
আজ ঈদের দিন।
ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেছে। নামাজ পড়তে পারিনি। খুব দুঃখজনক। আমি থাকি ছয় তালায়। খোজ খবর নিয়েছি, নিচে গরুর ঝামেলা শেষ তারপর আমি রাজা বাদশার মতো নিচে নেমেছি। দেখি, আমার ভাইয়েরা গাল ফুলিয়েছে। মা-ও গাল ফুলিয়ে রেখেছে। গাল ফুলিয়ে রাখাটাই যুক্তিসংগত। আমি এমন ভাব করছি যেন কিছুই হয়নি। সবাই কম বেশি ব্যস্ত। এর মধ্যে বুয়া আজ আসবে না। তিন দিনের ছুটি নিয়েছে। বুয়াদের জন্য মাংস মা ফ্রিজে রেখে দিয়েছে।
দুপুর ১২ টা।
চুপ করে খাওয়ার টেবিলে বসে পড়লাম। সব রকম খাবার সাজানো আছে। সম্ভবত এখনও কেউ খায়নি। আমিই প্রথম। পোলাঊ আছে, খিচুড়ি আছে এবং ভাত। আমি ধবধবে সাদা ভাত নিলাম। মূরগী আছে, গরুর মাংস আছে, ইলিশ মাছ ভাজা আছে। আমি নিলাম তিন টুকরো গরুর মাংস। আমার খাওয়া শেষ। দুধ সেমাই আছে। শুকনা সেমাইও আছে। পায়েসও আছে। এগুলো ছুঁয়েও দেখলাম না। ফান্টা খেলাম। এত খাবার কে রান্না করেছে কে জানে!
মৃত্যু সংবাদ।
আমার বন্ধু জাহাঙ্গীর। সৌদি থাকে। কিছুক্ষন আগে জানতে পারলাম গতকাল রাত তিনটায় স্ট্রোক করে মারা গেছে। খুবই কাছের বন্ধু। আমরা একসাথে স্কুলে লেখা পড়া করেছি। জাহাঙ্গীরের সাথে আমার খুব মাখামাখি। হাজার লক্ষ সৃতি আছে। আমাকে খুবই পছন্দ করতো। আমার জন্য অনেক টান ছিল। বেশ কয়েকবার আমাকে টাকা দিয়ে সহযোগিতাও করেছে। জাহাঙ্গীদের কথা আমি লিখব ব্লগে বিস্তারিত। জাহাঙ্গীরের মৃত সংবাদ শুনে খুব ধাক্কা খেয়েছি।
এখন বিকেল পাঁচ টা।
ভেবেছিলাম সুরভিকে নিয়ে বের হবো। জাহাঙ্গীরের ঘটনা শোনার পর আর বের হতে ইচ্ছা করছে না। আগামীকাল সুরভিদের বাসায় যাবো। রাতে আবার যাচ্ছি ঢাকার বাইরে। বাসের টিকিট অনেক আগেই কাটা হয়েছে। অথচ মনটা বড্ড অস্থির হয়ে আছে। মৃত্যু টা খুব খারাপ জিনিশ। তার কোনো সময়, অসময় নাই। বয়স নাই। আমার বন্ধুর তো আমার'ই মতো বয়স। মৃত্যুর এক মিনিট আগেও বন্ধু ফেসবুকে স্ট্রোক নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে।
এখন আর কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না। সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। ঈদ মোবারক। ভালোবাসা নিরন্তর।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



