
ঢাকা থেকে বাসে করে সোজা বান্দরবান চলে গেলাম। রাতের গাড়ি। রাতে কুমিল্লার কাছে এক রেস্টুরেন্টে কুড়ি মিনিটের জন্য ব্রেক। চা নাস্তা সামান্য খেলাম। খুব ভোরে হোটেলে উঠলাম। বাস থেকে নেমেই হটেল। তখনও আকাশ ফরসা হয়নি। ঢাকা থেকেই হোটেল বুক করে রেখেছিলাম। ঈদের সিজনে হোটেল পাওয়া খুব কষ্ট। তাই বান্দরবান থানার ওসি সাহেবের সহযোগিতায় হোটেল পেলাম। হোটেলের সবাই বারবার বলছিল ওসি সাহেবের গেস্ট।
বান্দরবানে কক্সবাজারের মতো বেশি হোটেল নেই। এবং খাওয়া দাওয়া করার জন্য খুব বেশি রেস্টুরেন্টও নেই। পুরো বান্দরবানে যে পরিমান হোটেল আর রিসোর্ট আছে তাতে তিন হাজার লোকের থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ঈদ বা অন্যান্য ছুটি ছাটায় অনেক লোক বান্দরবান যায়। তাদের বিপাকে পড়তে হয়। এই সুযোগে হোটেল আর রিসোর্টওয়ালারা ভাড়া খুব বেশি বাড়িয়ে দেয়। সরকারের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।

আমি উঠেছি বান্দরবানের সবচেয়ে বড় হোটেলে ''হোটেল হিল ভিউ'' তে। পচিশ শ' টাকা করে পার নাইট। খুব ভোরে নীলগিরিতে রওনা দিলাম। বান্দরবান থেকে নীলগিরি অনেক দূর। ৪৫ মাইল তো হবেই। রাস্তা খুব ভয়াবহ। একদম আঁকাবাঁকা রাস্তা। একটু ইনিশ বিশ হলে কমপক্ষে তিন শ' ফিট নিচে। মানে নিশ্চিত মৃত্যু। এই আঁকাবাঁকা রাস্তা গুলো খুব ছোট। পাশাপাশি দুইটা গাড়ি চলাচল করতে খুব ঝামেলা। রাস্তা গুলো আরেকটু বড় করা খুব জরুরী।
নীলগিরিতে যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করতে হয়। কোনো গাড়ি চার হাজার টাকা নেয়, আবার কেউ সাত হাজার বা আট হাজার টাকা নেয়। নিদিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। যার কাছ থেকে যা নিতে পারে। তবে বেশ কয়েকজনের কাছে যাচাই বাছাই করলে কম টাকায় পাওয়া সম্ভব। আমি বলব, নীলগিরির সৌন্দর্য অনেকখানি নষ্ট হয়ে গেছে। সেনাবাহিনির হাতে নীলগিরির দায়িত্ব। তারা ভালো করতে গিয়ে খারাপ করে ফেলছে। ইট সিমেন্টে কাজ করেছে।

সেনাবাহিনির বুদ্ধির কারনে, নীলগিরিতে প্রাকৃতিক ব্যাপারটা অনেক কমে গেছে। ইট, পাথর, টাইলস আর স্টীল দিয়ে তারা চেষ্টা করেছে পুরো নীলগিরি ডেকে দিতে। এইসবের কারনে প্রাকৃতিক পরিবেশটা ভালোভাবে উপভোগ করা যায় না। পাহাড়ের উপর এক একটা রেস্টুরেন্ট করেছে। মানুষজন ইচ্ছা মতো চিপসের খালি প্যাকেট, কফি'র ওয়ান টাইম গ্লাস ইত্যাদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যা দেখতে ভালো লাগে না। মনে হচ্ছে এই পর্যটন কেন্দ্রটা এখন ব্যবসার কেন্দ্র।
আমি বারো বছর আগে যখন প্রথম নীলগিরিতে যাই তখন পরিবেশটা বড় চমৎকার ছিল। তখন টিকিটও কাটতে হতো না পঞ্চাশ টাকা করে। সেনাবাহিনীর নীলগিরি পাহাড়ের উপর করা রেস্টুরেন্টের খাবারের মান খুব খারাপ। দুই বক্স খাবার কিনলাম কিন্তু এক চামচ মুখে দেওয়ার পর দ্বিতীয় চামচ মুখে দিতে ইচ্ছা করে নাই। কফি'র মানও খুব খারাপ। এখানে ব্যবসা খুব ভালো। সার্ভিস উন্নত না।

সুরভি খুব উপভোগ করেছে। সে আগে আসেনি বান্দরবান। যে মানূষ হাঁটতে চায় না, সে সারা বান্দরবান হেঁটে বেড়িয়েছে অনেক আনন্দ নিয়ে। আমাকে মোটেও বিরক্ত করেনি। বান্দরবান পাহাড় গুলোতে কলার চাষ খুব ভালো হয়। কিছু কিছু কলা গাছ আপনাতেই হয়। সেগুলো জংলী কলা বলে। দামও খুব সস্তা। ডাব পাওয়া যায়, পঞ্চাশ টাকা করে। এক ধরনের পাহাড়ি ফল পাওয়া যায়, ছোট ছোট। দেখতে গোল, মার্বেলের মতো সাইজ। 'টিপাফল' টাইপ নাম। এক কেজি কিনলাম।
প্রচন্ড আঁকাবাঁকা রাস্তা। দুই পাশে বিশাল বিশাল পাহাড় আর পাহাড়। মেঘ এসে পাহাড় ডেকে দিচ্ছে। আবার মুহূর্তের মধ্যে মেঘ কেটে যাচ্ছে। প্রতিটা পাহাড় সবুজ। পাহাড়ের গায়ে নানার রকম গাছ পালা। যা দেখতে চমৎকার লাগে। অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। পাহাড়ের পাশ দিয়ে আঁকা বাঁকা নদী। তবে পানি খুব কম। এই সমস্ত সব পাহাড়ের মালিক শুধু সরকার না। স্থানীয় আদীবাসীদেরও মাইলের পর মাইল পাহাড় আছে। তারা সেখানে চাষবাস করে।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




