
আজ ইচ্ছা ছিল অনেকবেলা পর্যন্ত ঘুমাবো।
কিন্তু না, আজ আমাকে উঠতে হলো ভোর সড়ে ছয়টায়। অচেনা নাম্বার থেকে ফোন। ফোন ধরলাম। আমি রফিক কিনা জানতে চাইলো এক লোক। আমি বললাম, স্যরি আমি রফিক না। তাইলে আপনি কে? আমি বললাম, আমি কে এটা দিয়ে আপনারে দরকার কি? লোকটা বিরক্ত হয়ে বলল, আহ হা বলেন না আপনার নাম। আমি বললাম, আমার নাম জসিম। লোকটা ফোন কেটে দিল। একবার ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমার আর ঘুম আসে না। তবু চেষ্টা করলাম ঘুমাতে কিন্তু ঘুম এলো না। অযথা বিছানায় শুয়ে না থেকে ছাদে গেলাম, গাছে পানি দিলাম, আগাছা পরিস্কার করলাম। আম গাছে মুকুল দিয়ে ভরে গেছে। শান্তি! পেয়ারা গাছেও অনেক গুলো পেয়ারা ধরেছে। মাশাল্লাহ। নিচে নেমে এলাম। আজ আবার মিরপুর যেতে হবে সুরভিকে আনতে।
মোবাইলে অসংখ্য গেমস নামিয়ে রেখেছি।
অদ্ভুত সব গেমস। ইচ্ছা হলো তো আঁকাবাকা রাস্তায় বিশাল কার্গো চালাই। কার্গো ভালো না লাগলে ট্রেন চালাই, ট্রেন ভালো না লাগলে প্লেন চালাই অথবা জাহাজ। একবার তো জাহাজ চালিয়ে আরব মহাসাগর থেকে আটলান্টিক চলে গিয়েছিলাম। মাঝ সাগরে গিয়ে বিরাট বিপদে পড়েছিলাম। উফ! আরেকটা মজার গেমস আছে, বাইসাইকেল। আমি লন্ডন শহরে বাইসাইকেল চালাই। কেউ ফোন দিলে তাকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেই। যথাসময়ে পৌঁছে দিতে পারলে যাত্রী আমাকে টাকা দেয়। সেই টাকা দিয়ে আরও ভালো সাইকেল কেনা যায়। আরেকটা গেম আছে ট্রেক্সি ড্রাইভার। আমি নিজেই ড্রাইভার। সুন্দরী মেয়েরা আমাকে ফোন দেয়। আমি তাদের গন্তব্যে নামিয়ে দিয়ে আসি। মেজাজ খারাপ থাকলে ইচ্ছা করে রাস্তার পথচারীদের চাপা দিয়ে মেরে ফেলি। সাথে সাথে পুলিশ এসে আমাকে এরেস্ট করে। সাথে দুইটা গালিও দেয়। জিপ গাড়ির একটা গেমস আছে। পাহাড়ের উঁচু নিচু রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। অনেক কঠিন।
কিছু মানুষ, মানুষের জাত না।
একেবারে অমানুষ। এদের পথের কুকুর হবার কথা ছিল। কিন্তু কি করে যেন এরা মানুষ রুপ ধারন করে পৃথিবীতে এসে পরেছে। আমি সারা জীবন দুষ্টলোকদের কাছ থেকে দূরে থাকতে চেয়েছি। আমি সহজ সরল মানুষ এবং সহজ সরল জীবন যাপন করি বলে কিছু দুষ্টলোক আমাকে অশান্তি দিতে চেষ্টা করে। খোঁচা দিয়ে কথা বলে। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। ভাব নেয়। দুষ্টলোক গুলোকে বলতে ইচ্ছা করে- আমি কাউকে কোনো দিন লাথথি দেইনি তার মানে এই না যে আমি লাথথি দিতে জানি না। আমি কি পারি না- খোঁচা দিয়ে কথা বলতে, বদমাইশি করতে? পারি, খুব পারি। কিন্তু কেন আমি এরকম করবো? আমি মানুষ, আশরাফুল মাখলুকাত, সৃষ্টির সেরা জীব। আমার চিন্তা হলো- পারলে মানুষের ভালো করবো, উপকার করবো। পৃথিবীতে অল্প কিছু দিনের আয়ু আমাদের। কেন শুধু শুধু আরেকজনকে কটু কথা বলে কষ্ট দিব।
আর ছয়দিন পর বইমেলা।
অথচ আমার মনটা খুব খারাপ। গত তিন বছর আমার কোনো বই বের হয়নি। অথচ চারটা বইয়ের কাজ অর্ধেক পর্যন্ত করে রেখেছি। দেশভাগ ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটা উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলাম। অর্ধেক লেখা শেষ কিন্তু বাকিটা কিছুতেই আর শেষ করতে পারছি না। একটা ফোটোগ্রাফী নিয়ে লেখা শুরু করেছি চার বছর হলো কিন্তু আজও শেষ করতে পারলাম না। একটা গল্পের পান্ডুলিপি অর্ধেক করে ফেলে রেখেছি। আশে পাশের সবাই দারুন দারুন গল্প উপন্যাস আর কবিতার বই লিখছেন। সে সব বইয়ের প্রচ্ছদ গুলো দারুন সুন্দর হয়েছে। ব্লগে ফেসবুকে তাদের বইয়ের কথা দিয়ে রমরমা অবস্থা। কেন জানি মনে হচ্ছে এবার বইমেলাটা খুব বেশি জমজমাট হবে। আমি যাবো মেলায়। খুব আনন্দময় সময় কাটবে এবার মেলায়।
সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। প্রার্থনা করি জীবন হোক আনন্দময়। আর হ্যাঁ বিদ্যুৎ, পানি আর গ্যাস অপচয় বন্ধ করুন। মানুষকে ভালোবাসুন। নিজের মধ্যে মানবতাবোধ সব সময় জাগ্রত রাখবেন। ভালোবাসা নিরন্তর।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



