
বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি অথবা সংকট।
২০৩০ না, কোনো দিনই আমাদের বেকার সমস্যার কোনোই সমাধান হবে না। তবে, বাংলাদেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে আমি কখনই দমে যাই না। কারণ এত প্রতিকূলতার মাঝে আমাদের তরুণরা তাদের মেধার সাক্ষর রাখছে সারা পৃথিবীতে। আমি শুধু ভাবি তাদের আর একটু সুযোগ দিলে না জানি দেশটা কতই না বদলে যেতো! ছোটবেলা থেকেই এই কথা শুনে আসছি- বর্তমান সরকার বেকার যুবসমাজকে বেকারত্ব থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে; সাথে আমাদের দেশও। এই এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্যতম বাধা হয়ে আছে এবং থাকবে এই বেকারত্ব- এ কথা স্বীকার না করায় কোনো বীরত্ব নেই।
বেকার'রা মনে করে- যারা চাকরি করে তারা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। তারা মোটেও সুখী মানুষ না। তাদের সমস্যার শেষ নেই। বর্তমানে চাকরী পাওয়ার চেয়ে, চাকরী পেয়ে চাকরী টিকিয়ে রাখা বড় ব্যাপার। বেকার'রা চাকরি চাকরি করে মরছে ! কোন রকম বেঁচে থাকবে বলে- একটা চাকরি তার ভীষন দরকার! কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর ছেলেটি বদলে যায়! তখন শুরু হয় নানান অশান্তি।
হাতের কাছে থাকলে আমরা মূল্য দেই না।
শার্ট প্যান্টের ভেতর গুঁজে পরতে হয়। ঘরে নষ্ট ফ্যানের বাতাস খায়। আর অফিসের এসি নষ্ট হলে- ঘাই-ঘুই শুরু করে। নোংরা বাথরুম ব্যবহারে অভ্যস্ত কিন্তু অফিসে এসে চিৎকার করে পিয়নকে বলে- এয়ার ফ্রেশনার মারো। নিজের ঘরে টেবিলে তিন স্তরের ময়লা জমে যায়- কিন্তু অফিসে এসে পিয়নের সাথে চিৎকার, এত ময়লা জমেছে দেখো না?
সারা জীবন নিজের পানি নিজে নিয়ে খাওয়া ছেলে- অফিসে পিয়নকে বলে- ঠান্ডা পানি দাও। উফফ তোমাকে কতবার বলব- আমার আসার আগে আমার টেবিলে বোতলে পানি ভরে রাখবে। রাস্তার পাশে দোকান থেকে চা খাওয়া ছেলেটি- চাকরি পাওয়ার পর- কফি ছাড়া তার চলেই না। এইসব করে নিজেকে খুব স্মার্ট ভাবে তারা। তারপরও তারা নিজেকে অসুখী ভাবে। বলে, কয় টাকা আর বেতন ভাই। গাড়ি, ফ্ল্যাট কোনো দিনও করতে পারব না।
চাকরীতে কেউ সন্তুষ্ট না!
এই জন্যই জীবনানন্দ দাশ বলেছেন- ''পৃথিবীতে নেই কোন বিশুদ্ধ চাকুরি''। বিশ্বের কোনো দেশই বেকারত্ব থেকে মুক্ত নয়। দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। বেকারদের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করতে হবে। দেশের টাকা দেশে রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, দক্ষতা-নির্ভর এবং বিশেষায়িত জ্ঞান নিয়ে তরুণরা নিজেদের তৈরি করলে ভালো বেতনের চাকরী তেমন কোন সমস্যা হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


