
বাংলাদেশ দরিদ্র একটা দেশ।
ধনী লোকের সংখ্যা খুব'ই কম। কিন্তু যে ক'জন ধনী আছে তারা খুব টাকা উড়াচ্ছে। দুঃখজনক ব্যাপার হলো- দেশের উন্নতির জন্য তারা কিছু করে না। এই যে বন্যা গেল- তারা পানি বন্দি মানুষ জনের জন্য কিছুই করেনি। তবে সাধারন মানুষ যে যতটুকু পেরেছে, করেছে। এমনিতেই আমাদের সাফল্যের খবর খুব কম। চারদিকে অসংখ্য খারাপ খবর। সালমান এফ রহমান ১৩০ কোটি ডলারের মালিক। প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসাবে এ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বছরজুড়ে শীর্ষ ধনীদের নানা ধরনের খবর প্রকাশিত হয়। তাঁদের শখ, তাঁদের দান, সম্পদ ওঠানামাসহ নানা ধরনের তথ্য আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে পড়ি ও দেখি।
একজন ধনী লোকের কথা বলি- সে এবার ঈদে ৯০ টা গরু কিনেছে। দুঃখের বিষয় এই গরুর মাংস দরিদ্র কোনো লোক পায়নি। পেয়েছে মন্ত্রী, এমপি, সচিব ইত্যাদি মহামান্য সব লোকজন। তাদের বাসায় দুই কেজি বা পাঁচ কেজি নয়, পুরো একটি রান পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এবং বিশেষ লোকদের কাছে গিয়েছে আস্ত গরু। আমি ৫০ হাজার টাকা হাতে নিয়ে এক হাট থেকে আরেক হাটে গরু খুঁজে বেড়াচ্ছি। এত অল্প দামে গরু পাচ্ছি না।
রাস্তায় জ্যামের কারনে এক ধনী লোক তিনটা হেলিকাপ্টার কিনে ফেলেছে। এখন সে অনায়াসে এবং খুব অল্প সময়ে সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াতে পারে। বাংলাদেশে কৌশলী ধনীর সংখ্যাই বেশি। এক শ্রেণির ধনী আছেন, যাঁরা রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ধনী হয়েছেন। এমন সংখ্যাও ইদানিং কালে সবচেয়ে বেশি। হল-মার্ক ও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ হয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ কোথায় গেল? যারা অসৎ উপায়ে ধনী হয়েছে তাদের কেন সরকার গ্রেফতার করে না? এদেশের ধনী লোকদের টিভি চ্যনেল থাকে, দৈনিক পত্রিকা থাকে এবং ব্যাংক থাকবেই।
মনের দিক দিক দিয়ে ধনী কারা জানেন? ধনসম্পদ কি সুখী হওয়ার পূর্বশর্ত? বৈধ-অবৈধ পন্থায় যারা সম্পদশালী হয়েছেন তারা কি সত্যি সুখে আছেন, জানতে ইচ্ছা করে। আমার সাথে এক ছেলে লেখা পড়া করতো। মোটেও ভালো ছাত্র ছিল না। ছাত্রলীগ করে এখন বিশাল অবস্থা। নিজের দু'টা গাড়ি আছে। বউও দু'টা। প্রচুর টাকার মালিক হয়ে গেছে। কিভাবে সম্ভব? আমার তো দিন আনি দিন খাই অবস্থা। আমাদের পাশের বাসায় এক লোক আগে সৌদি আরবে হজের সময় আতর, তজবি আর জায়নামাজ বিক্রি করতো। দেশে এসে কন্টাকটারি শুরু করলো। এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক। ঢাকা শহরে চার টা ছয় তলা বাড়ি। কিভাবে সম্ভব? আমার পোড়া কপাল। দশ বছর আগে যেমন ছিলাম আজও তেমনই আছি।
অনুরোধঃ সামান্য কিছু টাকা হলেই তা দিয়ে বিভিন্ন বিলাসদ্রব্য কেনা অভ্যাস বন্ধ করুন। পর্যাপ্ত টাকা না আসা পর্যন্ত দামি মোবাইল ফোন, ঘড়ি, গাড়ি ইত্যাদির পেছনে এক পয়সাও ব্যয় করা যাবে না। অর্থ ব্যয় করার বদলে তা জমিয়ে নতুন করে অর্থ উপার্জনের কাজে লাগান।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



