somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

টোকাই থেকে বিখ্যাত ফটোগ্রাফার

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ম্যারিও ম্যাসিলু

টোকাই থেকে ফটোগ্রাফার হওয়া মানুষটির নাম ম্যারিও ম্যাসিলু (MARIO MACILAU)। সময়ের পরিক্রমায় এই টোকাই আজকের দিনে হয়ে উঠেছেন একজন নন্দিত ও খ্যাতনামা ফটোগ্রাফার। ম্যাসিলুর জন্ম এক দরিদ্র পরিবারে ১৯৮৪ সালে আফ্রিকাতে। সাত বছর বয়সেই কাজে নামতে হলো তাকে। কি কাজ আর সে করতে পারে? কখনো কারোও গাড়ি ধুয়ে দিত, আবার কখনোবা কারো বাজারের ব্যাগ বয়ে দিত। এভাবেই চলতে থাকে তার জীবন। এসব করতে করতে তার সঙ্গী জুটে যায় কয়েকজন টোকাই। তাদের কাছেই চুরি করা শেখে ম্যাসিলু।

২০০৩ সাল থেকে ম্যাসিলু পুরোপুরি ফোটোগ্রাফী শুরু করেন। বিবিসি ম্যাসিলুকে নিয়ে সবার প্রথম প্রতিবেদন তৈরি করেন। ম্যাসিলু বেশ কয়েকবার যৌথ্য প্রদর্শনী করেন। সেখানে তার ছবি খুব প্রশংশিত হয়। এখন পর্তুগালের লিসবনে চলছে তার একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।


ম্যাসিলুর ফোটোগ্রাফী।

রাত কাটতো ফুটপাত কিংবা কোনো দোকানের সিঁড়িতে। পুলিশের কাছে ধরাও খেয়েছে ম্যাসিলু, পিটুনি তো ছিলই। এভাবে চুরি, নেশা, মার খাওয়া'র মধ্যেই চলতে থাকে তার দিন। তার বয়স তখন ১৪ বছর, একদিন তার এক বন্ধু কুড়িয়ে পেল একটি ক্যামেরা। ক্যামেরা দেখে ফটো তোলার ইচ্ছে জাগে ওর। বন্ধুর কাছ থেকে ক্যামেরা ধার করে ছবি তোলা শুরু করে ম্যাসিলু। ম্যাসিলু রাস্তায় ঘুরে বেড়াত আর ফিল্ম ক্যামেরায় রাস্তার লোকদের সাদা-কালো ছবি তুলত। তখন বন্ধুর পরামর্শে বাড়িতে একটি ঘরে ডার্করুম বানায় ম্যাসিলু। কেমিক্যাল জোগাড় করে ছবি ধোয়ার কাজও শিখে ফেলে সে।

২০০৭ সালের কথা, হঠাৎ একদিন তার প্রতিবেশী এক লোক একটি নিকন ফিল্ম ক্যামেরা নিয়ে এলো বিক্রি করতে। ওই লোক ক্যামেরাটি চালাতে পারত না। ক্যামেরাটি দেখে কেনার ইচ্ছে জেগে ওঠে ম্যাসিলুর, কিন্তু হাতে কোনো টাকা-পয়সা নেই। তাতে কি? গোপনে সে তার মায়ের মোবাইল ফোনের বদলে লোকটির ক্যামেরা নিয়ে নিল। মাকে মিথ্যা বলল যে, ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে ফোনটি নিয়ে গেছে। তখন ম্যাসিলুর বয়স ২৩ বছর, শুরু হলো নিজের ক্যামেরায় ফটো তোলা। তার তোলা ফটো দেখে মুগ্ধ হতে থাকে অনেকে। তাই তার বন্ধুরা তাকে পরামর্শ দেয় ইন্টারনেটে কয়েকজনের সাথে যোগাযোগের জন্য। ম্যাসিলু তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ব্লগে ছবি প্রকাশ করা শুরু করে। দিনে দিনে তার ছবির চাহিদা বাড়তে থাকে, ডাক পেতে থাকে বিভিন্ন যৌথ প্রদর্শনীতে। এরই ধারাবাহিতায় একদিন ডাক পড়ল কানাডায়। সেই শুরু তার সাফল্যের, আর পেছনে তাকাতে হয়নি কখনো।


ম্যাসিলুর ফোটোগ্রাফী।

ম্যাসিলু'র এই কথাটি আমার খুব ভালো লেগেছে, I was just forced by the power of the image and then started to realize I could paint using the light through the lens.
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×