
হ্যালো ব্লগারস, আসসালামু আলাইকুম।
আপনারা সবাই কেমন আছেন? দিনকাল কেমন যাচ্ছে? আমি ভালো আছি। কোনো রকমে দু'টা ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। যাই হোক, সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন- তাই কামনা করি। আজকের পোষ্ট দূর্নীতি নিয়ে।
চোর, ছিনতাইকারী বা পকেটমার ধরা কঠিন। কিন্তু দূর্নীতিবাজ ধরা সবচেয়ে সহজ। ইচ্ছা করলে দেশের সমস্ত দূর্নীতিবাজ ধরা সম্ভব। যেমন, গত দশ বছরে কারা টিভি চ্যানেল খুলেছে, দৈনিক পত্রিকা বের করেছে এবং কারা পাজারো গাড়ি কিনেছে- এই হিসাব বের করলেই খুব সহজে দূর্নীতিবাজ ধরা যায়। আমি বলছি না, টিভি চ্যানেল, দৈনিক পত্রিকা বা পাজারো গাড়ি কেউ কিনলেই সে দূর্নীতি করে করেছে। তবে বেশির ভাগ দূর্নীতিবাজ অবৈধ ভাবে টাকাপয়সা করার পর সবার আগে টিভি চ্যানেল, দৈনিক পত্রিকা আর পাজারো গাড়ি কিনে। এটা একটা অলিখিত নিয়ম। তা না হলে তাদের মান থাকে না। টিভি চ্যানেল, পত্রিকা বা পাজারো গাড়ি কেনা ছাড়াও তারা আরো অনেক কিছু করে। নানান ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। এই সমাজের বেশির ভাগ স্কুল, কলেজ, মসজিদ আর মাদ্রাসা দূর্নীতিবাজরা করেছে। দূর্নীতিবাজরা স্কুল, কলেজ আর মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হয়।
শুধু ক্যাসিনোওয়ালাদের ধরলে হবে না।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি আসলেই দূর্নীতিবাজদের ধরবেন? তার নিজের দলেই তো দূর্নীতিবাজের অভাব নেই। তার দলে হয়তো দশ জনের মধ্যে সাত জনই দূর্নীতিবাজ রয়েছে। সাধারন মানুষ কিন্তু দূর্নীতি করে না। সাধারন মানুষ দূর্নীতির শিকার হয়। রাজনীতিবিদ, সরকারী আমলা এবং এদের ছত্রছায়ায় থাকা লোকজন দূর্নীতি করে। বহু দূর্নীতিবাজ দূর্নীতি করে নানান রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। তাতে অনেক বেকারের কর্মসংস্থান হয়। আবার বহু দূর্নীতিবাজ টাকা লকারে লুকিয়ে রাখে। তাদের অনেক ভয়। সেই টাকা দিয়ে ব্যবসা করেন না, সেই টাকা ব্যাংকেও রাখেন না। কেউ কেউ গোপনে নামে বেনামে জমি কিনে, ফ্লাট কিনে এবং স্বর্ন কিনে রাখে। বহু দূর্নীতিবাজ কাগজে কলমে নানান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। সেই সব প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে কারিকারি টাকা। অথচ বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো চিহ্ন নেই।
টপ লেবেলের দূর্নীতিবাজদে অবশ্যই বিদেশে বাড়ি গাড়ি আছে। তাদের ছেলে মেয়েরা বিদেশে উন্নত জীবন যাপন করছে। আমি স্পষ্ট বলতে চাই এবং এটাই দেশের সাধারন মানুষদের চাওয়া, সমস্ত দূর্নীতিবাজদের ধরা হোক। তাদের কাছ থেকে সমস্ত অবৈধ টাকা নিয়ে, সেই টাকা দেশের কল্যাণে ব্যয় করা হোক। সমস্ত দূর্নীতি বন্ধ করা গেলে এবং সমস্ত দূর্নীতিবাজদের টাকা গুলো নিয়ে নিতে পারলে- দেশ আসলেই অনেক দূর এগিয়ে যাবে। হে নেত্রী আপনি সমস্ত দূর্নীতিবাজদের ধরুন। তাদের শাস্তি দিন। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। দুষ্টলোক গুলো এই লীগ, সেই লীগ, অমুক লীগ, তমুক লীগ ইত্যাদি বিভিন্ন নাম দিয়ে দূর্নীতির ব্যবসা শুরু করেছে। সমস্ত লীগ মুছে ফেলতে হবে। পুরো বাংলাদেশে একটাই লীগ থাকবে তার নাম- আওয়ামীলীগ। যারা দলকে ভালোবাসে তারা দলের জন্য কাজ করবে। কিন্তু কোনো নাম নিতে পারবে না। নাম নিলেই তারা দূর্নীতি করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ঘোষনা দিয়েছেন, কোনো দূর্নীতিবাজ আমার আত্মীয় হলেও ছাড় পাবে না। এই কথাটা বলার জন্য আপনাকে স্যলুট।
দূর্নীতিবাজদের একটা বিষয় আমার বেশ ভালো লাগে।
তারা সবার আগে গ্রামে স্কুল করে, মাদ্রাসা করে, মসজিদ করে। মসজিদের জন্য এসি কিনে দেয়। স্কুল কলেজ আর মাদ্রাসা নিজের বাপ মায়ের নামে দেয়। বাপ মার প্রতি সব চোর ছিনতাই আর দূর্নীতিবাজদের সীমাহীন ভালোবাসা। তারা বাপ মাকে হজ্ব করায়। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যায়। গ্রামে বহু লোককে রিকশা, ভ্যান কিনে দেয়। কারো কারো কাছ থেকে জবর দখল অথবা অল্প টাকায় জমি কিনে নেয়। গ্রামে আধুনিক আলিশান বাড়ি করে। কেউ কেউ দুর্নীতি করে যেমন সিন্দুকে লুকিয়ে রাখে, আবার কেউ কেউ দশ হাতে টাকা উড়ায়। আমি একজন দূর্নীতিবাজকে দেখেছি, সে যেখানেই যায় দাড়োয়ান থেকে শুরু করে পিএস পর্যন্ত সবাইকে টাকা দেয়। এমন কি তার গাড়ির সামনে কোনো ভিক্ষুক এলে, ভিক্ষুককে এক হাজার টাকা দেয়। শুধু ঢাকা শহর না, প্রতিটা অঞ্চলের একই চিত্র। একই ঘটনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

