somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

পরকীয়া

২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মাসুম সাহেব পরকীয়া করেন।
প্রচন্ড বুদ্ধিমান এবং স্মার্ট। তিনি ফেসবুক থেকে পরকীয়া করার জন্য নারী বেছে নেন। তারপর খুব ধীরে ধীরে বরশি ফেলেন। তিনি এমন নারী'ই বেছে নেন যার সাথে পরকীয়া করা যায় বিনা দ্বিধায় এবং অযথা জুটঝামেলা হবে না।। এ পর্যন্ত তিনি অনেক গুলো পরকীয়া করেছেন। এবং সব গুলোতেই সাকসেস। যে পর্যন্ত তিনি বিছানায় না নিতে পারেন ততদিন পর্যন্ত তার কার্যক্রম চলতেই থাকে। এমন কখনও হয়নি তিনি টোপ ফেলেছেন আর কোনো নারী ধরা দেয়নি। তার ধারনা নারীরা ধরা দিতেই বসে আছে। বিছানায় নেওয়ার জন্য একজন নারীর পিছনে তার একমাস সময় ব্যয় করতে হয়। একজন নারীকে তিনি ছয় মাস ব্যবহার করেন। তারপর আর ভালো লাগে না। তখন আবার নতুন শিকার ধরার জন্য বরশি ফেলেন। গত দশ বছর ধরে এমনই চলছে। এই ব্যবসা বেশ রমরমা। তাদের চ্যাটিং দেখলেই বুঝা যায়- পরকীয়া প্রেম কতটা ভয়ানক হতে পারে।

ফেসবুকে অসংখ্য নারী আছে ডিভোর্সি। স্বামী নাই, স্বামী ছেড়ে চলে গেছে, স্বামী বিদেশ থাকে, তালাক হয়ে গেছে, স্বামীর সাথে বনিবনা হয় না, বয়স হয়ে গেছে- বিয়ে হয় না, দেখতে সুন্দর না, অথবা স্বামী আছে কিন্তু স্বামী স্ত্রীর প্রতি মনযোগ নেই, অল্প বয়সী মেয়ে এদের আবেগ বেশি- অল্পতেই এদের কাবু করা যায়। মাসুম এধরনের নারীদের বেছে নেয়। এরা অল্পতেই গলে যায় অথবা বলা যায় অল্পতেই এদের আয়ত্ত করা যায়। মাসুম গত একযুগ ধরে এমনটা করেই যাচ্ছে গভীর গোপনে। কেউ জানে না, কেউ টের পায় না। আর কেউ টের পেলেও মাসুমের কিছু যায় আসে না। মাসুমের মতো লোক এসমাজে অভাব নেই। তারা সারাক্ষন ওৎ পেতে বসেই আছে। মেয়ে গুলো অনায়াসেই ধরা দেয়। মাসুমরা উপভোগ করে যায়। আর মেয়ে গুলোও যেন কেমন- বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গুলোও মেনে নেয় হাসিমুখে। গত বারো বছর ধরে ফেসবুকের কল্যানে মাসুমদের সময় বেশ ভালো যাচ্ছে। এদের পেছনে খুব বেশি টাকাও খরচ করতে হয় না। হোটেলে গেলে এর চেয়ে বেশি টাকা লাগে।

কথার জালে, মিথ্যা ভালোবাসার টানে, মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে মাসুম এইভাবে দিনের পর দিন বহু নারী উপভোগ করে যাছে। নানান গিফট দিচ্ছে, নানান গিফট পাচ্ছে। তিন মাস ছয় মাস লাগিয়ে উপভোগ করে তারপর ইচ্ছা করে একটা ঝগড়া লাগিয়ে সম্পর্কে ইতি টেনে দেয় মাসুম। মেয়েটা বেশ কয়েকদিন মন খারাপ করে থেকে তারপর আবার অন্য একজনের দিকে পা বাড়ায়। এদিকে মাসুমও যায় নতুন শিকারের সন্ধানে। অনেক ধনী নারী বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী ভাবেন- যদি কিছু ঘটে তো ঘটুক। খুব বোরিং দিন যাচ্ছে। নিজের শরীরেও একটা চাহিদা আছে। চাহিদা মেটানো দরকার। জীবনটা তো খুব ছোট কিছু ঘটলে ঘটুক। মরে তো যেতেই হবে আনন্দ করেই মরি। এই ভেবে নারীরা পা বাড়ায়। আর মাসুম মজা লুটে নেয়। এরকম বহু নারী আছে, বহু মাসুম আছে এই সমাজে। এরকম মাসুমকে হয়তো আপনিও চিনেন-জানেন। সবই গভীর গোপন। এরকম সম্পর্ক গুলোতে মামলা মোকাদ্দমার ঝামেলা নেই। মেয়েরা তো আর চিৎকার করে বলতে পারে না মাসুম তাদের সাথে কি কি করেছে! রাতের বেলা একটা কেবিন নিয়ে বরিশালের লঞ্চে উঠে গেলেই হলো। অথবা কোনো হোটেলে। অনেক সময় মেয়েটাই ফোন করে বলে- বাসায় কেউ নেই। চলে আসো। মেয়েটা লজ্জা মাখা গলায় বলে কনডম নিয়ে এসো।

প্রতিটা নারী পুরুষের মনে রাখা দরকার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক মানেই একটি বিষাক্ত সম্পর্ক। আরও মনে রাখা দরকার আপনি ওই ফেসবুক বন্ধুর সঙ্গে যে আকর্ষণে দেখা করেছেন সেটা অল্প সময় পরে উবে যাবে। এটা স্বছ-পবিত্র প্রেম বা ভালোবাসা নয়। এটা মোহ। মোহ বেশি দিন থাকে না। হৃদয় দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করুন- মোহ সাময়িক। মানব জীবন অনেক বড় ব্যাপার। তাই ইতিবাচক জীবন কাটান। যারা ফেসবুকের মাধ্যমে এই সমস্ত বাজে কাজ করে বেড়ান তাদের বলল, ফেসবুকিং বাদ দিয়ে ব্লগিং করুন। লিখুন, পড়ুন। অনেক আনন্দ পাবেন। খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকুন। অসামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করে কি দরকার নিজের গায়ে দাগ বসাবার। পরিস্কার থাকুন। পরিচ্ছন্ন থাকুন। পবিত্র থাকুন। এই মোহটা বাদ দিতে পারলেই আপনি জয়ী হতে পারবেন। আসলে, অল্প কিছুক্ষনের আনন্দের চেয়ে আমৃত্যু স্বস্তিতে থাকতে পারাটা অনেক বড় গুন।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৩৩
৩৭টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×