
মাসুম সাহেব পরকীয়া করেন।
প্রচন্ড বুদ্ধিমান এবং স্মার্ট। তিনি ফেসবুক থেকে পরকীয়া করার জন্য নারী বেছে নেন। তারপর খুব ধীরে ধীরে বরশি ফেলেন। তিনি এমন নারী'ই বেছে নেন যার সাথে পরকীয়া করা যায় বিনা দ্বিধায় এবং অযথা জুটঝামেলা হবে না।। এ পর্যন্ত তিনি অনেক গুলো পরকীয়া করেছেন। এবং সব গুলোতেই সাকসেস। যে পর্যন্ত তিনি বিছানায় না নিতে পারেন ততদিন পর্যন্ত তার কার্যক্রম চলতেই থাকে। এমন কখনও হয়নি তিনি টোপ ফেলেছেন আর কোনো নারী ধরা দেয়নি। তার ধারনা নারীরা ধরা দিতেই বসে আছে। বিছানায় নেওয়ার জন্য একজন নারীর পিছনে তার একমাস সময় ব্যয় করতে হয়। একজন নারীকে তিনি ছয় মাস ব্যবহার করেন। তারপর আর ভালো লাগে না। তখন আবার নতুন শিকার ধরার জন্য বরশি ফেলেন। গত দশ বছর ধরে এমনই চলছে। এই ব্যবসা বেশ রমরমা। তাদের চ্যাটিং দেখলেই বুঝা যায়- পরকীয়া প্রেম কতটা ভয়ানক হতে পারে।
ফেসবুকে অসংখ্য নারী আছে ডিভোর্সি। স্বামী নাই, স্বামী ছেড়ে চলে গেছে, স্বামী বিদেশ থাকে, তালাক হয়ে গেছে, স্বামীর সাথে বনিবনা হয় না, বয়স হয়ে গেছে- বিয়ে হয় না, দেখতে সুন্দর না, অথবা স্বামী আছে কিন্তু স্বামী স্ত্রীর প্রতি মনযোগ নেই, অল্প বয়সী মেয়ে এদের আবেগ বেশি- অল্পতেই এদের কাবু করা যায়। মাসুম এধরনের নারীদের বেছে নেয়। এরা অল্পতেই গলে যায় অথবা বলা যায় অল্পতেই এদের আয়ত্ত করা যায়। মাসুম গত একযুগ ধরে এমনটা করেই যাচ্ছে গভীর গোপনে। কেউ জানে না, কেউ টের পায় না। আর কেউ টের পেলেও মাসুমের কিছু যায় আসে না। মাসুমের মতো লোক এসমাজে অভাব নেই। তারা সারাক্ষন ওৎ পেতে বসেই আছে। মেয়ে গুলো অনায়াসেই ধরা দেয়। মাসুমরা উপভোগ করে যায়। আর মেয়ে গুলোও যেন কেমন- বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গুলোও মেনে নেয় হাসিমুখে। গত বারো বছর ধরে ফেসবুকের কল্যানে মাসুমদের সময় বেশ ভালো যাচ্ছে। এদের পেছনে খুব বেশি টাকাও খরচ করতে হয় না। হোটেলে গেলে এর চেয়ে বেশি টাকা লাগে।
কথার জালে, মিথ্যা ভালোবাসার টানে, মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে মাসুম এইভাবে দিনের পর দিন বহু নারী উপভোগ করে যাছে। নানান গিফট দিচ্ছে, নানান গিফট পাচ্ছে। তিন মাস ছয় মাস লাগিয়ে উপভোগ করে তারপর ইচ্ছা করে একটা ঝগড়া লাগিয়ে সম্পর্কে ইতি টেনে দেয় মাসুম। মেয়েটা বেশ কয়েকদিন মন খারাপ করে থেকে তারপর আবার অন্য একজনের দিকে পা বাড়ায়। এদিকে মাসুমও যায় নতুন শিকারের সন্ধানে। অনেক ধনী নারী বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী ভাবেন- যদি কিছু ঘটে তো ঘটুক। খুব বোরিং দিন যাচ্ছে। নিজের শরীরেও একটা চাহিদা আছে। চাহিদা মেটানো দরকার। জীবনটা তো খুব ছোট কিছু ঘটলে ঘটুক। মরে তো যেতেই হবে আনন্দ করেই মরি। এই ভেবে নারীরা পা বাড়ায়। আর মাসুম মজা লুটে নেয়। এরকম বহু নারী আছে, বহু মাসুম আছে এই সমাজে। এরকম মাসুমকে হয়তো আপনিও চিনেন-জানেন। সবই গভীর গোপন। এরকম সম্পর্ক গুলোতে মামলা মোকাদ্দমার ঝামেলা নেই। মেয়েরা তো আর চিৎকার করে বলতে পারে না মাসুম তাদের সাথে কি কি করেছে! রাতের বেলা একটা কেবিন নিয়ে বরিশালের লঞ্চে উঠে গেলেই হলো। অথবা কোনো হোটেলে। অনেক সময় মেয়েটাই ফোন করে বলে- বাসায় কেউ নেই। চলে আসো। মেয়েটা লজ্জা মাখা গলায় বলে কনডম নিয়ে এসো।
প্রতিটা নারী পুরুষের মনে রাখা দরকার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক মানেই একটি বিষাক্ত সম্পর্ক। আরও মনে রাখা দরকার আপনি ওই ফেসবুক বন্ধুর সঙ্গে যে আকর্ষণে দেখা করেছেন সেটা অল্প সময় পরে উবে যাবে। এটা স্বছ-পবিত্র প্রেম বা ভালোবাসা নয়। এটা মোহ। মোহ বেশি দিন থাকে না। হৃদয় দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করুন- মোহ সাময়িক। মানব জীবন অনেক বড় ব্যাপার। তাই ইতিবাচক জীবন কাটান। যারা ফেসবুকের মাধ্যমে এই সমস্ত বাজে কাজ করে বেড়ান তাদের বলল, ফেসবুকিং বাদ দিয়ে ব্লগিং করুন। লিখুন, পড়ুন। অনেক আনন্দ পাবেন। খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকুন। অসামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করে কি দরকার নিজের গায়ে দাগ বসাবার। পরিস্কার থাকুন। পরিচ্ছন্ন থাকুন। পবিত্র থাকুন। এই মোহটা বাদ দিতে পারলেই আপনি জয়ী হতে পারবেন। আসলে, অল্প কিছুক্ষনের আনন্দের চেয়ে আমৃত্যু স্বস্তিতে থাকতে পারাটা অনেক বড় গুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

