর পাটায়া। শহর ছোট হলেও, এর আকর্ষণ অপরিসীম। পর্যটকদের জন্য স্থানীয় গাইডদের পরামর্শ, সামলে রাখুন নিজের পাসপোর্ট এবং পকেট। বিপদ আসতে পারে যেকোনও সময়ে। রাতে পায়ে হেঁটে ব্যাঙ্কক, পাটায়ায় ঘুরতে হলে সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা রাখবেন না। এমনটাই পরামর্শ, স্থানীয় পুলিস এবং গাইডদের। বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমান ভ্রমন পিয়াসী মানুষ থাইল্যান্ড ভ্রমনে যান। কেউ যান ব্যবসায়ীক কারনে, কেউবা চিকিৎসার জন্য এবং অনেকেই যান নিছক ভ্রমনের জন্য। ব্যাংকক শহরে বেশ কয়েকটি ব্রীজ আছে।

২০১০ সালে থাইল্যান্ডে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংঘাত হয়। এতে অন্তত ৯০ জন প্রাণ হারায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০৬ সালে এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দুতাবাসের ঠিকানাঃ বাড়ি# ৭২৭, থংগলোর, সই-৫৫, সুলতুম্ভিট রোড, ব্যাংকক-১০১১০, থাইল্যান্ড। ফোনঃ- ৩৯২৯৩৭-৮, ফ্যাক্সঃ-৩৯১৮০৭০ । থাইল্যান্ডের দক্ষিনে মালেশিয়া, পশ্চিম-উত্তরে মায়ানমার, উত্তর-পুর্ব দিকে লাউস এবং দক্ষিন-পশ্চিমে কম্বোডিয়া। জনসংখ্যা- ৬৩,০৩৮,২৪৭ জন। জাতীয় ভাষা ইংরেজী। এখানকার গড় তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। থাইল্যান্ডে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা যা দর্শকরা উপভোগ করে থাকেন তা হলো থাই কিকবক্সিং (মুয়েই থাই)। থাই কিকবক্সিং এর জন্য প্রতিযোগীদের গ্লাভযুক্ত পা, হাঁটু, কনুই ও মুষ্ঠি ব্যবহার করতে হয়।

১ থাই বাথ = প্রায় ৩ টাকা। অবাক হবেন যে পাতায়ার টুরিস্টের এটলিস্ট ৪০% হলো মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমান বদগুলা। আরব,আমিরাত, দুবাই, ইরাক, ইরান, সুদান, মিশর কোন দেশের লোক নাই ! থাইল্যান্ডের সব গুরুত্বপূর্ন নিদ্দেশিকাগুলো তিন ভাষায় লেখা । এক নাম্বার হলো থাই ভাষা, দুই নম্বর এরাবিক ভাষা, তিন নম্বর হলো ইংরেজদের ভাষা। ভ্রমণপিপাসুদের ভ্রমণের জন্য অতি আদর্শ একটি দেশ। পাতায়ায় মাদাম তুসুর অনুকরণে মোমের তৈরি সেলিব্রেটিদের একটি গ্যালারিও আছে। যেখানে বারাক ওবামা, মহাত্মা গান্ধী, মাও সে তুং, ডায়নাসহ প্রায় ১০০ জন সেলিব্রেটি আছেন। থাইল্যান্ড বস্তুত গৌতম বুদ্ধের দেশ। অসংখ্যক ছোট বড় বৌদ্ধ মুর্তি দিয়ে পুরো দেশ ভর্তি। বুদ্ধ ও রাজার প্রতি তাদের অকৃত্রিম ভক্তি-শ্রদ্ধা। একেবারে অন্তরের অন্তস্থল থেকে। ধর্ম নিয়ে তাদের কোন হানাহানি, বিবাদ/ মতভেদ নেই।

বিদেশ ভ্রমণে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সর্বপ্রথম যা করনীয় তা হলো সে দেশীয় থানায় জিডি করা। জিডি করার পরে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে বাংলাদেশ হাই কমিশনার বিভাগে। ট্যুর অপারেটর বা ট্র্যাভেল এজেন্সি যদি আপনার ভ্রমণে সহায়তা করে থাকে তবে তারাই আপনাকে বাংলাদেশ হাই কমিশনার বিভাগে যোগাযোগ করতে সহায়তা করবে। এরপরের কাজ করবে বাংলাদেশ হাই কমিশনার। বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিস, বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে যৌক্তিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ হাই কমিশনার একটি পত্র বা দরখাস্ত পাঠাবে পাসপোর্ট হারানোর আবেদনকারীকে। এ পত্র বা দরখাস্তই আপনাকে সুন্দরভাবে দেশে ফেরত আসতে সহায়তা করবে। রাজধানী ব্যাংকক থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে পাতায়া। পাতায়া থেকে সমুদ্রের ভেতরে তাকালেই দেখা যায় অসংখ্য কোরাল দ্বীপ। পাতায়ায় রয়েছে অসংখ্য হোটেল, রিসোর্ট, রেস্ট হাউস। খাবার হোটেল নিয়েও ভাবতে হবে না। বেশ কয়েকটি বাংলা-ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। টাকি ভর্তা থেকে শুরু করে নানা স্বাদের সামুদ্রিক মাছও পাওয়া যায়। আবাসিক হোটেলগুলোতে ভাড়া খুবই কম। এসি ডাবল বেডের রুম পাওয়া যায় মাত্র ৫০০ বাথে [বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ১ হাজার টাকা]।

ব্যাংককের আসল নাম ক্রুং থেপ বা দেবদূতের শহর। আত্বিকভাবে, বাহ্যিকভাবে এবং প্রতীকিভাবেও এখানকার মানুষ তাই বিশ্বাস। আপনি যখন এখানে প্রথম আসবেন আপনার মনে ব্যাংকক একটা আধুনিক মহানগরী হিসেবে ছাপ ফেলতে পারে গগনচুম্বী অট্টালিকা, কনডোজ, হোটেল, দোকান-পাট এবং আধুনিক শপিং মলের ছড়াছড়ি দেখে। এটা ব্যাংককের মাত্র একটি আকর্ষণীয় দিক। এই শহর সত্যিই প্রাচ্যের একটি বিচিত্র শহর। এই শহর সত্যিই প্রাচ্যের একটি বিচিত্র শহর। ব্যাংকক একটা উন্নত শহর হয়েও এর জনগন কখনো নিজেদের ঐতিহ্যগত দিকটি ভুলতে পারেন না যার কারণে ব্যাংকক একটা চমতকার শহর হিসেবে বিবেচিত। চারশ বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরের প্রতিটির চমতকারিত্ব আপনাকে জানিয়ে দেবে এর শিল্পোতকর্ষতা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×