
পৃথিবীর নিয়মটাই এমন যে কিছু মানুষ থাকবে সুখী আর অন্য দিকে কিছু মানুষ থাকবে দুঃখী। প্রতিটি মানুষের জীবনেই অতীত থাকে। তা খারাপও হতে পারে ভালও হতে পারে। সুখী হতে হলে অবশ্যই অতীত ভুলে থাকতে হবে। আমি এমন অনেক কে দেখেছি যারা অনেক ধনি, কিন্তু সুখী নয়। আবার আমি এমন অনেক কে দেখেছি যারা অনেক গরীব দিন আনে দিন খায়, কিন্তু বিরাট সুখী। সম্পর্ক মানুষকে সুখী থাকতে সাহায্য করে। যাঁরা সমাজে নানা রকম মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রেখে চলেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় আরও সুখী ও সুস্থ থাকেন এবং আরও বেশিদিন বাঁচেন। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক জীবনে ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার অর্থ নিয়ে আসে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিজের সম্পর্কগুলি আরও মজবুত করে তুলুন, নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলুন। সুখী হওয়ার জন্য এটা অত্যন্ত জরুরি।
আপনার এমন কোন ক্ষমতা নেই যে সেই ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীর সব সমস্যা প্রতিরোধ করবেন। জীবনে সুখী হতে চাইলে -আপনার চাইতে যে এখটু খারাপ অবস্থানে আছে তার সাথে তুলনা করুন । দেখবেন আপনি সুখে আছেন। পরিমিত চাহিদা, সৎ জীবনযাপন, ধর্মীয় মূল্যবোধ,অন্যকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসা,সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করা, সব পরিস্থিতিতে সত্যের সাথে থাকা গেলে সুখী হওয়া কঠিন কিছুনা। সুখ শুধু মুহূর্তের সুখ নয়, হঠাৎ পাওয়া কোনো সুবর্ণ সুযোগ নয়। সুখ একটা জীবনদর্শন, একটা বিশেষ মনোভাব এবং পরিশ্রম সাপেক্ষ।
একটি প্রবাদ আছে " যার একজন সতী বউ, সৎ ছেলে এবং একজন সত্যিকারের পরোপকারী বন্ধু আছে পৃথিবীতে সে প্রকৃত সুখী মানুষ। আমার এক সাংবাদিক বন্ধু বলেন, সূখী হওয়ার প্রথম শর্ত আপনার আগে অসূখী হতে হবে... কারণ অসুখী হলেই সূখের মুর্হুত গুলো অনুভব করা যায়...। একটি পরামর্শ দেই- সকালে বাইরে যাওয়ার সময় রাস্তায় অপরিচিত কাউকে দেখে মিষ্টি করে হাসুন এবং তার অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা উপভোগ করুন। কিছুক্ষণ পরেই যখন সে পাল্টা হাসবে, দেখবেন নিজের কাছে ভীষণ ভালো লাগবে। এই ভালো লাগার অনুভূতিটুকু সারাদিন সঙ্গে রাখুন, দেখবেন দিন ভালো কাটবে।
ভালো কোনো কৌতুক যদি জানেন, সেটি ফেসবুকে লিখবেন না। কারণ, কেউ ‘লাইক’ না দিলে আপনি কষ্ট পাবেন। সুখী হওয়ার জন্য এ রকম পরামর্শই দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। আর দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে প্রয়োজন বিশ্বাস। একবার একজন লেখকের সাথে আমার দেখা হয়। তিনি আমার পূর্ব পরিচিত। তাকে জোর করে নিয়ে একটি চায়ের দোকানে বসালাম। বললাম চা খান- তিনি খেলেন না। পরে জোর করে একটা কলা খাওয়ালাম। তিনি আমাকে বললেন, রাজীব বিয়ে করেছো। ভালো কথা। এখন তোমাকে সুখী হওয়ার জন্য অনেক কিছুই ছাড় দিতে হবে, অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হবে। জীবনে যত ছাড় দিবে, যত ত্যাগ করবে- জীবনে তত সুখী হতে পারবে।
নিজের মনকে এমনভাবে গড়ে তুলুন যেন আপনি একজন ছাত্র এবং পুরো পৃথিবী এবং পৃথিবীর মানুষজন আপনার শিক্ষক। তবেই আপনি হতে পারবেন সুখী এবং সফল। মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়ের 'পুতুল নাচের ইতিকথা' বইটি যারা পড়েন নি তারা অবশ্যই বইটি পড়ে নিবেন। খুব মন দিয়ে পড়বেন। যদি কিছু না বুঝেন তাহলে তিনবার পরেন। গ্রীকপূরাণে পড়েছিলাম, 'প্যানাসিয়া' গ্রীক পুরাণের একজন দেবীর নাম। দেবী প্যানাসিয়া একধরণের তরল পদার্থ খাইয়ে মানুষের যাবতীয় অসুখ-বিসুখ ভালো করে দিতে পারতেন! আমি যেটা বুঝি, সেটা হলো- মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা, এবং নিয়মিত ব্যায়াম। শুধুমাত্র এই দু’টো জিনিস অনুসরণ করে জীবনের অসংখ্য সমস্যার সমাধান করা যায়। আমি নিজে এটা করেছি – আপনিও ট্রাই করে দেখুননা! পৃথিবীর প্রায় সাতশ কোটি মানুষের পুরো সভ্যতা টিকে আছে মূলত মানুষে মানুষে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার কারণে।
আমি মনে করি, কর্মময় জীবনই সুখী হওয়ার সবচেয়ে মোক্ষম উপায়। সুখ রয়েছে দায়িত্বশীলতায়। সুখ আসে নিয়মানুবর্তিতায় ও সত্যবাদিতায়। প্রত্যেক মানুষই পারে অফুরান আনন্দ আর সুখের অনুভূতিতে নিজের জীবনকে পরিপূর্ণ করে তুলতে। চারপাশে কী ঘটছে তা মোটেও বিবেচ্য নয়, বরং পারিপার্শ্বিক এ ঘটনাগুলোকে আমরা কীভাবে দেখছি অর্থাৎ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই নির্ভর করে জীবনের সুখ ও আনন্দ। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যা ঘটে চলেছে তা কিন্তু আমাদের দুঃখের কারণ নয়, বরং এসব ঘটনায় আমরা যেভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি, মূলত তা-ই আমাদের অসুখী করে তোলে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভেতরে কৃতজ্ঞতাবোধ সন্তুষ্টচিত্ততা কল্যাণকামিতা লালন করুন। আপনি সুখী হবেন। শুধু মনোরম আর সুখপ্রদ অভিজ্ঞতার পেছনে ছুটলেই আপনি সত্যিকারের সুখী হতে পারবেন না। কারণ সুখী হওয়াটা নির্ভর করে কিছু মানবিক আচরণের ওপর যেমন : উদারতা, পরার্থপরতা, সমমর্মিতা, অন্তর্গত শক্তি।
খুব খেয়াল রাখবেন- আপনার কোন আচরণের জন্য যেন কেউ আহত না হয়, কষ্ট না পায়। এবং প্রত্যাশার মাত্রা কমিয়ে আনতে পারলেই আপনি ভালো থাকবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



