
একবার আমি এক টিভি চ্যানেলে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলাম। আমাকে প্রথম প্রশ্ন করা হয়েছিল 'হনুলুলু' কোন দেশের রাজধানী? উত্তরটি আমি পারিনি। এই প্রশ্নের উত্তর আমি পারিনি বলে আমাকে আর কোনো প্রশ্ন করা হয়নি। বাসায় এসে জানলাম, হাওয়াই। হাওয়াই এর রাজধানী হনুলুলু। রাগে জিদ্দে হাওয়াই আর হনলুলু সম্পর্কে অনেক পড়াশোনা করলাম। পড়াশোনা করে জানতে পারলাম-- দেশটির মোট জনসংখ্যা ১৫,৯৫,৬৩৯ জন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের রাজধানী হনুলুলু-তে রাস্তা পারাপারের সময় কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ৩৫ মার্কিন ডলার জরিমানা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান হাওয়াই। তার পিতা হুসেইন ওবামা আফ্রিকার কেনিয়া থেকে বৃত্তি নিয়ে হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন। মা স্টানলি অ্যান ডানহ্যাম তখন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। পরস্পরের মধ্যে পরিচিতি, প্রেম অতঃপর বিয়ে ও ওবামার জন্ম।
একসময় হনুলুলুর রাস্তা আলোকিত করার জন্য কেরোসিনের বাতি ব্যবহার করা হতো। হাওয়াইতে বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দুটি বড়সড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। একটি হলো এ দ্বীপদেশে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা আর অন্যটি হলো এর জন্য সঠিক জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা। বছরের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৮০-৯০° ফাঃ (২৭-৩২° সে.) এবং সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ৬৫-৭৫° ফাঃ (১৮-২৪° সে.)। হনলুলু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট আমেরিকার ব্যস্ততম এয়ারপোর্টের একটি! প্রতিবছর প্রায় ২ কোটি যাত্রী এই এয়ারপোর্টের দরজা দিয়ে যাতায়াত করেন। ১৯২৭ সালে জন রজরস এয়ারপোর্ট হিসেবে এই এয়ারপোর্টের গোড়াপত্তন। ১৯৪৭ সালে এর নাম হয় হনলুলু এয়ারপোর্ট। ১৯৫১ সালে এর নামের সঙ্গে যুক্ত হয় ইন্টারন্যাশনাল শব্দটি।

হনুলুলু যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম জনবহুল শহর। হনুলুলু মূলত পর্যটক কেন্দ্র। হনলুলু ১১ শতকের দিকে প্রতিষ্ঠিত। ১৭৯৪ সালে, গ্রেট ব্রিটেনের ক্যাপ্টেন উইলিয়াম ব্রাউন বর্তমান হনলুলু হারবারে প্রথম বিদেশী হিসাবে পাল তোলেন। 'হাওয়াই' আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রশান্ত মহাসাগরের বুক চিরে যার জন্ম হয়েছিল আজ থেকে প্রায় এক মিলিয়ন বছর আগে। আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে হাওয়াইয়ের দূরত্ব দু হাজার তিন শ নব্বই মাইল। জাপান থেকে এর দূরত্ব তিন হাজার আট শ পঞ্চাশ মাইল। সেই অর্থে হাওয়াই দ্বীপের অবস্থান আমেরিকা ও জাপানের প্রায় মাঝামাঝি।

হাওয়াইকে ট্যুরিস্টদের স্যাংগ্রিলা— স্বর্গভূমি বলা হয়ে থাকে। ফুলের দেশ, সুন্দর তৃণলতার দেশ, ফলের দেশ ও ট্রপিক্যাল বৃক্ষরাজির দেশ হাওয়াই। হাওয়াই দ্বীপের সবচাইতে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরি হল এই কিলাওয়েয়া। ১৯৮৩ সাল থেকে এর পূর্ব অংশ থেকে সারাক্ষণই লাভা বের হয়। সেই লাভার ঝরনা আর তার স্রোতে ১৪৪ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা চাপা পড়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার রাস্তা ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু আগ্নেয়গিরিটির কারণে দ্বীপের সাথে নতুন জমিও তৈরি হয়েছে। প্লেনে করে শিকাগো থেকে আট ঘন্টা সময় লাগে হনলুলু যেতে।

আদি হাওয়াইয়ান ভাষা ছিল শুধু কথ্য, কোনও লিখিত অক্ষরমালা ছিল না। বর্তমানে হাওয়াইয়ান ভাষা লিখতে এঁরা ইংরেজি অক্ষরমালা ব্যবহার করেন। হাওয়াইয়ের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি পর্যটন। প্রতি বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক আসেন। হাওয়াইয়ের জলবায়ু এবং মাটি আনারস চাষের পক্ষে খুবই উপযুক্ত। অনেক জাতের আনারস এখানে হয়। হাওয়াইয়ের আদি বাসিন্দারা নানা ধরনের দেবদেবী বিশ্বাস করতেন, যেমন আগ্নেয়গিরির দেবতা ‘পেলে’ যাকে ভয় এবং শ্রদ্ধা করা হত।

হাওয়াই সমুদ্রসৈকতে গেলেই এমন আলোহা (হাওয়াই) শার্ট ও স্লিভলেস আলোহা গাউন পরা পর্যটকের দেখা মিলবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




