
মোটিভেশন একটা লাঠি হতে পারে মাত্র, সম্পূর্ণ পাহাড় বেয়ে উঠতে হবে নিজেকেই। সাফল্যের শতকরা পঁচানব্বই ভাগই নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিজের উপর। একজন মানুষের জন্য, ভালো মানুষ হওয়াটাই হলো সফলতা। ভালো মানুষ না হতে পারলে ডাক্তার ইঞ্জিয়ার, পাইলট বা শিল্পপতি হয়ও লাভ নেই। আগে ভালো মানুষ হন। আমাদের সমাজে ভালো মানুষের খুব অভাব। বৃষ্টির সময় প্রত্যেক পাখিই কোথাও না কোথাও আশ্রয় খোঁজে। কিন্তু ঈগল মেঘের ওপর দিয়ে উড়ে বৃষ্টিকে এড়িয়ে যায়। তাই আমদের উচিত জীবনে চলারপথে যত বাধাবিঘ্ন বা ব্যর্থতাই আসুক না কেন। সেটাকে এড়িয়ে যেয়ে সাফল্যকে ছিনিয়ে আনা। জীবনে বাঁচতে হলে চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাঁচুন। জীবন তো একটাই। একটা ছেলের জীবনে বাস্তবতা আসে ২১ বছর বয়সে। সক্রেটিস একজন দার্শনিক ছিলেন, মোটিভেটর ছিলেন না। তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর দিতেন না। শুধু কেউ প্রশ্ন করলে পালটা প্রশ্ন করতেন, প্রশ্নকর্তারে দিয়াই উত্তর বাইর করানোর চেস্টা করতেন।
অনুপ্রেরণাকে পুঁজি করে সফল ব্যবসা করা যায়। কিন্তু মনে রাখবেন সাফল্যের শতকরা পঁচানব্বই ভাগই নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিজের উপর। আপনি বিশ্বাস করুন, মনে প্রানে বিশ্বাস করুন- এবং বার বার নিজেকে বলুন যে আপনি পারবেন। কোন সমস্যার ৭০ থেকে ৮০ ভাগই সমাধান হয়ে যায় যদি সমস্যাটিকে যথার্থভাবে চিহ্নিত করা যায়। আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা নিজেরাই জানেন না যে তাদের সমস্যা কোথায়। তাই নিজের অবহেলায় জীবনের সুন্দর সময়গুলো হারিয়ে যায় হতাশা আর দীর্ঘ নিঃশ্বাসের অতল গহ্বরে। নিজেকে উৎসাহিত করতে মানুষ অনুপ্রেরণার খোঁজ করে। বিভিন্ন লেখা পড়ে, লেকচার শুনে, ভিডিও দেখে মানুষ অনুপ্রাণিত হতে চায়, কঠোর পরিশ্রমের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে চায়। দুঃখ যখন মানুষকে বিহ্বল করে দেয়, তখন অনুপ্রেরণা যাদুর মতো কাজ করে। কাউকে মোটিভেশন দেওয়া সহজ কিন্তু একটা চাকরি যোগাড় করে দেওয়া সহজ নয়। অনেকেই বড় বড় কথা বলবে, খুব ভাব দেখাবে কিন্তু একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবে না। কাজেই যে লোক গুলো ভাব দেখাবে তাদের বলবেন, পক পক বন্ধ করে পারলে একটা চাকরি দিয়ে দেখান।
ভালো মানুষদের সাথে মিশুন। ভালো মানুষদের সাথে সব সময় যোগাযোগ অব্যহত রাখুন। তাদের সাথে নানান বিষয় নিয়ে গল্প করবেন। নতুন নতুন মানুষদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবেন। এগুলো আপনার মোটিভেশন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখুন। এবং স্বপ্ন গুলো বাস্তবায়ন করার জন্য উঠে পড়ে লেগে থাকুন। প্রচুর বই পড়বেন। সব রকম বই পড়বেন। (যখন আপনি একজন লেখকের বই পড়েন, তার চিন্তাচেতনার কয়েক বিন্দু আপনার ভেতর রয়ে যায়।এভাবে বিন্দু বিন্দু ব্রিলিয়ান্স নিয়ে আপনি একসময় সূর্যের মত উজ্জ্বল হতে পারেন।) নিজেকে সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। ভালো-সুন্দর পোশাক পড়ুন। সকালে ঘুম থেকে উঠেই সারাদিন কি কি করবেন একটা খসড়া করে ফেলুন। তাতে বেশ সুবিধা হবে। খাবারের প্রতি মনযোগী হতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি খুব নজর রাখতে হবে। ঘুম দরকার। খুব দরকার। কমপক্ষে একটানা আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। সুন্দর ঘুম হলে পরের দিনটা আপনার বেশ সুন্দর কাটবে। অবশ্যই রাত বারোটার আগে ঘুমিয়ে পড়বেন। মহান ব্যাক্তিদের কিছু কিছু মহান বানী আছে- যা বারবার পড়া উচিত। অন্ততপক্ষে প্রতি সপ্তাহে দুই বার করে। এইসব বানী আপনাকে মোটিভেট করবে।
একটা ভালো বই পড়ার মানে হচ্ছে ১% করে নিজের চিন্তাচেতনার উন্নতি করা। ইউটিউবে একটা ভালো লেকচার দেখাও তাই। একটা ভালো মুভি দেখাও একই রকম কাজ করে। যারা জীবনে সাফল্য পেয়েছেন তারাই মোটিভেশনাল স্পিচ দিতে পারেন। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন।নিজেকে ভালোবাসুন।নিজেকে প্রস্তুত করুন।মনে করুন জীবনটা একটা বিশাল বই।এর প্রত্যেক পৃষ্ঠা ভালোভাবে পড়ুন।নিজেকে জানুন।নিজের উইকপয়েন্ট গুলো খুজে বের করুন।সংশোধন করুন। আপনি নিজেই একজন মোটিভেশনাল স্পিকার, আপনাকে মোটিভেট করতে আপনিই পারবেন।
আমরা যে কাজটা সব থেকে বেশি ভুল করি তা হলো- আমরা শক্তিশালী মানুষের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পছন্দ করি আর দুর্বলদের অবহেলা করে পেছনের সারিতে ফেলে দেই। এটা না করে আমরা যদি দুর্বলদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে তাকে সামনে আসার সাহস দিতে পারি তাহলে সেটাই হতে পারে আমাদের সফলতা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১২:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





