
১। দু:স্বপ্ন! ঠিক দুঃস্বপ্নও বলা চলে না সেটাকে। একটা অন্ধকার গলি। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি আমি। গলির অন্য প্রান্তে খুব ক্ষীন একটা আলো। কেউ কোথাও নেই। চারিদিকে অন্ধকার। সামনে শুধু জনহীন একটি অন্ধকার গলি। কোনো কুকুর নেই, এত প্রানহীন গলি আগে কখনো দেখিনি। গাছ নেই, ছায়া নেই, শব্দ নেই, বাতাস নেই, জ্যোছনা নেই এমনকি বতাসও নেই। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। অলৌকিক কোনো ইশারায় এক পা-ও সামনে যেতে পারছি না। চোখ ভরা ভয়।
অন্ধকারটাকেই খুব বেশি ভয় পাচ্ছি। মনে হলো এখানেই সব শেষ। সভ্যতার শেষ, স্বপ্ন ও সাধ্যের শেষ। আর কোথাও যাওয়ার নেই। ওই অন্ধকার গলিই বলে দিচ্ছে, আর কিছু নেই, সব শেষ। খুব কষ্ট লাগছিল। এভাবেই সব শেষ হয়ে যায়!
রাত তিনটা। সুরভি গভীর ঘুমে। আমার যখন ঘুম ভাঙল তখন এক আকাশ ভয় আমাকে ঘিরে ধরলো। এত ভয় আগে কখনো পাইনি। কিন্তু মোটেও ভয়ের স্বপ্ন নয়। আশ্চর্য! তবে এত ভয় পেলাম কেন? গলা শুকিয়ে কাঠ। এক আকাশ ভয় আর হাহাকার বুকের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিল। চোখের কোনায় পানি। সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। স্বপ্নটার মধ্যে ভয়ের বীজ কোথায়, ভেবে পাচ্ছি না। তবে কি কোনো সর্বনাশের সংকেত ছিল? কোনো অমঙ্গলের আভাস? আমি জানি, স্বপ্ন নিয়ে এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। স্বপ্নের মধ্যে সত্য বলে কিছু থাকে না। আবার হয়তো থাকেও!
২। অনেক ভেবে ভেবে বলতে বাধ্য হলাম, বিএনপিকে আর ক্ষমতায় চাই না। বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি তারা আ.লীগের উপর প্রতিশোধ নিবে। শুরু হয়ে যাবে আ.লীগ সমর্থিত লোকদের উপর অত্যাচার আর তখন দেশে অরাজকতা পরিবেশ সৃষ্টি হবে। সাধারন মানুষের দুঃখ, কষ্ট বেড়ে যাবে। চোখ বন্ধ করেই বলা যায়, হাসিনা সরকারের পতন হলেই দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ শুরু হবে।
এদেশের মানুষ যে কোন মূল্যে শান্তি চায়, হোক না সেটা বিএনপিকে ধ্বংস করে। হাসিনার আমলে দেশে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির সম্ভাবনাও খুব কম। আমি চাই, হাসিনা সরকার সারা জীবন ক্ষমতায় থাকুক। সাধারন মানুষ চায় শান্তি। দেশ তো ভালোই চলছে। বাজারে গেলে মনটা খুশিতে ভরে যায়, কোনো কিছুরই অভাব নেই। তিনি শক্ত হাতে দেশ পরিচালনা করছেন। আর তাই তো, ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’। ২০১৫-তে UNESCO থেকে এই শিরোপা যার মাথায় উঠেছে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়ন বিশ্বের বাকি দেশগুলোর তুলনায় সবথেকে এগিয়ে ছিল, আর যিনি তার কাণ্ডারী তিনি হলেন শেখ হাসিনা।
৩। এক কৃষক চাষ করে যে ধান পেলো তাতে তার ১১ মাস চলবে। আরেক কৃষক যা পেলো তাতে তার চলবে মাত্র এক মাস।
প্রথম কৃষকের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একদিন ২য় কৃষক শুনতে পেলো বাড়ির ভিতরে বিলাপ হচ্ছে, ‘হে আল্লাহ, তুমি আমারে মাত্র ১১ মাসের ধান দিলা? বাকি এক মাস আমি কীভাবে চলবো?’
২য় কৃষক তার বাড়ি থেকে পুরো এক মাসের ধান ১ম কৃষককে দিয়ে বললো, ‘এই নাও ভাই, আমার চাষের ফসল থেকে তোমাকে এক মাসের ধান দিয়া দিলাম। এতে তোমার পুরা ১২ মাসই চলে যাবে।’
তারপর ঐ বাড়ি থেকে বের হতে হতে ২য় কৃষক বলে, ‘যে আল্লাহ আমারে ১১ মাস চালাইতে পারে, সেই আল্লা আমারে ১২ মাসই চালাইতে পারবো।’
৪। আবারো শেষ করলাম- 'ক্রীতদাসের হাসি'। শওকত ওসমান রচিত একটি চমৎকার উপন্যাস। ১৯৬২ সালে লেখক এ উপন্যাসটি রচনা করেন। তৎকালীন পাকিস্থানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসন ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে এ উপন্যাস রচিত হয়। এ উপন্যাসের মূল চরিত্র তাতারী। যারা উপন্যাসটি এখনও পড়েন তারা পড়ে ফেলুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



