
১। মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।
রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম আসার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেছে, ‘আমরা নিজেরা কোনো তালিকা প্রস্তুত করিনি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা যে তালিকা করেছে, আমরা শুধু তা প্রকাশ করেছি। সেখানে কার নাম আছে, আর কার নাম নেই সেটা আমরা বলতে পারব না।
২। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কামডা কি ! দেশের কুখ্যাত কিছু রাজাকারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা বানাইছে ! এখন দেখছি জেনুইন মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও রাজাকার বানাইছে ! শুনছি, এই প্রজেক্টে নাকি অনেক টাকা খরচ হইছে। যেই সব আবাল কর্মকর্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাজাকারের তালিকায় দিছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি !
৩। এই তালিকা প্রকাশ করার আগে যারা নামকরা রাজাকার নামে বিশিষ্ট ছিল তারা এই লিস্টের পর হেসে হেসে বলে যে,এরা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের বেতনভূক্ত ছিল বিধায় এরা রাজাকারের এই লিষ্টে আসছে। আর যাদের বিরুদ্ধে এতদিন বলা হতো তারা স্থানীয় লোকের শিকার।
৪। এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে একজন মন্ত্রী কীভাবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলতে পারেন? মন্ত্রণালয়ের কাজ কীভাবে চলে??
৫। যারা রাজাকারের তালিকা বানাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে ঐ তালিকায় যুক্ত করেছে তাদের আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় জনগণের সামনে দেখানো হোক। একবার এদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অসম্মানজনক কাজ অনেক কমে যাবে। এমনকি এ ধরনের একটা অপকর্মকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে স্বচ্ছভাবে তদন্ত হোক! আমাদের জানা উচিত এ হেন কাজ অনিচ্ছাকৃত ভুল নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত! এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলের মনোযোগ দেয়া উচিত এমনকি টিভি-চ্যানেলগুলো কিংবা সাংবাদিকদেরও এ নিয়ে মাঠে নামা জরুরি। এ ধরনের 'ভুল' কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না!
৬। যারা 'মুক্তিযোদ্ধা' উপাধিকে সুকৌশলে বিতর্কিত করছে তাদের প্রতি ঘৃণা ধিক্কার অভিশাপ। আজকাল দেশে বিদেশে আমরা অনেক মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংবর্ধিত হতে দেখি এমনকি এই লস এন্জেলেসেও!!
৭। রাজাকারের তালিকা থেকে হাজার রাজাকার বাদ পড়ার চেয়েও আমার কাছে বেশি ভীতিকর ও লজ্জাস্কর হলো জাতির একজন সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধার নামকে রাজাকারের তালিকায় দেখতে পাওয়া।
৮। একটা তালিকা হাতে পাওয়ার পর যদি আপনারা যাচাই বাছাই না করেন, তাহলে আপনাদের মন্ত্রনালয়ের কাজটা কি আর আপনাদের মন্ত্রণালয় থেকেই বা প্রকাশ করার দরকার পরলো কেনো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করলেই তো হইতো। আপনারা কি তাইলে শুধু বাল ফালানোর জন্য আছেন?
৯। রাষ্ট্রের টাকা কি আপনার বাপদাদার সম্পত্তি ?
রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করে ইচ্ছে মাফিক তালিকা করবেন আবার বাতিল করবেন।
লজ্জা কি জিনিস সেটাওতো বুঝেন না সবচেয়ে ভালে হতো যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে আপনার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিতেন।।
১০। কিছু মন্ত্রী আছে আওয়ামী লীগ সরকারের তাদেরকে মন্ত্রীর দায়িত্ব না দিয়ে সার্কাসের জোকার বানানো উচিত ছিলো, না হয় রাস্তাঘাটের হকার।
১১। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিএনপি সরকারের সৃষ্টি। অতএব, নষ্টের গোড়া ঐ বিএনপিই। এ মন্ত্রণালয় বাতিল করা হোক।
১২। তালিকা প্রণয়নকারীদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করা হোক-
দায়িত্ব যখন মন্ত্রীর তখন আর কাকে দরকার আপনাদের। অযোগ্যতার আর কত প্রমান চাই আপনার। শুধু মন্ত্রী নয়, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা সরাসরি যুক্ত, তাদের বিচার হওঢা উচিৎ।
১৩। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশ এবং জনতার নেত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি, বঙ্গবন্ধু কন্যা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ দলের অবিসংবাদিত নেতা...
কোথায় নেমে যাচ্ছে দেশ, সে বিষয়ে আপনি ওয়াকিবহাল তো? দেশের সর্বাধিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে এই সমস্ত রাজনৈতিক জুলুমকে দূর করার ক্ষমতা আপনার আছে তো?

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


