
সকালে ঘুম থেকে উঠে শাহেদ জানতে পারে আজ তার ষষ্ঠ বিবাহ বার্ষিকি।
নীলা আজ শাড়ি পরেছে। নীলার শাড়ি পরা দেখলেই শাহেদ বুঝতে পারে আজ বিশেষ একটি দিন। নীলা সব সময় শাড়ি পরে না। বিশেষ দিন গুলোতে সে শাড়ি পড়বেই। সকালে নাস্তার টেবিলে বিরাট আয়োজন দেখে শাহেদ অবাক! আফগানি পরোটা, সুজির হালুয়া, সবজি, ডিম পোচ, নেহারি। ফ্রিজ তো আজ তিন দিন ধরে খালি। এগুলো নীলা কিভাবে ব্যবস্থা করলো কে জানে!
শাহেদ বলল, নীলা তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।
নীলা বলল, আমি তো সাজিনি।
শাহেদ বলল- বাঙ্গালী মেয়েদের সাজতে হয় না। শুধু চোখে মোটা করে কাজল আর কপালে একটা টিপ পড়লেই অনেক সুন্দর লাগে।
নীলা কখনও কোনো কিছু নিয়েই অভিযোগ করে না। শাহেদ জানে তার ঘরে কি আছে না আছে। কোনটা কম প্রয়োজন, কোনটা বেশি প্রয়োজন। গত দুই সপ্তাহ শাহেদ বাজারে যায়নি। শাহেদ-নীলার একমাত্র মেয়ে পরী ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছে। শাহেদ মনে মনে তিন বার বলল- ইলিশ! ইলিশ! ইলিশ! শাহেদ প্রতিদিন সকালে নাস্তা করে বেলকনিতে বসে খবরের কাগজ পড়ে এবং চা খায়। দূর থেকে নীলা এই দৃশ্যটা রোজ দেখে, তার বড় ভালো লাগে। শাহেদ আরাম করে বসে খবরের কাগজ পড়ছে আর চা খাচ্ছে- এই দৃশ্যটা নীলার কাছে অনেক দামী। পরীর স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। নীলা পরীকে আনতে যাচ্ছে। শাহেদের ইচ্ছা করলো নীলার সাথে যেতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গেল না। সময় দ্রুত চলে যায় অথচ অনেক সহজ ইচ্ছা গুলোও পূরন হয় না।
শাহদের অনেক গুলো এটিএম কার্ড আছে। কোনটাতে কত টাকা আছে শাহেদ জানে না। আদৌ টাকা আছে কিনা সেটাও নিশ্চিত না। আজ তার বিবাহ বার্ষিকি। স্ত্রী আর কন্যার জন্য অবশ্যই কিছু কেনা প্রয়োজন। বিশেষ দিন গুলোতে 'বিশেষ' কিছু ব্যবস্থা করা দরকার। তার ইচ্ছা ছিল এবার বিবাহ বার্ষিকি কাটাবে আন্দামানে। হুট করে চাকরি চলে যাওয়াতে সব বড্ড এলোমেলো হয়ে গেছে। খুব কঠিন সময় যাচ্ছে। চারদিক থেকে কোনো আশার আলোও দেখা যাচ্ছে না। দিনদিন পরিস্থিতি খুব খারাপ হচ্ছে। শাহেদ মতিঝিল চলে গেল। এখানে সব রকমের ব্যাংক আছে। শাহেদ তার সব গুলো এটিএম কার্ড চেক করলো। পাঁচটা কার্ড থেকে সব মিলিয়ে টাকা পাওয়া গেল সতের হাজার টাকা। এই সতের হাজার টাকাই তার শেষ সম্বল।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি শাহেদ তের হাজার টাকা দিয়ে নীলার জন্য একটা শাড়ি কিনে নিল। চমৎকার শাড়ি। সাদার মধ্যে সাদার কাজ করা। এই শাড়ি পড়লে নীলাকে কেমন লাগবে তা শাহেদ বেশ কয়েকবার তার মনের চোখ দিয়ে দেখে নিল। পরীর জন্য চারটা বড় ইলিশ মাছ কিনলো। দাম পড়লো পচিশ শ' টাকা। মাছ গুলো খুব ভালো হয়েছে। একদম ঝকমক করছিল। মনে হচ্ছিল মাছ গুলো বুঝি এখনই নদী থেকে ধরা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা- চারটা মাছেই ডিম আছে। পরী আর তার ইলিশ মাছের ডিম অনেক পছন্দ। অনেকে বলে ডিমওয়ালা ইলিশের স্বাদ কম হয়। একথা শাহেদ একটুও বিশ্বাস করে না। শাহেদ বাসায় ফিরলো। নীলা শাড়ি আর মাছ দেখে প্রচন্ড অবাক! পরী মাছ দেখে খুশীতে লাফাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি দেখা- বিরাট আনন্দের ব্যাপার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

