somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজ ব্লগ পড়ে যা-যা জানলাম/শিখলাম

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




১। জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে রাস্তার জ্যাম।
ভাবতে ভালো লাগে, একদিন রাস্তায় কোনো জ্যাম থাকবে না। রাস্তার দুই পাশে থাকবে নানান রঙিন ফুলের গাছ। পথচারী'রা ফুলের সুবাস নিতে নিতে হেঁটে যাবে গন্তব্যে।
বাচ্চাদের জন্য থাকবে খেলা-ধূলার নানান সামগ্রী। মোড়ে মোড়ে থাকবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। ছোট বড় পরিছন্ন দোকানে থাকবে নানান মজাদার খাবারের ব্যবস্থা। বড় বড় রাস্তার মোড়ে থাকবে এলইডি। ব্রেকিং নিউজ গুলো তারা নিয়মিত প্রচার করবে। অন্য সময় সরাসরি ক্রিকেট খেলা দেখাবে।
ছিনতাই হবে না, পকেটমার হবে না। যাত্রী ছাউনী গুলোতে থাকবে মনোরম পরিবেশ। থাকবে ঝকঝকে টয়লেট। রাস্তাঘাটে চলাচলরত কোনো নারীর দিকে কোনো পুরুষ কুৎসিতভাবে তাকাবে না। দৌঁড়ে দৌঁড়ে বাসে উঠতে হবে না- থাকবে সুশৃংখল বাস স্টপেজ।

২। মেয়েরা যদি ছেলেদের ওয়াশরুমে ভুল করে চলে যায়, তাহলে এটা সামান্য একটা ভুল। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে সেটা হবে বিকৃত রুচির অধিকারী।

৩। ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যায় না। হকার'রা দখল করে আছে। খুব রাগ লাগে। কিন্তু যখন তাদের উচ্ছেদ করা হয়- খুব খারাপ লাগে। কষ্ট হয়।
একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বলব, হকারদের দরকার আছে, কারন নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত প্রায় বেশিরভাগ মানুষই এদের কাছ থেকে কেনাকাটা করেন।
হকার'রা তো এই দেশের'ই নাগরিক। তাদের পরিবার আছে, সন্তান আছে, বেচেঁ থাকার অধিকার আছে। কিছু দিন পর-পর এরকম উচ্ছেদ অভিযান চালালে- দরিদ্র মানুষগুলো কোথায় যাবে?

৪। পৃথিবীর নিয়মটাই এমন যে কিছু মানুষ থাকবে সুখী আর অন্য দিকে কিছু মানুষ থাকবে দুঃখী।

৫। আই লাভ ইউ ট্রাম্প। ট্রাম্পকে নিয়ে যা সবাই ভাবছে তা ঠিক না। ট্রাম্প প্রকৃতপক্ষেই একজন ভাল মানুষ। ওবামা থেকে ট্রাম্প অবশ্যই উত্তম।
মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি আর আইএসের জন্ম দিয়ে যে শান্তিতে নোবেল পায় সে যে কতটুকু ভাল তা বোঝা যায়। ট্রাম্প আর যা-ই করুক অন্তত পৃথিবীতে সন্ত্রাস বাড়তে দিবেনা এটা নিশ্চিত থাকুন।

৬। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতাটি পড়েননি এমন পাঠক খুব কমই পাওয়া যাবে। অদ্ভুত একটা কবিতা। বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দকে বলেছিলেন- ‘প্রকৃত কবি এবং প্রকৃতির কবি’। কবিতাটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন কবি বুদ্ধদেব বসু তাঁর কবিতা পত্রিকায়।

আপাত দৃষ্টিতে 'বনলতা সেন' একটি প্রেমের কবিতা যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বনলতা সেন নাম্নী কোনো এক রমণীর স্মৃতি রোমন্থন। এডগার এলেন পো'র 'টু হেলেন' কবিতার সাথে 'বনলতা সেন' কবিতাটির খুব বেশি মিল। জীবনানন্দ দাশ আজ থেকে ৮৩ বছর আগে বরিশালে বসে এই কবিতাটি লিখেছিলেন। জীবনানন্দের কবিতায় সুস্পষ্ট বক্তব্য ও দর্শন আছে। কবি এই কবিতায় যে রহস্য তৈরি করেছেন সেই রহস্য এখনো ধোয়াশা।

গোপালচন্দ্র রায় একবার কবিকে জিজ্ঞাসাও করেছিলেন, ‘দাদা, আপনি যে লিখেছেন নাটোরের বনলতা সেন, এই বনলতা সেনটা কে? এই নামে সত্যি আপনার পরিচিত কেউ ছিল নাকি?’ উত্তরে কবি শুধুমাত্র একগাল মুচকি হাসি দিয়েছিলেন। কবি কখনো নিজের অজান্তেও এই বিষয়ে কারো কাছে কিছু বলেননি। বাঘা বাঘা সব গবেষকরাও বছরের পর বছর গবেষণা করে এই ‘বনলতা সেন’ রহস্য উদঘাটন করতে পারেন নি।

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
আমারে দু’দণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতি দূর সমুদ্রের পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সব পাখী ঘরে আসে-সব নদী-ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন;
থাকে অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

৭। এই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ জীবনে কিছুই পায়নি।
শিক্ষা, বাসস্থান, খাদ্য, বিনোদন, চিকিৎসা অথবা ভালোবাসা, কিছুই না। জীবনে কিছু না পেয়েই তখন তারা ধর্মটাকে আঁকড়ে ধরে।
আজ একটি কিশোরী মেয়ে আমাকে জানালো সে সারাদিনে ৩০০ ইট ভেঙ্গে ২৪০ টাকা পায়। সারাদিন কাজ করার পর হাত ঠোসা পরে যায়, অবশ লাগে।

৮। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য- আমাদের সমাজে কালো মেয়েদের চাহিদা নেই। রবীন্দ্রনাথ যতই বলুক- ' কালো? তা সে যতই কালো হোক দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।' সহজ সরল সত্য কথা হলো- জন্মের পর থেকেই তারা সংসারের বোঝা।
কালো রঙের মেয়েরাও যে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করতে পারে তা আমাদের অনেকেরই অজানা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে গায়ের রঙ নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। ব্যাক্তির গুনই তাদের কাছে মুখ্য বিষয়।

৯। শীতকাল হলো ওয়াজ মাহফিল এর সময়।
শহরে-গ্রামে সব জায়গায় বিশাল ওয়াজ মাহফিলের ব্যবস্থা করা হয়। বক্তারা তাদের আঞ্চলিক ভাষায় অতি রসালো ভাবে ওয়াজ করেন। দশ হাত দূরে দূরে মাইক লাগানো হয়। আমাদের দেশ যদি উন্নত কোন দেশ হতো, তাহলে শব্দ দুষনের জন্য এদের অবশ্যই জেল জরিমানা হতো।



সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৫৮
১২টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×