
আজ আমি কিছু বলব-
প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই সামু খুলি। আর মনটা খারাপ হয়ে যায়। এখনও আমাকে 'সেফ' করা হয়নি। আমার দিন শুরু হয় মন খারাপ নিয়ে। মন খারাপ থাকার কারণে- অফিসে কলিগদের সাথে তর্ক লেগে যায়, ঝগড়া হয়। বাসে কেউ আমার পায়ে পাড়া দিলে আমি আগুনের মতো জ্বলে উঠি। বাসায় সুরভি'র সাথে খারাপ ব্যবহার করি।
সাত বছরের বেশি সময় ধরে সামুতে আছি। এই সাত বছরে কখনও আমাকে 'জেনারেল' করা হয়নি। হঠাত দেখি- আমি 'সেফ' না। মাথাটা গরম হয়ে গেল। কোনো নোটিশ নেই। সারারাত ভেবেও আমি আমার অপরাধ খুঁজে পেলাম না। আমি এখন কার কাছে যাবো? সামুর অফিস কোথায়? চাঁদগাজী সাহেব আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এলেন। তারপর ব্লগার 'সত্যের ছায়া' এবং ক্লাপনিক ভালোবাসা। কিন্তু কথা হলো- সামু তো একটা পরিবার। পরিবারের মধ্যে কারো সমস্যা হলে- আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হয়। আমি কার কাছে সমাধানের জন্য যাবো? সামুর কারো মেইল এড্রেস নেই। একজন ব্লগার একটা মেইল এওড্রে দিলেন- কিন্তু সেটাতে মেইল সেন্ট হয় না। সামুতে যেখানে 'সহযোগিতা' লেখা সেই অপশনও কোনো কাজ করে না। আমার মতো, সমস্যা নিশ্চয়ই অনেক ব্লগারের হয় বা হয়েছে- তখন তারা কি করে? কার কাছে যায়?
আমাকে 'সেফ' থেকে বিনা নোটিশে 'জেনারেল' করা হয়েছে এতে আমি প্রচন্ড অপমানিত বোধ করেছি। পরে জানতে পারলাম আমার লেখার সাথে- আমি আমার নিজের ছবি ব্যবহার করেছি বলে আমাকে 'জেনারেল' করা হয়েছে। হুম, আমি মেনে নিলাম সামঞ্জস্যহীন ভাবে আমি নিজের ছবি ব্যবহার করেছি। কিন্তু সামুর সম্পাদক যদি একবার বলতেন- এই কাজ করবেন না। এটা নিয়মের বাইরে তাহলে আমি এই কাজ করতাম না। ফেসবুকে আমার নিজেরও একটা গ্রুপ আছে- ''আমার ফোটোগ্রাফী'' নামে সেখানে ৪৫ হাজারের উপরে সদস্য আছেন। এদের মধ্যে অনেকেই গ্রুপের নিয়ম ভঙ্গ করে, কিন্তু তাদের সাথে আমি খারাপ আচরণ করি না। অপমান করি না। কেউ ভুল করলে, তাদের সহজ সরল ভাষায় বলি। তাদের সময় দেয়, তারা শুধরে নেয়। এখন, সামুতে সামুর প্রধান ব্যাক্তিরা আমাকে আমার দোষ ত্রুটির কথা না জানিয়ে- আমাকে তালা মেরে দিল। আপনার হাতে পিস্তল আছে বলে, আপনি আমাকে গুলি করে দিবেন?
আপনি একজন ব্লগার। একজন লেখক। এক জন সুবিবেচক । একজন আধুনিক মানুষ। আপনি অনেক বড় এক জন দায়িত্বশীল। দেশ ও জাতিকে দেয়ার মতো আপনার অনেক কিছু রয়েছে। আপনার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি ইচ্ছে করলে অনেক কিছু করতে পারেন। আপনার একটি ছোট্ট বিন্দু সিন্দু হয়ে ভাসিয়ে দিতে পারে অত্যাচারীর মসনদ। আপনার একটি আন্তরিক আওয়াজ বাঁচাতে পারে হাজার জীবন। আপনার একটি সাহসী বাক্য গড়ে তুলতে পারে দুর্বার আন্দোলন। আপনার একটুখানি নির্দেশনায় পথ হারানো পথিক পেয়েও যেতে পারে নতুন পথের দিশা। একজন ব্লগার একজন সাংবাদিকের চেয়ে বড়। একজন সাংবাদিককে তার সম্পাদকের ইচ্ছায় লিখতে হয়। আর এজন ব্লগার কারো ইচ্ছার ধার-ধারেন না।
এই লেখাটা আমি শুরু করেছি, যেদিন আমাকে 'জেনারেল' করা হলো সেদিন থেকে। একটু একটু করে লিখছি। আজ অফিসের কাজে সারাদিন বাইরে-বাইরে ছিলাম। অফিসে ঢুকে কম্পিউটার ছেড়েই দেখি- আমি এখন 'সেফ'। যারপর নাই খুশি হয়েছি। সারা দিনের পরিশ্রম, মুহূর্তেই ভুলে গেলাম। নন্দিত ব্লগার চাদগাজী সাহেবের কাছ থেকে জানতে পারলাম- লেখার সাথে অসামঞ্জস্যহীন ছবি (আমার নিজের ছবি) ব্যবহার করার কারনে অনেক ব্লগারদের বিরক্ত করেছি। সেই সাজা ভোগ করলাম। এই সাজার দরকার ছিল আমার। এখন থেকে আমি যথেষ্ঠ সাবধান থাকবো। তবে একদিন ব্লগে কে যেন লিখেছিলেন- লেখার সাথে ছবি দিলে, তাতে পোষ্টটা দেখতে সুন্দর লাগে। এবং আমি একজন ফোটোসাংবাদিক। সারাদিন প্রচুর ছবি আমাকে তুলতে হয়- প্রয়োজনে এবং অপয়োজনে। ছবির প্রতি একটা দুর্বলতা আছে আমার।
সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। এবং র্কতৃপক্ষ কে অনেক-অনেক ধন্যবাদ। দীর্ঘদিন ধরে ব্লগে আছি, ব্লগ এবং ব্লগারদের উপর একটা মায়া পরে গেছে।
বিঃ দ্রঃ লেখার সাথে এই ছবিটা ব্যবহার করলাম। কোনো সমস্যা নেই তো? সমস্যা থাকলে বলবেন- ছবি সরিয়ে দিব। ছবিটা তুলেছিলাম- বোয়ালমারির একটা প্রাইমারী স্কুল থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




