somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের শিশু আগামী দিনের ধর্ষক, দূর্নীতিবাজ, চোর-ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, দালাল

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একজন শিশু জন্ম দেয়া কি খুব বেশি প্রয়োজন এই সমাজে?
প্রতিটা সংসারেই একটি ছেলে-মেয়ের বিয়ের পর আত্মীয় স্বজন সবাই বাচ্চার জন্য তাড়া দেয় কেন? বাচ্চা না নিলে সমস্যা কি? এই ঘুনে ধরা সমাজে একটি বাচ্চাকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার কোনো মানে হয় না। এই সমাজ, দেশ এবং দেশের মানুষজনতো সহজ সরল সুন্দর নয়। একটা শিশু জন্ম নেয়ার পর থেকে, বড় হতে থাকবে, আর পদে পদে ধাক্কা খাবে। স্কুলে ভর্তি হতে নানান সমস্যা, খাদ্যে সমস্যা, পাড়ায় মহল্লায় সব জাগায় সমস্যা। বড় হবে নেশা করবে, প্রেম করবে, পরকীয়া করবে, ধর্ষন করবে। কারন আজ যারা এসব খারাপ কাজ করে বেড়াচ্ছে তারাও একসময় শিশু ছিল। শিশুটি বড় হবে হাজার হাজার সমস্যার মধ্যে দিয়ে। শিশুটির চলার পথ মসৃন থাকবে না। পথ থাকবে নানান কাটাময়। ভয়াবহ মহা জটিল, কুটিল।

আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র।
তারা জন্মের পর থেকেই অভাবে-অভাবে বড় হয়। লেখা-পড়া শিখে, কোনো একটা চাকরি করে, ডাল ভাত খেয়ে জীবন পার করে দেয়। শান্তি, আনন্দ আর বিনোদন বলতে তাদের কিছু থাকে না। ধনীর ঘরে শিশু জন্মালেও সমস্যা আছে। তারা বড় হয়ে ভালো মানুষ হবে, না জঙ্গি হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই সমাজে কেউ ভালো থাকতে পারবে না। কেউ না। কাজেই চোখ বন্ধ করেই বলা যায়- আজকের শিশু আগামী দিনের ধর্ষনকারী, চোর, ছিনতাইকারী, দূর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ। কারন এখন যারা এই সমস্ত কাজ করছে তারাও একসময় শিশু ছিল।
দিনদিন পৃথিবীটা নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমি মনে করি, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে একটা শিশুকে নিয়ে আসা আর আগুনে ফেলে দেয়া একই কথা। বর্তমান যুগে যেসব বাবা-মা এই ভয়ংকর পৃথিবীতে শিশু জন্ম দিচ্ছেন- তারা কি একবার ভাবেন(?) তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে কোথায় রেখে যাচ্ছেন? আপনারা ছেলে-মেয়ে জন্ম দিবেন, লেখা-পড়া শেখাবেন, বিয়ে দেবেন- তারপর আপনারা মরে যাবেন।তারপর যতদিন আপনার ছেলে-মেয়ে বেঁচে থাকবে তাদের যুদ্ধ করে যেতে হবে। আমি বলব, কেন তাদের এই ভয়ঙ্কর দুনিয়াতে আনলেন(?) প্রতিটা মুহূর্ত যুদ্ধ করার জন্য, কষ্ট করার জন্য?

জন্মের সময় আমাকে যদি বলা হতো- 'তুমি কি পৃথিবীতে যেতে চাও?
আমি চিৎকার করে বলতাম- না, আমি যাব না। এখন আমাকে প্রতিটা দিন যুদ্ধ করতে হয়, আমি শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারি না। কোথাও শান্তি নেই। চারিদিকে মানুষ আর মানুষ নেই, তারা পশুর চেয়ে বেশি নিষ্ঠুর। তাদের মন মানসিকতা নোংরা। হিংসুটে, লোভী, চতুর, জটিল এবং কুটিল। যত খারাপ বিশেষণ আছে- সব বললেও কম বলা হবে। আমার বাবা-মা যদি আমাকে পৃথিবীতে না আনতো- তাহলে কি আমাকে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হতো? হিমসিম খেতে হতো? মিথ্যা বলতে হতো? প্রতারনার স্বীকার হতে হতো? কুকুরের মতো পরিশ্রম করতে হতো? অভাবে-অভাবে জীবন যাপন করতে হতো? টেনশনে থাকতে হতো? ভয়ে থাকতে হতো? কারো গোলাম হতে হতো? বেকার জীবন যাপন করতে হতো? খাওয়া পড়ার চিন্তা করতে হতো? অসুখ বিসুখের চিন্তা করতে হতো? আরও কত কি...

ধরে নিলাম, আপনি বিয়ে করেছেন।
মোটামোটি একটি চাকরি করছেন। বিয়ের দুই বছর পর একটা মেয়ে শিশুর জন্ম দিলেন। এই মেয়েকে অনেক আদর ভালোবাসা দিয়ে বড় করছেন। লেখা-পড়া শেখাচ্ছেন। মেয়েটি বড় হবে- আর আপনার টেনশন বাড়তে থাকবে। এই আধুনিক যুগেও একটি মেয়ে আজও কোথাও নিরাপদ না। যে কোনো সময় ধর্ষণ এর স্বীকার হতে পারে, অথবা এক বখাটের সঙ্গে পালিয়ে কোথাও চলে যেতে পারে অথবা কোনো চতুর লোভী ছেলে প্রেমের অভিনয় করে- পেটে বাচ্চা দিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেল অথবা দিনের পর দিন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আপনার মেয়েকে ভোগ করতে থাকলো। তখন আপনার মান সম্মান কোথায় যাবে? এই যে তিলে তিলে কত কষ্ট করে, কত আদর ভালোবাসা দিয়ে মেয়েকে বড় করলেন- তার ফলাফলটা কি দাঁড়ালো শেষ পর্যন্ত?
এখন হয়তো, আপনি বলবেন- আমার মন মানসিকতা খুব নিচু। ঠিক আছে, তাহলে ধরে নিলাম- আপনার মেয়ে ধর্ষণ এর স্বীকার হলো না, বা কোনো ছেলে প্রেম ভালোবাসার সস্তা কথা বলে তাকে বিছানায় নিলো না, কিংবা কোনো বখাটের পাল্লায়ও পড়লো না। মেয়েকে বড় করলেন, লেখাপড়া শেখালেন- তারপর ভালো একটা ছেলের সাথে ধূমধাম করে বিয়ে দিয়ে দিলেন। বিয়ের পর যে সেই সংসার টিকবে বা সুখের সংসার হবে তার নিশ্চয়তা কি? মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার সাথে ভালো আচরণ করবে তার নিশ্চয়তা কি?

এবার ধরুন, আপনার একটি ছেলে সন্তান এর কথা।
অনেক আদর ভালোবাসা দিয়ে আপনার ছেলেকে বড় করলেন, লেখা-পড়া শেখালেন। এই ছেলে- জঙ্গি হবে না তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? এই ছেলে কোনো মেয়েকে ধর্ষণ করবে না- তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? সে যে একজন ঘুষখোর হবে না, অসৎ হবে তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? এই সমাজে কে ভালো? কার মধ্যে সততা আছে? মমতা আছে? আপনি হাজার চেষ্টা করলেন, আপনার ছেলে-মেয়েকে পৃথিবীর কোনো পাপ স্পর্শ করতে পারল না। কিন্তু আপনি কতদিন বাঁচবেন? আপনার মৃত্যুর পর কি হবে? ছেলে মেয়েকে কোথায়? কোণ সমাজে রেখে যাচ্ছেন? এই সমাজ, এই দেশ দেশের মানুষ কাউকে ভালো থাকতে দিবে না। নো নেভার।

বাবা-মা তো ছেলে মেয়ে জন্ম দিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখেন, আমার ছেলে ডাক্তার হবে, আমার মেয়ে ইঞ্জিয়ার হবে, পাইলট হবে। হেন হবে, তেন হবে। আসলে হয় ভন্ড, লুচ্চা আর বদমাশ। কিন্তু কোনো বাবা-মা'ই স্বীকার করবেন না। সব বাবা-মা'র চোখেই তার ছেলে-মেয়ে খুব ভালো। সৎ আর নিষ্পাপ। তাহলে এই সমাজের নষ্ট ছেলে-মেয়ে গুলো কাদের? কয়জন বাবা-মা'র ছেলে ভালো হয়? স্কুলের বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা প্রেম করে, গাঁজা খায়। রাত জেগে মোবাইলে কথা বলে, কোচিং এর কথা বলে বন্ধুর খালি ফ্লাটে গিয়ে সেক্স করে। আর যারা খুব সাহসী তারা ভিডিও করে রাখে। পরে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে, সেই সব ভিডিও দেয় নেটে ছেড়ে। এই সবই অহরহ ঘটছে বছরের পর বচর ধরে। প্রতিটা ঘরে ঘরে। সেক্সের ব্যাপারে ধনী গরীব বুড়ো জুয়ান কেউ পিছিয়ে নেই। সবাই এগিয়ে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বলে একটা সস্তা কথা আছে।
আরও হাস্যকর কথা হলো- পুরুষ চায় তার জিন টিকিয়ে রাখতে, তাই যত বেশি সেক্স তত সম্ভবনা.. তাই পুরুষের বীযে` মিলিয়ন মিলিয়ন সুক্রানু...। সারভাইভাল অফ ফিটেস্ট। আপনি হয়তো বলবেন, কিন্তু আমরা মানুষ। আমাদের আবেগ/চিন্তা/বিবেক আছে.... তাই সবাই পশুর মতন চিন্তা করেনা.... কিছু মানুষের মতন চিন্তা করে....
কাজেই আপনি বিয়ে করেছেন, এখানেই থামুন। ছেলে-মেয়ে জন্ম দিবেন না। কি দরকার লুচ্চা বদমাশ জন্ম দিয়ে। হুম... যদি আপনার ছেলে-মেয়ে আইনস্টাইন হয়, মদার তেরেসা হয়, রবীদ্রনাথ হয়, বঙ্গবন্ধু হয়, স্টিভ জবস হয়, টমাস আলভা এডিসন হয়, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার হয়, অ্যারিস্টটল হয়, স্বামী বিবেকানন্দ হয়, রবার্ট ফ্রস্ট হয় তাহলে জন্ম দেন। প্রতি বছর জন্ম দেন। কোনো সমস্যা নাই। দয়া করে সমাজের বোঝা বাড়াবেন না। আবেগ বাদ দেন। বাস্তবে আসুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮
২১টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা- ১৩৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:০২



১। আমাদের দেশের মানুষের অল্পতেই চোখে জল আসে, বিশেষ করে মেয়েদের । এই দেশটা আসলেই বড় বিচিত্র, প্রাকৃতিক দৃশ্যে, সম্পদের উপকরনে, মানুষের স্বভাব এবং চরিত্রে । তাই তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বইমেলা এবং ফেসবুক সেলেব্রিটিদের লেখক হয়ে উঠার দৌড়ঝাপ।

লিখেছেন প্রফেসর সাহেব, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:১০

যেকোনো শিল্পের বিকাশে বা বিলয়ে কালচারাল কনজুমারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে উন্মার্গগামী শিল্পকে সঠিক পথে আনতে একদল রুচিশীল পাঠক/শ্রোতা/দর্শক অকল্পনীয় ভূমিকা রাখেন। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টোটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জরাথ্রুষ্টবাদঃ পারস্যর বা মধ্য এশিয়ার প্রথম একেশ্বররবাদী ধর্ম

লিখেছেন শের শায়রী, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩০



রহস্যময় জরাথ্রুষ্ট। গ্রীক উপাখ্যানেও তার নাম আছে, জরাথ্রুষ্ট নামের অনেক অর্থ আছে, প্রাচীন পার্সিয়াবাসী তারা নামের অর্থ করেছিল “উটের পিঠে আরোহী বার্তা বাহক”। পার্সিয়ার এই ধর্ম প্রচারককে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান কেন বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু?

লিখেছেন রায়হানুল এফ রাজ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০



জাপানী সম্রাট হিরোহিতো বাঙ্গলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু’! এটি শুধু কথার কথা ছিলো না, তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির আয়নায়

লিখেছেন নিভৃতা , ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×