
এই গ্রহের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রানী মানুষ। আবার এই গ্রহের সবচেয়ে দুষ্টলোকও মানুষ। একবার অন্ততপক্ষে ভাবুন- সে(মানুষ) কেন পৃথিবীতে এসেছে? সে কেন আরেকজনের শান্তি নষ্ট করবে? এই পৃথিবীতে একজন মানুষ কেন আসে? শুধু লেখা পড়া করে চাকরি করার জন্য? বিয়ে করে বাচ্চা উৎপাদন করার জন্য? যে রিকশা চালায়, সে কি সারা জীবন শুধু রিকশা'ই চালাবে? তারপর মরে যাবে? যে সরকারি অফিসে দশটা পাঁচটা কাজ করে, সারা জীবন এই কাজ করেই মরে যাবে? অথবা যে ব্যবসা করে, সারা জীবন ব্যবসা করেই, অনেক টাকা কামিয়ে মরে যাবে? এ জন্যই তারা পৃথিবীতে এসেছে?
কোথায় যেন পড়েছিলাম- যারা শুধু মাত্র চাকরির জন্য লেখা পড়া করে তারা দেশের মেরুদন্ড টাই নড়বড়ে করে দেয়। আমরা এই পৃথিবীতে এসেছে- আমাদের অনেক দায়-দায়িত্ব আছে। আমরা পৃথিবীর কাছে ঋণী। এই ঋণ শোধ করার জন্য আমাদের সবার কিছু না কিছু করা উচিত। সবাই যদি একটু একটু করে কিছু করি- তাহলে এই পৃথিবী ঝকমক করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক আকাশ আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। আপনার যদি টাকা পয়সা না থাকে, অন্ততপক্ষে একটা গাছ লাগান রাস্তার পাশে। যত্ন দিয়ে গাছটা বড় করতে সহায়তা করুন। একসময় এই গাছ আপনাকে অনাবিল আনন্দ দিবে-শান্তি দিবে।
আমি জানি আমাদের সমাজে 'বদ' লোক দিয়ে ভরা। একজন আরেকজনের যে বেশি 'বদ'। বিরাট বদ। এই বদ লোক গুলোকে ভালো করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের'ই। তারা কেন এবং কিভাবে বদ হলো একবার ভেবে দেখুন। সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো- আমাদের দেশের বেশীর ভাগ লোকই ভালো। বিশ্বাস করুন একজন সহজ সরল ভালো মানুষ। তারা একে অন্যের বিপদে এগিয়ে যায়। এই যে কিছু দিন আগে পানি বন্ধি মানূষের জন্য তারা যে যা পেরেছে ত্রান নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। তাদের সাধ্যমত করতে চেষ্টা করেছে। কারো রক্তের প্রয়োজন হলে- গভীর রাতে ছুটে যায় হাসপাতালে। তবে বেশ কিছু বদ লোকের কাজ কর্মে আমি প্রচন্ড হতাশ। খবরের কাগজ থেকে কিছু বিষয় আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। পড়ুন। এবং মানূষের মানসিকতা বুঝুন। এবং এর থগেকে পরিত্রানের উপায় বের করুন।
রুপসী বাংলা হোটের সামনে দেখবেন- যখন ট্র্যাফিকে গাড়ি থামে তখন, ভিক্ষুক ভিক্ষা চায়, কেউ নকল বই বিক্রি করে আবার কেউ ফুল বিক্রি করে। আমাদের দেশে যার যা আছে বা নেই সবাই সেই আছে বা নেইকে একটা ব্যাপারেই পুঁজি করতে চায়। সেটা হলো- ভিক্ষা। যার একটা হাত নেই- সে সেই নেইটাকে ভিক্ষের কাজে লাগায়। ভিক্ষে করতে শেখায়- আমাদের সরকার। সরকার নিজেই পৃথিবীতে সবচেয়ে নির্লজ্জ ভিখিরি। এ দেশে কত সম্পদ আছে, কোথায় কী পাওয়া যায়, আমাদের সত্যিকারের অভাব কতখানি তা কেউ খুঁজে দেখেনি আজ পর্যন্ত। খুঁজলে দেখা যবে, আমাদের দেশে রিসোর্সের অভাব নেই। শুধু খুঁজে দেখা হয়নি এই যা। সমাজে নানান রকম দুষণ বাড়ছে তো বাড়ছেই। দেশ নিয়ে ভাবলে আমার জীবনে একটুও শান্তি থাকে না। মাথা এত গরম হয়ে যায় যে, রাতে ঘুম আসতে চায় না। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আছে।
আসলে আমি বলতে চাই- মানুষের উচিত ( পৃথিবীতে যেহেতু সে এসেছে) তাই পৃথিবীর জন্য কিছু করা। শুধু চাকরি বা ব্যবসা করে একটা জীবন পার করে দিলে হবে না। পৃথিবীকে ভালোবাসতে হবে। ভেবে দেখুন মার্কিনীরা পারমানবিক বোমা বানাচ্ছে। বরফ গলে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত মানুষের লোভের জন্য পৃথিবীর ওজন বাড়ছে। বন জঙ্গল উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। কাজেই পৃথিবীর যত্ন না নিলে, পৃথিবী কঠিন প্রতিশোধ নিবে আমাদের ওপর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোথায় রেখে যাবেন? আপনার আদরের ছেলে মেয়েকে কোন পৃথিবীকে রেখে যাবেন? তারা কিভাবে বাঁচবে? কাজেই আমাদের অনেক দায়-দায়িত্ব আছে। আর দায়িত্ব অবহেলা করা মানে নিজের ভবিষ্যৎ প্রন্মের ক্ষতি করা।
যদি এমন হতো, ভেবে দেখুন- পৃথিবীতে কোনো দুষ্টলোক নেই। কোনো অস্ত্র নেই। সবাই সবাইকে ভালোবাসে। হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই, লোভ নেই। একজনের সমস্যায় অন্যজন ঝাঁপিয়ে পড়ছে তাকে সাহায্য করার জন্য। দেশে কোনো খাদ্যাভাব নেই। কৃষক ফসল ফলাচ্ছে। মানুষ গাছ লাগিয়ে লাগিয়ে পুরো পৃথিবীটা সবুজ বানিয়ে ফেলেছে। নদী ভর্তি মাছ। জেলেরা ঝাল ফেললেই মাছ আর মাছ। দেশে কোনো চোর নেই, ছিনতাইকারী নেই। কেউ ঘুষ খায় না। দুর্নীতিবাজ লোকরা সবাই সৎ হয়ে গেছে।
এই দেশে কিছু লোকের এত পরিমান টাকা আছে যে, তারা ইচ্ছা করলে দশটা গ্রামের রাস্তা পাকা করে দিতে পারে। প্রাইমারী স্কুল গুলো বিল্ডিং করে দিতে পারে। কাল্ভাট করে দিতে পারে। আর্সেনিক মুক্ত পানির ব্যবস্থা করে দিতে পারে। তাদের টাকা আছে কিন্তু তারা কেন এই কাজ গুলো করে না? মৃত্যুর পর তো তারা টাকা কবরে নিয়ে যাবে না। এই জন্য'ই বলেছি সবার আগে পৃথিবীকে ভালোবাসতে হবে। পৃথিবীর মানুষকে ভালোবাসতে হবে। একটা বিশ্ব সম্মেলন করে সারা পৃথিবীর সব মানুষ মিলে এই পৃথিবী নামক গ্রহটাকে সুন্দর করে সাজানো সম্ভব।
পৃথিবী আপনাকে ততটুকুই দিবে, আপনি পৃথিবীকে যতটুকু দিবেন। ভেরি সিম্পল ইকুয়েশন। কাজেই, ডু সামথিং ব্যাটার, ডু সামথিং ডিফারেন্ট।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



