somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমি চিৎকার করি, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনে না

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মজার ব্যাপার শুনুন-
বিয়েতে যাব। সুরভি সন্ধ্যা থেকেই সাঁজতে বসেছে। এর মধ্যে আবার পার্লার থেকে চুল সাজিয়ে এনেছে। শাড়িও মনে হয় পার্লার থেকে পড়ে এসেছে। তারপরও রেডি হতে-হতে সাড়ে দশটা বাজালো। আমি বেশ কয়েকবার তাড়া দিলাম, লাভ হলো না।
সাড়ে এগারো টায় বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখি অনুষ্ঠান শেষ।
ভাবলাম এত কষ্ট করে এসেছি যখন একটা ছবি তুলে নিই। ছবি সুরভি'ই তুলে দিল। সে এখন রান্না করতে বসছে। খেয়ে তারপর ঘুমাবো। ইচ্ছা করলে খাবার বাইরে থেকে কিনে আনতে পারতাম। কিন্তু না... এটা তার শাস্তি।
ক্ষুধার্থ অবস্থায় ছবি এর চেয়ে ভালো হবার কথা নয়।

১। ঢাকা শহরের যে জায়গা গুলোতে ছিনতাই হয়- সে জায়গা গুলোতে পুলিশ চেকপোস্ট থাকে না। পুলিশ চেকপোষ্ট থাকে অন্য জাগায়, যেখানে ছিনতাই হয় না। আচ্ছা, পুলিশ কি জানে না কোথায় ছিনতাই হয়? খুব ভালো করেই জানে। এবং এও জানে কে ছিনতাইকারী আর কে পকেটমার। পুলিশ এর চেকপোষ্ট গুলোতে সাধারন মানুষের উপকার হয় না। বরং তারা বিপদে পড়ে। বিশেষ করে রাতের বেলা পুলিশ চেকপোষ্ট বসায়। রিকশা থামিয়ে সাধারন মানুষকে হয়রান করে। তখন তাদের চোখ মুখ আনন্দে ঝিকমিক করে। যেন শিকার ধরা পড়েছে। লোভে চকমক করে চেহারা। যেভাবেই হোক তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা পয়সা নিবেই। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ- তাদের পকেট থেকে ২০/৫০ বা ১০০/২০০ যা পায় নিবেই। তারা কোনো অপরাধী না। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র বা কোনো নেশা দ্রব্য কিছুই পাওয়া আয় না। তারপরও নানান ভাবে কথা প্যাচিয়ে- ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নিবেই। এই কি জনগনের সেবকের নমুনা? ছিঃ

২। ঢাকা শহরের সব অলি-গলিতে সকাল থেকেই মিনি মাজার বসে। এসব বাজারে সব কিছুই পাওয়া যায়- মাছ, সবজি, ফলমুল সবই পাওয়া যায়। সকালে মানুষের তাড়াহুড়া থাকে। সবাই সবার কাজে যায়। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়। লেগে যায় জ্যাম। গাড়ি, রিকশা, ভ্যান এবং হোন্ডার জ্যাম। একেবারে আন্ধা গিট্রু। এটা প্রতিদিনকার দৃশ। কেউ দেখার নেই, কেউ বলার নেই। অবশ্য বাসা বাড়ির মহিলারা সহজেই কিনে নিতে পারেন। তাদের বাজারে যেতে হয় না। লাগুক একটু জ্যাম। তারা তো ব্যবসা করছে। চুরি, ডাকাতি করছে না। এই সব ব্যবসায়ীরা ভোর রাতে ঘুম থেকে উঠে- কারওয়ান বাজার বা সদর ঘাটের আড়ৎ থেকে এবং কোনো নদীর ঘাট থেকে মাছ জিনিস কিনে এনে গলির মধ্যে ব্যবসা করেন। সময়ের অভাবে যারা বাজারে যেতে পারেন না, তারা তাদের কাছ থেকে কিনেন। এইসব আমি প্রতিদিন লক্ষ্য করি। আরও লক্ষ্য করি- প্রতিদিন একটা নিদ্দিষ্ট সময়ে পুলিশের গাড়ি আসে- এইসব ব্যবসায়ীদের একজন (যে মুরুব্বী) সব দোকান থেকে ৫০/১০০ টাকা তুলে পুলিশের হাতে দেয়। পুলিশ রাজার হালে গাড়িতে বসে থাকে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া আপেল-কমলা চিবিয়ে খায়। যদি কখনও টাকা তুলতে দেরী হয়- তখন পুলিশ বিকট হর্ন দেয়। টাকা নিয়ে পুলিশ জমিদারের মতো চলে যায়। প্রতিটা দিন একই ঘটনা।

৩। জ্যাম তো আমাদের নিত্যদিনের ঘটনা। এটা মনে হয় ঢাকাবাসী মেনেই নিয়েছে। এখন বড় বড় রাস্তা থেকে শুরু করে অলি-গলি সব জাগায়'ই জ্যাম। একটা চিপা গলি- এর দুই দিক থেকে দুইটা গাড়ি ঢুকছে। গলির মাঝামাঝিতে এসে দুই গাড়ি আটকে গেল। ড্রাইভার দুইজন দুইজনকে দোষ দিচ্ছে। গালাগালি করছে। এতক্ষনে জ্যাম লেগে গেছে-এক মাইল রাস্তা। যারা পথচারী তারা পড়ে খুব বেশি বিপদে। গাড়ির সাথে সাথে তাদের চলাচলও থেমে যায়। কারণ তারা ফুটপাতও ব্যবহার করতে পারছে না। ফুটপাত হকারদের দখলে। কেউ ফুটপাতে চায়ের দোকান দিয়েছে। কেউ ভাপা পিঠা বিক্রি করছে। কেউ পপ কর্ণ অথবা ডাব বিক্রি করছে। সাধারন মানুষ কি একটু শান্তিতে ফুটপাত দিয়েও হাঁটতে পারবে না? এদিকে সিটি কর্পোরেশন একই রাস্তা সারা বছর নানান কারণে ভাঙ্গতে থাকে। গর্ত করতে থাকে। তারা একবার কাজ শুরু করলে- এই কাজ কবে শেষ হবে তা কেউ জানে না। সাঈদ খোকন সাহেব মিডিয়ার সামনে চিৎকার করে ফুটপাত দখলকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন- এক ইঞ্চি জায়গা দিব না। কিন্তু গুলিস্তান গেলে হকারদের জ্বালায় হাঁটা যায় না। তাদের ব্যবহারও খুব খারাপ। ফুটপাত দখলকারীরা এক ইঞ্চি জায়গা দেয় না হাঁটার জন্য পথাচারীদের।

৪। বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র। তাদের গাড়ি নেই। সিএনজি'তে চড়ার টাকাও নেই। কাজেই বাস ছাড়া তাদের অন্য কোনো গতি নেই। এই বাস করে সেচ্ছাচারিতা। ১০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ২০ টাকা। বাসে পা রাখার জায়গা নেই- তবুও ঠাসাঠাসি করে আরও যাত্রী নিচ্ছে। মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসছে। কষ্ট হচ্ছে। বাস চলতি অবস্থায় যাত্রীদের উঠতে হয় নামতে হয়। নারী পুরুষ সবার একই অবস্থা। ঢাকার চাকা বাস এবং হাতির ঝিলে চক্রাকার বাস সার্ভিস সাধারন মানুষের কাছ থেকে পাঁচ টাকার দূরত্বের ভাড়া নিচ্ছে ২০/২৫ টাকা। দেখার কেউ নেই। কে দেখবে? কার কাছে নালিশ করবো? দুই মেয়র কি এই সবের খোঁজ খবর রাখেন না? কিন্তু টিভি ক্যামেরা দেখলে তো চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলেন। রাগে শরীর টা জ্বলে আমার।
আর একটা কথা বলে- আমার এই লেখাটা শেষ করবো- অনেক ছেলে-পেলেকেই দেখি- বাসে উঠে দুই টাকা পাঁচ টাকার জন্য কন্টাকটারের সাথে ঝগড়া শুরু করে দেয়। কথায় কথায় তারা বলে- আমি স্টুডেন্ট। তোরা ছাত্র ভালো কথা। দুই টাকা পাঁচ টাকার জন্য খাচ্ছরের মতো করিস ক্যান? যখন রাত জেগে লেখা পড়া বাদ দিয়ে ডালিং এর সাথে কথা কও, তখন ফ্ল্যাক্সি করার জন্য টাকা কই পাও? যখন গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ফাস্ট ফুডের দোকানে দামী দামী খাবার খাও, গার্ল ফ্রেন্ড কে গিফট কিনে দাও তখন টাকা কই পাও? বাসে উঠলেই অশিক্ষিত কন্টাকটারের সাথে পাঁচ টাকার জন্য চিৎকার চ্যাচাম্যাচি করো- লজ্জা করে না তোমার?

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:০০
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×