
১। এক কৃষক চাষ করে যে ধান পেলো তাতে তার ১১ মাস চলবে। আরেক কৃষক যা পেলো তাতে তার চলবে মাত্র এক মাস।
প্রথম কৃষকের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একদিন ২য় কৃষক শুনতে পেলো বাড়ির ভিতরে বিলাপ হচ্ছে, ‘হে আল্লাহ, তুমি আমারে মাত্র ১১ মাসের ধান দিলা? বাকি এক মাস আমি কীভাবে চলবো?’
২য় কৃষক তার বাড়ি থেকে পুরো এক মাসের ধান ১ম কৃষককে দিয়ে বললো, ‘এই নাও ভাই, আমার চাষের ফসল থেকে তোমাকে এক মাসের ধান দিয়া দিলাম। এতে তোমার পুরা ১২ মাসই চলে যাবে।’ তারপর ঐ বাড়ি থেকে বের হতে হতে ২য় কৃষক বলে, ‘যে আল্লাহ আমারে ১১ মাস চালাইতে পারে, সেই আল্লা আমারে ১২ মাসই চালাইতে পারবো।’
২। ক্রীতদাসের হাসি শওকত ওসমান রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৬২ সালে তিনি এ উপন্যাসটি রচনা করেন।তৎকালীন পাকিস্থানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসন ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে এ উপন্যাস রচিত হয়।এ উপন্যাসের মূল চরিত্র তাতারী।
৩। অসংখ্য প্রিয় বই আছে আমার।
কিছু কিছু প্রিয় বই আছে যেগুলো ক'দিন পরপর না পড়লে আমার জীবনীশক্তি কমে আসে। সঞ্চয়িতা ও রবীন্দ্রসমগ্র, সৈয়দ মুজতবা আলী সমগ্র, সুকুমার রায় সমগ্র, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষন সমগ্র এবং হুমায়ুন আহমেদ সমগ্র- এগুলো ছাড়া বেহেস্তে যেতেও আমার আপত্তি আছে।
৪। শিবরাম চক্রবর্তী লিখেছিলেন: "প্রথমে ভেবেছিলাম যে মন্দির বানাবো। তারপর ভেবে দেখলাম, সেখানে কেবল হিন্দুরাই আসবে, মুসলমান ক্রিশ্চান এরা কেউ ছায়া মাড়াবে না তার। মসজিদ গড়লেও মুসলমান ছাড়া আর কেউ ঘেঁষবে না তার দরজায়। গির্জা হলেও তাই। যাই করতে যাই, সর্বধর্মসমন্বয় আর হয় না। তা ছাড়া পাশাপাশি মন্দির মসজিদ গির্জা গড়লে একদিন হয়তো মারামারি লাঠালাঠিও বেঁধে যেতে পারে। তাই অনেক ভেবেচিন্তে এই পায়খানাই বানিয়েছি। সবাই আসছে এখানে। আসবে চিরদিন।"
৫। মানুষ নয় ছেলেগুলারে টাকা কামানোর মেশিন রূপে গড়ে তোলা হয়। ডাক্তার হও ইঞ্জিনিয়ার হও। বড় একটা নিঃশ্বাস ফালায়া কোনো কোনো মা বাবা কয় "টেহার গাছ লাগাইছি!" এই দেশের ছেলেমেয়েগুলারে এই অটোসাজেশনে বড় করা হয়। এমন দেশে দুর্নীতি হইব না তো কই হইব? ভাবেন একবার। বলতেই হয়: ওরে সন্তান দুর্ভাগ্য তোদের!একবারও তোদের বলা হয় না ওরে মানুষ হ।
৬। সাহিত্যিক খুসবন্ত সিং ২০০৩ সালে বর্তমান সময়ের যুগোপযোগী ‘দ্যা এন্ড অফ ইন্ডিয়া’ বইয়ে লিখেছিলেন, “প্রতিটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু সম্প্রদায় এবং গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে, এবং তাদের মাধ্যমে নিজেদের ভাবধারা বাঁচিয়ে রাখে। তারা প্রথমে একটা কিংবা দুটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে এই কাজ শুরু করলেও সেখানেই কিন্তু তা শেষ হয়ে যায় না। কেবল ঘৃণার উপর নির্ভর করে তারা আন্দোলন তৈরি করে অন্যকে ক্রমাগত ভয় দেখিয়ে নিজেরা টিকে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


