
আপনার বয়স যদি এখন তিরিশ হয়, তবে এখন পর্যন্ত আপনি কমপক্ষে ৫১ মণ চালের ভাত খেয়েছেন। প্রথম দুই বছর বাদ দিয়ে ২৮ বছর প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২০০ গ্রাম চালের ভাত খেয়েছেন ধরলে, তিরিশ বছরে এসে দাঁড়ায় ৫১ মণ চালের ভাত। একটানা ৬৬ দিন কোনো কাজ করলে তা আমাদের ব্রেইনে স্থায়ীভাবে ইনস্টল হয়ে যায়। সেটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়। একটু খেয়াল করে দেখেন, যে কাজটি এখন আপনি অবলীলায় করতে পারছেন, সেই কাজটি একদিন আপনার জন্য কত কঠিন ছিল। নিজেই নিজেকে দোষারোপ করবেন না। আপনার সবচেয়ে আপন বন্ধু আপনি নিজে। সেই বন্ধুর পাশে থাকুন। বিজয় নিশ্চিত। হাত-পা দিয়ে নয়, গলা দিয়ে হয়, মাথা দিয়ে তর্ক খেলুন।
কারও মনে জায়গা পাওয়ার সেরা উপায় হল ভাল শ্রোতা হওয়া। সব সময় মানুষের কথা মন দিয়ে শুনুন। অন্তত ৬৫ শতাংশ মানুষ কথা শোনার সময় মোবাইল বা ট্যাবের ব্যবহার করেন। কথা শোনার সময় অন্য কাজ করলে সামনের মানুষটার অবচেতন মনে আপনার সম্পর্কে খারাপ ধারণা তৈরি হয়। ছেলে-মেয়ে, বাচ্চা-বুড়ো, সব ধরণের মানুষের মনগুলোর মধ্যে একটা যায়গায় বড় মিল: সবাই মানবিক চিন্তা করে, মানবিক অনুভূতিগুলো দ্বারা তাড়িত হয়ে। মানুষের মুখের কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে বোঝা যায় তার চরিত্র। আর সেই বৈশিষ্ট্যের উপরে নির্ভর করেই কর্মক্ষেত্রে ইন্টারভিউ নেন এইচ আর। একজন মানুষ মুখে মিথ্যে বলতে পারলেও তার শরীর কখনো মিথ্যে বলেনা। আর তাই শারিরীক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন। যেমন- চোখের পাতা কাঁপা, হাত নাড়ানো, পায়ের ভঙ্গী, শরীরের ভঙ্গি, শ্বাস নেওয়া, গলার স্বর – সবগুলোকে মনযোগ দিয়ে লক্য করুন।
বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা আজ যে সব সমস্যায় জর্জরিত- তন্মধ্যে অন্যতম হলো মানুষের মন কঠিন হয়ে যাওয়া, অন্তর পাষাণ হয়ে উঠা। বুদ্ধিমানদের উচিৎ হলো যে সব কারণে মানুষের মন কঠিন হয়ে যায় সে সব থেকে দূরে থাকা। মানুষ স্বভাবতই একজন আরেকজনের আবেগকে বুঝতে চায়। আর তাই মানুষ অন্য কারো আবেগীয় অনুভূতির ভেতরে এমনিতেই চলে যায় প্রতিনিয়ত। অন্যের সমস্যাটা আমাদের চোখে সহজে ধরা পড়ে। জন্মগত মেধাবী বা জিনিয়াস বলতে কিছু নেই। আলাদিনের চেরাগ ছাড়া রাতারাতি কিছু একটা বনে যাওয়ার চিন্তা করাটা নিতান্তই বোকামি। যে অজুহাতে আপনি আজ ঝিম ধরে বসে আসেন, অন্যজন কিন্তু ঠিকই তার কাজটা করে ফেলেছে। অজুহাতকে যত পাত্তা দেবেন, সে ততই পেয়ে বসবে।
কোনো ঘটনা ঘটলে আপনি কিভাবে তার প্রতিক্রিয়া দেখান? খেয়াল করেছেন কখনও? ইন্টারনেট মানেই সব তথ্য পাওয়া যায়— আসলেই কি তাই? আপনার প্রতিটি চাহিদা কি ইন্টারনেট থেকে পূরণ করতে পারবেন? ইন্টারনেট মানেই শেষ কথা নয়। এর বাইরে আছে বিশাল জগৎ, প্রকৃত জগৎ, ভালোবাসা, সুখ, দুঃখ, মান-অভিমান, সমস্যা আর সম্ভাবনা। আপনার ভার্চ্যুয়াল জগৎ থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রণে, ব্যবহার করবেন আপনার প্রয়োজনে। ছেলেরা ভাবে মেয়েরা খুব বোকা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবে তার উল্টোটি হয়। মেয়েরা অনেক সময় প্রেমিক পুরুষের কাছে এমনই ভাব দেখায় যে সে কিছু বুঝে না। কিন্তু আপনার অগোচরে সে আপনাকে বাজারে বিক্রি করছে আবার কিনছে। এরকম আচরণে মাধ্যমে তারা সম্পর্কটিকে তাদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে।
মানুষের প্রতিটি কাজের পেছনে একশো একটা কারণ থাকতে পারে। আমরা বোকার মতো ধরে নেই আমরা যা ভাবছি সেটাই আসল কারণ। যে ব্যক্তি নিজেকে জাহির করার জন্য কবিতা রচনা করেন তিনি কবি নামের অযোগ্য। 'কবি' শব্দটাকে তিনি অসম্মান করলেন। মানুষ একমাত্র মনের আনন্দ লাভের জন্যই কাব্য চর্চা করতে পারে, এর অন্যথা হলে বুঝতে হবে তার অন্তরে ব্যাধি আছে। আজকের সমাজে নিজেকে জাহির করার করার প্রবণতা মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে তাই মানুষ কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময় এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছে এবং কোন কিছু নিয়ে ভাবার সময় এই চিন্তাকে হাতিয়ার রুপে ব্যাবহার করছে। মানুষকে ভালোবাসুন। শুধু মানুষকে নয়, পশু-পাখি, সবকিছুকেই ভালোবাসুন। ভালোবাসলেই কেবল ভালোবাসা পাবেন।
বাংলাদেশের অনেক মেধাবী ও পরিশ্রমী ছেলে/মেয়ে আছে যারা শত চেষ্টা করলেও মন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে/মেয়ের সমান সফল হতে পারবে না। প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করুন। প্রতিনিয়ত নিজের ভুল খুঁজে বের করে তা শুধরানোর চেষ্টা করুন। সবচাইতে বড় শিক্ষা হচ্ছে নিজের উপর আস্থা রাখা, কারণ আপনার নিজের ভেতর থেকে যে চিন্তা আসে তা অনেকাংশেই সঠিক। ভুল মানুষের পেছনে সময় নষ্ট করবেন না। সময় অনেক বেশি মূল্যবান একটি জিনিস। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই জ্ঞানী আর নির্বোধ এক নয়, কিংবা চক্ষুষ্মান ও অন্ধ’ আর আমরা যারা সময় নষ্ট করি তারা কি জানি যে সময় নষ্ট করা মানে জীবনকেই ধ্বংস করা, কেননা সময় নদী গোপনে বয়ে চলে। তাইতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন ‘সময় কোথায়, সময় নষ্ট করার’।
মানুষ হিসেবে যে সম্মানটা আপনি অন্যদের কাছ হতে আশা করেন, ঠিক তেমনই অন্যদেরকে সম্মান দিতে শিখুন। যে মানুষের নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য রয়েছে এবং যিনি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য নির্দিষ্ট করতে পারেন তিনি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সব ক্ষেত্রেই সুখী থাকতে পারেন। একটাই জীবন। তাই ভালো থাকুন, ভালো বাসুন। নিজেকে ও প্রিয়জনদের ভালো রাখুন।

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




