somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ৪

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঘরের সাদা সিলিং ফ্যানটা কুচকুচে কালো হয়ে গেছে। এক গত মাস ধরে ভাবছি পরিস্কার করবো। কিন্তু পরিস্কার আর করা হয় না। আজ ঘুম থেকে উঠেই ফ্যান পরিস্কার করতে লেগে গেলাম। সুরভি শুরু করলো ঘ্যান ঘ্যান- ঘুম থেকে উঠছো আগে ফ্রেশ হও, নাস্তা খাও। পুরো ফ্যান পরিস্কার করতে আমার এক ঘন্টা সময় লাগলো। এখন ফ্যানটা চকচক করছে, মনে হচ্ছে এই মাত্র দোকান থেকে কিনে এনে লাগানো হয়েছে। বাতাসও মনে হয় আগে থেকে কিছু বেড়েছে। যাই হোক, আমি ফ্রেশ হয়ে নিচে নামলাম। এখন হোটেলে যাবো- নাস্তা খাবো। শুক্রবার আমরা হোটেলের নাস্তা খাই। আজ সুরভি নাস্তা খাবে না। সে রোজা রেখেছে। আমি মেয়েকে নিয়ে নাস্তা খেতে গেলাম।

গতকাল থেকে ছাদের টাংকির অটো-সুইচ টা কাজ করছে না। নাস্তা শেষ করে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি নিয়ে বাসায় ফিরলাম। মিস্ত্রি বলল- অটোসুইচ নষ্ট হয়ে গেছে। আমি বললাম, আপনি'ই তো গতমাসে এই অটোসুইচ লাগিয়ে দিলেন, বললেন, এটা জাপানী সুইচ কমপক্ষে দুই বছর যাবে। আর দুই মাসও গেলো না! মিস্ত্রি বলে, আপনারা সুইচ বেশি ব্যবহার করেছেন- তাই নষ্ট হয়ে গেছে। আমি বললাম, পুরো বাড়িতে ১০/১২ জন লোক থাকে। কাজেই সুইচ খুব বেশি ব্যবহার করা হয়নি। মিস্ত্রি ঘ্যানঘ্যান শুরু করেছে। আসলে মিস্ত্রিজাতটাই খারাপ। ওরা এরকমই- নিজেকে বুঝালাম। এই সমস্ত কাজ গুলো আমার মা দেখাশোনা করে। কিন্তু মা আর ছোট গেছে কলকাতা। মিস্ত্রির সাথে আর কথা না বলে আমি চলে এলাম উপরে। আজ জুম্মাবার, নামাজ পড়তে হবে।

আজ দুপুরে দারুন খানাপিনা হলো। সুরভি ইলিশ মাছ রান্না করেছে দুই রকম করে। একটা হলো ভেজে ভূনা আরেকটা হলো সাদা ইলিশ। বেশি করে পেয়াজ দিয়ে। ভূনাটায় আছে ডিম। ইলিশ মাছের ডিমের মতো খাবার আর না। আরেকটা আইটেম আছে করলা দিয়ে ইলিশ মাছের ডিম। সুরভি এমনভাবে রান্না করে করলা একটুও তিতা লাগে না। ডাল তো থাকেই। ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কলমি শাক। খেতে দারুন। খেতে বসেছি তখন দোতালা থেকে ভাবী একবোল তেহারি পাঠিয়েছে। সাথে এক বোতল ফানটা। ভাবী জানেন আমি ফানটা পছন্দ করি এজন্য সে সব সময় খাবারের সাথে ফানটা পাঠায়। দুপুরে আমি আর পরী খেলাম। সুরভি রোজা। আসলে সে ডায়েট করছে। ডায়েট করে লাভ নেই। যখন মোটা হবার সময় হয়- তখন পানি খেলেও মানুষ মোটা হয়।

বিকেলে গেলাম ছাদে। পেয়ারা গাছটার আগাছা পরিস্কার করলাম। গত বছর এই পেয়ারা গাছে অনেক গুলো পেয়ারা হয়েছিল। মাঝদিয়ে অনেকদিন গাছের যত্ন নেওয়া হয় নাই, কড়া রোদ ছিল। রোদে গাছ প্রায় পুড়েই গিয়েছিল। সেখান থেকে যত্ন দিয়ে-দিয়ে গাছটাকে বাঁচিয়ে তুলেছি। পেয়ারার ফুল এসে গেছে- আশা করি এবার অনেক পেয়ারা পাবো। পেয়ারা গুলো অনেক মিষ্টি। কিন্তু আম গাছটা শান্তি দিচ্ছে না। পাঁচ বছর ধরে একবারও ফল দেয়নি। অনেক যত্ন করেছি। পাশের বিল্ডিং এর আম গাছে বারো মাস আম ধরে থাকে। এবার যদি আম না দেয় তাহলে এটা ফেলে দিব। অবশ্যই ফেলে দিব। এবছর একটা হিমসাগর আম খেয়ে আমি এই আমের গাছের ড্রামে ফেলেছি। সেটা তরতর করে বেড়ে উঠেছে।

মিস্ত্রি ব্যাটা টাংকির অটোসুইচ ঠিক করে দুই হাজার টাকার একটা মেমো ধরিয়ে দিয়ে গেছে। আমি বলেছি, মা আসুক। মার কাছে দিও। সে বলে তাইলে চায়ের পয়সা দেন। আমি দশ টাকা দিলাম। মিস্ত্রি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো। নিচে ময়লার স্তূপ জমে গেছে। সবাই তাদের রান্না ঘরের ময়লা এনে নিচে জমা করেছে। মা বাসায় নেই আজ চার দিন। নিচের কলাপসিবল গেট থাকে লাগানো। ময়লাওয়ালা এসে ফিরে গেছে। মা এসে হইচই শুরু করবে নিশ্চিত। আমার মা খুব হইচই করে। আমি নিশ্চয়'ই ময়লা গুলো নিয়ে রাস্তার অই পারে গিয়ে ফেলে দিয়ে আসতে পারি না। আমার ছোট ভাইটাকে বললাম- ময়লা গুলো ফেলানোর ব্যবস্থা কর। পুরা বাড়ি গন্ধ হয়ে গেছে। সে আমার কথা গায়েই মাখলো না!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৪
২৩টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×