
আমি ইশতেহার দিয়েছি।
এরপর আরও অনেকেই ইশতেহার দিয়েছেন। সবাই ভালো ভালো কথা লিখেছেন। এই ইশতেহারে একটা বিষয় পরিস্কার হয়েছে, তা হলো ব্লগাররা দেশ এবং দেশের ভালো-মন্দ নিয়ে খুব চিন্তিত। রাজনীতিবিদদের উচিত ব্লগারদের চিন্তা ভাবনা গুলো আমলে নেওয়া। তাতে দেশ এবং দশের ভালো হবে। আমার প্রথম ইশতেহারের লিংক। আমার ইশতেহার নিয়ে কিছু কথা বাকি ছিল। সেই কথা গুলো এখন বলব। প্রথম ইশতেহারে সময়ের অভাবে এবং পোষ্ট বড় হয়ে যাওয়ায় মনের সব কথা লিকতে পারিনি। সংক্ষেপে কিছু কথা বলব।
সবকালের সব দেশের একটাই শপথ—কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার। এর মধ্য দিয়েই সব দেশ মাথা উঁচু করে বিশ্ব মানচিত্রে দাঁড়িয়েছে। এই মূলমন্ত্র দিয়েই সব স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। একটি দরিদ্র দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যেহেতু এই দেশ আমাদের, তাই নিজেদের'ই গড়ে নিতে হবে। দুর্নীতির জন্য ৯০ ভাগ দায়ী রাজনীতিবিদরা। তাঁদের নোংরা রাজনীতি, ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ, রাতারাতি ধনী হওয়ার আকাঙ্খাই দুর্নীতির কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে যত অনিয়ম সবকিছুর পেছনে দুর্নীতি একটি বড় কারণ।
মন থেকে সত্য কথা বলি- দেশের কিছু রাজনীতিবিদদের কর্মকান্ড দেখলে শরীর জ্বলে আমার। রাগে দুঃখে আমার মনে হয়, আমার হাতে দেশের ক্ষমতা দেওয়া হোক । গত ৪৮ বছরে বিভিন্ন সরকার যা পারেনি আমি তা করে দেখাবো। দুর্নীতি দূর করা কঠিন কিছু না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা কঠিন কিছু না। কর্মসংস্থান সম্ভব। সৎ ইচ্ছা থাকলে সব সম্ভব। যুগ যুগ সময় লাগে না। যারা দেশ নিয়ে ভাওতামি করছে তাদের কানে ধরে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করতে ইচ্ছা হয়। যারা ভন্ডামি করে দেশের বারোটা বাজিয়েছে তাদের শিক্ষা দিয়ে দিতাম। আলো আসবেই। নতুন সূর্য উঠবেই। জয় বাংলা।
সমস্ত দেশের মানুষের মধ্যে দুইটা জিনিসের খুব অভাব (১) দেশ প্রেম (২) বিশ্বাস ও ভালোবাসা। রবীন্দ্রনাথ ও গৌতম বুদ্ধ আমার সবচেয়ে প্রিয় দুজন ব্যক্তিত্ব। 'জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক' এমন একটি মাত্র মন্ত্রের জন্যই বুদ্ধ অবিস্মরণীয় এবং ধর্ম প্রবর্তকদের মধ্যে অনন্য, যেহেতু জগতের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ধর্মই অন্য প্রাণী তো দূরের কথা, অন্য ধর্মের মানুষদের সুখ কামনা করতে দ্বিধা বোধ করে। বিশ্বাস হচ্ছে বিশ্বাস, সত্য হচ্ছে সত্য!
মানুষ রাজনীতি করবে এটা স্বাভাবিক। রাজনীতি তার জ্ঞানের সীমাকে বৃদ্ধি করবে। বিশ্বকে জানতে সাহায্য করবে। তার অন্তর-বাইরে সব দৃষ্টি প্রসারিত করবে। তার পরিমণ্ডল অনেক বিস্তৃত হবে। এটাই স্বাভাবিক। এটাই রাজনীতির পাঠ। কিন্তু এসব বাদে স্বার্থের খোঁজে বা রাজনীতির অজ্ঞানতায় যখন রাজনীতির অন্ধ ভালোবাসা বয় তখন রাজনীতির ভালোবাসা বিরক্তি ও সভ্যতার পরিপন্থী হয়ে যায়। সহিংসতা হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের জনগণেরই। আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানে একটা দেশের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ বলে স্বীকৃত।
তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নির্বাচনের অবস্থানটা সুখের নয়, শোকেরও বটে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দেখা মিলে একই রকম চিত্র। সহিংসতা, হত্যা, ভোট কেন্দ্র দখল, জোড়পূর্বক ভোট, জাল ভোট, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ইত্যাদি সাধারণ ইস্যুতে পরিণিত হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশের রাজনৈতিক নেতারা প্রতিপক্ষকে প্রতিপক্ষ না ভেবে, শত্রু ভাবতে শুরু করে। আর এই মনোভাবই সহিংসতার বিস্তারকে ডেকে আনে। একজন সত্যিকার রাজনৈতিক নেতার একমাত্র পুঁজি- ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার রাজনীতি ফিরে আসুক বাংলায়। রাজনৈতিক নেতাদের রাজনীতি হোক; সেবার উদ্দেশ্য, জনকল্যাণে। তবেই দেশের মঙ্গল হবে।
ধন্যবাদ সকলকে। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং সুখী হোন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



