
১। জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে রাস্তার জ্যাম।
ভাবতে ভালো লাগে, একদিন রাস্তায় কোনো জ্যাম থাকবে না। রাস্তার দুই পাশে থাকবে নানান রঙিন ফুলের গাছ। পথচারী'রা ফুলের সুবাস নিতে নিতে হেঁটে যাবে গন্তব্যে।
বাচ্চাদের জন্য থাকবে খেলা-ধূলার নানান সামগ্রী। মোড়ে মোড়ে থাকবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। ছোট বড় পরিছন্ন দোকানে থাকবে নানান মজাদার খাবারের ব্যবস্থা। বড় বড় রাস্তার মোড়ে থাকবে এলইডি। ব্রেকিং নিউজ গুলো তারা নিয়মিত প্রচার করবে। অন্য সময় সরাসরি ক্রিকেট খেলা দেখাবে।
ছিনতাই হবে না, পকেটমার হবে না। যাত্রী ছাউনী গুলোতে থাকবে মনোরম পরিবেশ। থাকবে ঝকঝকে টয়লেট। রাস্তাঘাটে চলাচলরত কোনো নারীর দিকে কোনো পুরুষ কুৎসিতভাবে তাকাবে না। দৌঁড়ে দৌঁড়ে বাসে উঠতে হবে না- থাকবে সুশৃংখল বাস স্টপেজ।
২। মেয়েরা যদি ছেলেদের ওয়াশরুমে ভুল করে চলে যায়, তাহলে এটা সামান্য একটা ভুল। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে সেটা হবে বিকৃত রুচির অধিকারী।
৩। ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না। হকার'রা দখল করে আছে। খুব রাগ লাগে। কিন্তু যখন তাদের উচ্ছেদ করা হয়- খুব খারাপ লাগে। কষ্ট হয়।
একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বলব, হকারদের দরকার আছে, কারন নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত প্রায় বেশিরভাগ মানুষই এদের কাছ থেকে কেনাকাটা করেন।
হকার'রা তো এই দেশের'ই নাগরিক। তাদের পরিবার আছে, সন্তান আছে, বেচেঁ থাকার অধিকার আছে। কিছু দিন পর-পর এরকম উচ্ছেদ অভিযান চালালে- দরিদ্র মানুষগুলো কোথায় যাবে?
৪। পৃথিবীর নিয়মটাই এমন যে কিছু মানুষ থাকবে সুখী আর অন্য দিকে কিছু মানুষ থাকবে দুঃখী।
৫। আই লাভ ইউ ট্রাম্প। ট্রাম্পকে নিয়ে যা সবাই ভাবছে তা ঠিক না। ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষেই একজন ভাল মানুষ। ওবামা থেকে ট্রাম্প অবশ্যই উত্তম।
মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি আর আইএসের জন্ম দিয়ে যে শান্তিতে নোবেল পায় সে যে কতটুকু ভাল তা বোঝা যায়। ট্রাম্প আর যা-ই করুক অন্তত পৃথিবীতে সন্ত্রাস বাড়তে দিবেনা এটা নিশ্চিত থাকুন।
৬। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতাটি পড়েননি এমন পাঠক খুব কমই পাওয়া যাবে। অদ্ভুত একটা কবিতা। বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দকে বলেছিলেন- ‘প্রকৃত কবি এবং প্রকৃতির কবি’। কবিতাটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন কবি বুদ্ধদেব বসু তাঁর কবিতা পত্রিকায়।
আপাত দৃষ্টিতে 'বনলতা সেন' একটি প্রেমের কবিতা যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বনলতা সেন নাম্নী কোনো এক রমণীর স্মৃতি রোমন্থন। এডগার এলেন পো'র 'টু হেলেন' কবিতার সাথে 'বনলতা সেন' কবিতাটির খুব বেশি মিল। জীবনানন্দ দাশ আজ থেকে ৮৩ বছর আগে বরিশালে বসে এই কবিতাটি লিখেছিলেন। জীবনানন্দের কবিতায় সুস্পষ্ট বক্তব্য ও দর্শন আছে। কবি এই কবিতায় যে রহস্য তৈরি করেছেন সেই রহস্য এখনো ধোয়াশা।
গোপালচন্দ্র রায় একবার কবিকে জিজ্ঞাসাও করেছিলেন, ‘দাদা, আপনি যে লিখেছেন নাটোরের বনলতা সেন, এই বনলতা সেনটা কে? এই নামে সত্যি আপনার পরিচিত কেউ ছিল নাকি?’ উত্তরে কবি শুধুমাত্র একগাল মুচকি হাসি দিয়েছিলেন। কবি কখনো নিজের অজান্তেও এই বিষয়ে কারো কাছে কিছু বলেননি। বাঘা বাঘা সব গবেষকরাও বছরের পর বছর গবেষণা করে এই ‘বনলতা সেন’ রহস্য উদঘাটন করতে পারেন নি।
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
আমারে দু’দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতি দূর সমুদ্রের পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সব পাখী ঘরে আসে-সব নদী-ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।
৭। এই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ জীবনে কিছুই পায়নি।
শিক্ষা, বাসস্থান, খাদ্য, বিনোদন, চিকিৎসা অথবা ভালোবাসা, কিছুই না। জীবনে কিছু না পেয়েই তখন তারা ধর্মটাকে আঁকড়ে ধরে।
আজ একটি কিশোরী মেয়ে আমাকে জানালো সে সারাদিনে ৩০০ ইট ভেঙ্গে ২৪০ টাকা পায়। সারাদিন কাজ করার পর হাত ঠোসা পরে যায়, অবশ লাগে।
৮। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য- আমাদের সমাজে কালো মেয়েদের চাহিদা নেই। রবীন্দ্রনাথ যতই বলুক- ' কালো? তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।' সহজ সরল সত্য কথা হলো- জন্মের পর থেকেই তারা সংসারের বোঝা।
কালো রঙের মেয়েরাও যে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করতে পারে তা আমাদের অনেকেরই অজানা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে গায়ের রঙ নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। ব্যাক্তির গুনই তাদের কাছে মুখ্য বিষয়।
৯। শীতকাল হলো ওয়াজ মাহফিল এর সময়।
শহরে-গ্রামে সব জায়গায় বিশাল ওয়াজ মাহফিলের ব্যবস্থা করা হয়। বক্তারা তাদের আঞ্চলিক ভাষায় অতি রসালো ভাবে ওয়াজ করেন। দশ হাত দূরে দূরে মাইক লাগানো হয়। আমাদের দেশ যদি উন্নত কোন দেশ হতো, তাহলে শব্দ দুষনের জন্য এদের অবশ্যই জেল জরিমানা হতো।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



