somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

যৌতুক নিবেন না

২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেয়েপক্ষ ছেলের বাসায় বিয়ের সাত দিন আগে বিশাল এক টিভি, ফ্রিজ, আলমারি, খাট, ড্রেসিং টেবিল এবং একটি দুই টন এসি পাঠিয়েছে। অথচ ছেলেরা এসব কিছুই চায় নি। মেয়েপক্ষ খুশি হয়েই দিয়েছে। বিয়ের চার দিন আগে- জামাই খাবার পাঠিয়েছে মেয়েপক্ষ। এলাহি কারবার! কমপক্ষে এক শো জনের খাবার পাঠিয়েছে। এমন কোনো খাবার নাই যেটা পাঠায় নি। চিড়ামুড়ি, দই, সন্দেশ, পিঠা ইত্যাদি কিছুই বাদ যায় নি। আস্তো খাসি, আস্তো টার্কি মূরগী। একুশ টা আস্তো মূরগী। এক মন গরুর রেজেলা। বহু খাবার। বহু রকমের খাবার। তিন পিকআপ ভর্তি খাবার। ছেলের বিয়ের কেনাকাটা করার জন্য নগদ এক লাখ টাকা পাঠিয়েছে। ছেলে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে একটা মোবাইল কিনে নিয়েছে। ছেলেরা দুইটা দেশী কাতলা মাছ পাঠিয়েছে মেয়ের বাসায়। দুইটা মাছের ওজন ৫/৬ কেজি তো হবেই। আজ মেয়েটির গায়ে হলুদ। তারপর দিন ছেলের গায়ে হলুদ। তারপর বিয়ে। এবং তার পরের দিন বৌভাত। বৌ ভাতের অনুষ্ঠানে আমার দাওয়াত আছে। অবশ্য আমার একটা নিয়ম আছে, যে সমস্ত বিয়েতে যৌতুক দেওয়া হয়, সেই সমস্ত বিয়েতে আমি যাই না। এ বিয়েতে আমি যাবো কিনা বুঝতে পারছি না।

যার বিয়ে হচ্ছে তার নাম হাবীব। আমার সাবেক কলিগ। হাবীব প্রচন্ড চালাক। তবে বুদ্ধিমান নয়। একটা মাঝারি মাপের চাকরী করে। এই চাকরী সে নিজের যোগ্যতায় পায়নি। তারা সচিব মামা চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। হাবীবের এক ভাই লন্ডন থাকেন বৌ বাচ্চা নিয়ে। হাবীবের ইচ্ছা তার ৪৫ বছর হলে সে আরেকটা বিয়ে করবে। আমি বললাম, আগে একটা বৌ এর ভরন পোষন ঠিক মতো চালিয়ে দেখাও। সবচেয়ে বড় কথা তোমার বৌ তোমাকে প্রচন্ড যন্ত্রনা দিবে। সেই যন্ত্রনা পেয়ে তোমার আর একটা বিয়ে করার ইচ্ছা থাকবে না। নো নেভার। হাবীব আমাকে খুব পছন্দ করে। তার যে কোনো সমস্যা আমার সাথে শেয়ার করে। আমার কাছ থেকে বুদ্ধি পরামর্শ চায়। আজ হাবীব আমার কাছে এসেছে তার বিয়ের গল্প শোনাতে। আমার একটা ভালো অভ্যাস হলো কেউ কিছু বলতে চাইলে, আমি খুব মন দিয়ে শুনি।

আমি স্পষ্ট বললাম, যেহেতু মেয়েটার কাছ থেকে তুমি প্রচুর যৌতুক নিয়েছো, তাই মেয়েটাকে রাজার হালে রাখতে হবে। কোনো প্রকার দুঃখ কষ্ট দিত্যে পারবে না। হাবীব বলল, আমরা তো যৌতুক চাই নি। ওরা নিজ থেকেই দিয়েছে। আমি বললাম, মেয়েরা ধনী নয়। তারা কোনো ভাবে বুঝতে পেরেছে তোমরা লোভী। তোমাদের চাওয়ার আছে অনেক কিছু। তাই তারা কষ্ট করে লক্ষ লক্ষ টাকার যৌতুক দিয়েছে। এমন কি যৌতুকের প্রতিটা আইটেম তোমরা খুশি মনে গ্রহনও করেছো। আহ্লাদে গদ-গদও ভাব তোমাদের বাসার সবার মধ্যে এসেছে। তোমাদের বাসার সবার চোখে মুখে খূশির ঝলক। সবচেয়ে দুঃখজকন কথা এই সমস্ত যৌতুক পাওয়া জিনিসপত্র’র ছবি তুলে গর্বের সাথে আত্মীয় স্বজনকে দিয়েছো। নিজেরদের বড় করার জন্য, ভাব নেওয়ার জন্য টিভি ফ্রিজ এসির কথা সবাইকে জানিয়েছো। হাবীর এটা কোনো গর্বের কথা নয়। এটা অত্যন্ত লজ্জার। তুমি এমন কোনো রসগোল্লা নও। তোমার মাথায় এখনই টাক পড়তে শুরু করেছে।

আমি হাবীবকে বললাম, ভায়া আমার কথা শুনে মন খারাপ করো না। আমি আবস্তব কথা বলছি। তোমার বৌয়ের সাথে যত প্রেম ভালোবাসাই থাকুক, পাঁচ বছর পর হলেও সে তোমাকে এই সমস্ত যৌতুকের জন্য খোটা দিবেই। এই খোটা থেকে নিষ্কৃতি পাবে না। নো নেভার। সবচেয়ে বড় কথা তোমার আর্থিক অবস্থা ভালো না। অল্প টাকা বেতন পাও। এই টাকায় বৌ এর সমস্ত চাহিদা পূরন করা কিছুতেই সম্ভব না। সংসারে অভাব দেখা দিবেই। ছোট ছোট অপমান, আর যৌতুক নেওয়ার জন্য খোঁচা খাওইয়ার জন্য রেডি থাকে। তাছাড়া তোমার বৌ মাস্টার্স পাশ। আধুনিক মেয়ে। এই যৌতুক নেওয়ার কারনে কোনো দিনও বউয়ের সাথে কথায় পারবে না। বৌ অন্যায় করলেও চুপ করে থাকতে হবে। মেয়ের বাবা মা এই জন্যই যৌতুক দিয়েছেন, যেন তোমরা মেয়ের সাথে উচ্চ বাক্য করতে না পাবো। তারা টাকা দিয়ে তোমাদের কিনে নিয়েছেন। মূলত তোমার কিছুই নেই। বাপ ভাইয়ের টাকায় ফুটানী দেখানো বোকামী। তুমি বড়জোর বিশ হাকার টাকা বেতন পাও।

হাবীব আমার কথা শুনে খুব আপসেট। সে বলল, আমি খুব চালাক মানুষ। অনেক বুঝে-শুনেই ওকে বিয়ে করছি। ও ঢালে ঢালে চললে, আমি চলবো পাতায় পাতায়। মাছের তেল দিয়ে মাছ ভাজবো। বিয়ের পরও নানান উসিলায় ওদের কাছ থেকে টাকা নিবো। আর সবচেয়ে বড় কথা আমি ছেলে হিসেবে খাবাপ নই। খারাপ হলে এত কিছু আদায় করতে পারতাম? ওরাই বা আমাকে এত কিছু দিতো? আমি যোগ্য বলেই আমাকে এত কিছু দিয়েছে। কত ছেলেই তো বিয়ে করে এত কিছু পায়? তাছাড়া প্রতিটা মেয়ের বাপেরই মেয়ের বিয়ের জন্য একটা বাজেট থাকে। মেয়ে জন্ম দিয়েছে খরচ করবে না? বাপ মায়ের একটা দায়িত্ব আছে না। আমি চুপ করে হাবীরের কথা শুনছি। সে গর্বের সাথে বলেই যাচ্ছে। আমার বড় ভাই বিয়ের করার সময়ও অনেক কিছু পেয়েছে। আমার চেয়ে আমার ভাইয়ের ভাগ্য বেশি ভালো। সে এসি’ই পেয়েছে দু’টা। তার শ্বশুর বাড়ি তাকে লন্ডন পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি যাবো কানাডা। সেই দিন খুব কাছে। ‘’স্ত্রী ভাগ্যে লক্ষ্মী’’ একটা কথা আছে। হে হে...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৩
১৩টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা- ১৩৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:০২



১। আমাদের দেশের মানুষের অল্পতেই চোখে জল আসে, বিশেষ করে মেয়েদের । এই দেশটা আসলেই বড় বিচিত্র, প্রাকৃতিক দৃশ্যে, সম্পদের উপকরনে, মানুষের স্বভাব এবং চরিত্রে । তাই তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বইমেলা এবং ফেসবুক সেলেব্রিটিদের লেখক হয়ে উঠার দৌড়ঝাপ।

লিখেছেন প্রফেসর সাহেব, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:১০

যেকোনো শিল্পের বিকাশে বা বিলয়ে কালচারাল কনজুমারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে উন্মার্গগামী শিল্পকে সঠিক পথে আনতে একদল রুচিশীল পাঠক/শ্রোতা/দর্শক অকল্পনীয় ভূমিকা রাখেন। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টোটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জরাথ্রুষ্টবাদঃ পারস্যর বা মধ্য এশিয়ার প্রথম একেশ্বররবাদী ধর্ম

লিখেছেন শের শায়রী, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩০



রহস্যময় জরাথ্রুষ্ট। গ্রীক উপাখ্যানেও তার নাম আছে, জরাথ্রুষ্ট নামের অনেক অর্থ আছে, প্রাচীন পার্সিয়াবাসী তারা নামের অর্থ করেছিল “উটের পিঠে আরোহী বার্তা বাহক”। পার্সিয়ার এই ধর্ম প্রচারককে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান কেন বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু?

লিখেছেন রায়হানুল এফ রাজ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০



জাপানী সম্রাট হিরোহিতো বাঙ্গলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু’! এটি শুধু কথার কথা ছিলো না, তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির আয়নায়

লিখেছেন নিভৃতা , ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×