
শাহেদ, নীলা আর পরী- মোট তিনজনের পরিবার।
খুব সুন্দর একটি পরিবার। আনন্দময় একটি পরিবার। হাসি-খুশি আর প্রানবন্ত। আমার ধারনা ঢাকা শহরে এরকম পরিবার খুব কম আছে। শাহেদের নিজের কাছেই মাঝে মাঝে অবাক লাগে! অন্যসব পরিবারের মতোন তাদের পরিবারে ঝগড়া নেই, ভুল বুঝাবুঝি নেই। শাহেদের ধারনা যেসব পরিবারের সদস্যদের চাহিদা বেশি থাকে, সেসব পরিবারে অশান্তি বেশি হয়। তার পরিবারের তিন জনের'ই অনেক কম চাহিদা। সবচেয়ে বড় কথা- তারা একে অপরকে খুব ভালো করে বুঝে। একটা সংসারে এই বোঝাপড়াটা অনেক বড় ব্যাপার। সকালে নাস্তার টেবিলে একজন আরেজনকে ছাড়া খেতে বসে না। নো নেভার। নীলা প্রতিদিন সকালে এরকম নাস্তা বানায় না। প্রতিদিনের নাস্তায় তার ভিন্নতা আছে। একদিন আফগানিস্তানী পরোটা তো আরেকদিন মালোশিয়ান পরোটা। আরেকদিন চালের আটার রুটি। এভাবে সপ্তাহে সাত দিন, সাত রকম নাস্তা।
সংসারে শান্তির জন্য কিন্তু ভালো রান্না অনেক বড় ব্যাপার।
এই রান্না নিয়েও কিন্তু অনেক সংসারে অশান্তি হয়। তাই রান্না ব্যাপারটাকে কিছুতেই অবহেলা করা যাবে না। আজ দুপুরে নীলা ফুলকপি, শিম, মটরশুটি আর নতুন আলু দিয়ে শিং মাছ রান্না করেছে। খেতে দারুন হয়েছে। সাথে ছিল বাঁধা কপি ভাজি আর ঘন ডাল। তারা তিনজন মিলে খেল। খাওয়ার সময় খুব গল্প হলো। আজ গল্প বলল, তাদের মেয়ে পরী। পরী এত গল্প কোথা থেকে শিখল কে জানে! তার আজকের গল্পটা এরকম- 'একটা বোকা পিঁপড়া বিকেলে রাস্তায় হাঁটতে বের হয়ে দেখল, এক চামচ মধু মাটিতে পড়ে আছে। শাহেদ আর নীলা দু'জনেই অবাক হয়ে মেয়ের গল্প শুনছে মুগ্ধ হয়ে। পরী মাথা নেড়ে-নেড়ে গল্প বলে যাচ্ছে, পিঁপড়াটা ভাবলো মধুর গন্ধটা তো বেশ লাগছে। একটু খেয়ে নিই। পিঁপড়া একটু মধু খেয়ে মুগ্ধ! এত মজা! এটা কি সুন্দর বনের মধু?
রাতে খেতে বসে শাহেদ আর পরী খুব অবাক!
নীলা কখন চিকেন ফ্রাই, ফ্রাইড রাইস আর বিফ সিজলিং করেছে কে জানে! তারা ভেবেছিল আজ ডিম বাজি আর ডাল দিয়ে রাতে খেতে হবে। তিনজন মিলে খুব গল্প করতে-করতে ডিনার শেষ করে। তারপর তারা বেলকনিতে বসে, নানান বিষয় নিয়ে গল্প করে। নীলা গান গায়। পরী কবিতা আবৃত্তি করে শুনায়। পরী শিশু একাডেমীতে ভরতি হয়েছে। সেখানে আর্ট আর কবিতা আবৃত্তি শিখছে। শাহেদ মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে, তারপর তারা মুভি দেখে। আসলে শাহেদ-নীলা জানে কি করে প্রতিটা দিনকে নতুন করে সাজাতে হয়। এই কারনেই তাদের সংসারটা ভীষণ আনন্দময়। কখনও বিরক্তি বা একঘেয়েমি আসে না। তাদের ঘরে বিশাল এক খাট। একপাশে নীলা, আরেক পাশে শাহেদ আর পুরো ঘর আলোকিত করে বাবা-মার মাঝখানে ঘুমায় রাজকন্যা পরী। দু'জনে মেয়ের গায়ে হাত রেখে ঘুমায়। আর মেয়েও বাবা মার গায়ে দুই হাত মেলে দেয়।
শাহেদ বাসায় ফেরার পথে নীলা আর পরীর জন্য রোজ কিছু না কিছু নিয়ে যায়।
নীলা কমলা পছন্দ করে। এবার বাজারে বেশ ভালো কমলা উঠেছে। ডজন নিচ্ছে আড়াই শ' টাকা করে। শাহেদ নিজের হাতে বেছে বেছে এক ডজন কমলা নিল। মেয়ে পছন্দ করে মালটা। এক কেজি মালটাও নিল। শাহেদ বাসায় ফিরে দেখে মেয়ে পড়তে বসেছে। নীলা তার ইতালী প্রবাসী বোনের সাথে ভাইবারে কথা বলছে। তাদের একমাত্র মেয়ে পরী সব ঘরের দেয়ালে শিল্পকর্ম করেছে। এ বি সি ডি, অ আ, ক খ, এক দু তিন সহ দৈত্য এঁকেছে, মীনা কার্টুনের মীনাকে এঁকেছে, প্রজাপতি, ডলফিন, গ্রামের ছবি এঁকেছে। গ্রামের ছবিটা শাহেদের বেশ লাগে। সে তার মেয়ের আঁকা গ্রামের ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রায়ই দেখে! ছবিটাতে ধানক্ষেত আছে, ছোট কিন্তু লম্বা একটা খাল আছে, চাপকল আছে, কয়েকটা মূরগী আর একটা গোয়াল ঘরে দুইটা ছাগল। গরু নেই কেন কে জানে!
বিশেষ দিন গুলোতে শাহেদ-নীলা'রা অন্য রকম ভাবে কাটায়।
এই ১৬ ডিসেম্বরে তারা সবাই লাল-সবুজ জামা পড়েছে। সকাল বেলাতেই তারা বেড়াতে বের হয়ে যায়। সারাটা দিন তারা নানান জাগায় ঘুরে বেড়ায়। নীলা যদি বলে, চলো মাওয়া যাই। শাহেদ মানা করে না। মেয়ে যদি বলে বাবা চিড়িয়াখানায় যাবো- শাহেদ সাথে সাথে মাওয়া থেকে চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গতকাল তারা একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। সেখানে শাহেদের সাথে আমার দেখা। শাহেদ। শাহেদ জামাল আমার পুরোনো বন্ধু। ওর স্ত্রী নীলা ভাবী চমৎকার মেয়ে। ওদের মেয়ে পরী- খুব বেশী মায়াবতি। একদম মন কেড়ে নেয়। সবার সাথে খুব আড্ডা হলো। রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত বিয়ে বাড়িতে আমাদের গল্প চললো। আগামী শুক্রবার শাহেদদের বাসায় আমাদের দাওয়াত। নীলা ভাবী চমৎকার রান্না করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




