somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভয়

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল রাতের কথা।
রাতে এক বাসায় দাওয়াত ছিলো। আসলে দাওয়াত ছিলো দুই বাসায়। একই সময়ে তো দুই জাগায় যাওয়া সম্ভব না। তাই আমার বাসা থেকে যেই বাসা কাছে সেই দাওয়াতে গেলাম। আমার বন্ধুর বিবাহ বার্ষিকি। সুরভিকেও সাথে নিয়ে গেলাম। ফিরতে ফিরতে রাত এগারোটা বেজে গেল। শীতের রাত! আমি বসলাম বই নিয়ে। বই পড়তে পড়তে ঘুম পেলে ঘুমিয়ে পড়বো। প্রতিদিনই তাই করি। যাই হোক, ঠিক রাত একটায় ঘুম ঘুম ভাব হলো। সাথে সাথে বাতি নিভিয়ে বিছানায় গেলাম। এপাশ-ওপাশ করছি, কিন্তু ঘুম আর আসে না। ততক্ষনে সুরভি গভীর ঘুমে। সুরভি বিছানায় যাওয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়তে পারে।

কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না।
ঘুম ভাঙ্গল ঠিক আড়াইটায়। তখন দেখি ঘরের দরজা হা করে খোলা। বেলকনির বাতি জ্বলছে। এটা কি করে সম্ভব? স্পষ্ট মনে আছে বাতি নিভিয়ে আমি ঘরের দরজা বন্ধ করেছি। দু'টা ছিটকিনি লাগিয়েছি। প্রতিদিনই আমি এই কাজ করি। ভুল হবার কথা নয়। সুরভি পাশে গভীর ঘুমে। হঠাত আমি প্রচন্ড ভয় পেলাম। ভয় পেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। তখন মনে হলো ঘরের মধ্যে কেউ হাঁটছে। আমি ভয়ে কাঁপছি। এখন আমি কি করবো? মনে হচ্ছে ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবো। অথবা সাহস সঞ্চয় করে দেখতে পারি ঘরের ভেতর আসলেই কেউ হাঁটছে কিনা। তারপর বাতি নিভিয়ে, দরজা বন্ধ করে বিছানায়। মাথা কাজ করছে না।

কিছুক্ষন জোরে জোরে শ্বাস নিলাম।
সাহস সঞ্চয় করলাম। চোখে খুলে দেখি বেলকনির বাতি বন্ধ এবং ঘরের দরজা লাগানো। কি হচ্ছে এসব! একটু আগে দেখলাম- ঘরের দরজা খোলা, বেলকনির বাতি জ্বালানো। এখন দেখছি বন্ধ। ঘটনা কি? এরকম হচ্ছে কেন? প্রভু কি আমাকে কোনো ইশারা দিচ্ছেন? এমন না যে আমি অসুস্থ মানুষ অথবা রাতে বন্ধুর বাসায় মদ খেয়েছি। তাই মস্তিস্ক ভুলভাল দেখাচ্ছে। লজিক তো মিলাতে পারছি না। লজিক না মিললেই তো সমস্যা। আমি একজন আধুনিক মানুষ। কোনো প্রকার কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। যদিও এটা খুব সামান্য বিষয়। কিন্তু সমস্যাটা কোথায় ধরতে পারছি না। দরজা বন্ধ করে বাতি নিভিয়েই ঘুমিয়েছি- এটা আমি আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলতে পারি। দীর্ঘদিনের অভ্যাস।

সুরভি একটানা লম্বা ঘুম দেয়।
সে উঠে দরজার খুলবে বা বাতি জ্বালিয়ে রাখবে এটার কোনো সম্ভবনা নেই। তারপরও আমি সকালে সুরভিকে জিজ্ঞেস করেছি সে রাতে উঠেছিলো কিনা। সুরভি উঠেনি। বাকি রাতটুকু আমার আর ঘুম হলো না। ঘরের দরজা আর বেলকনির বাতি নিয়ে নানান কিছু ভাবতে ভাবতে ফযরের আযান দিয়ে দিলো। মনে হলো হুজুর মাইক নিয়ে আমার কানের কাছে আযান দিচ্ছেন। আমার বাসার কাছেই মসজিদ। ভোরে আওয়াজটা বেশ জোরেই আসে। আযানের সময় শুয়ে থাকা ঠিক না। যদি গভীর ঘুমে থাকতাম সেটা ভিন্ন কথা। আযান শেষ হওয়ার আগেই লাফ দিয়ে উঠলাম। আজ নামাজ পড়বো।

অনেকদিন ফযরের নামাজ পড়া হয় না।
ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযু করলাম। পানি তো নয় যেন বরফ। পুরো শরীরের কাপানি দিলো। অবশ্য পানি গরম করে নিতে পারতাম। কিন্তু ইচ্ছা করলো না। ফযরের নামাজ পড়লাম। কি যে শান্তি শান্তি একটা ভাব হলো। আমার নামাজ শেষ হওয়ার পর দেখি সুরভি উঠে গেছে। সে নিয়মিত ভোরেই উঠে। ফযরের নামাজ পড়ে। সুরভি চা বানালো। চায়ের মগ হাতে নিয়ে বেলকনিতে দাড়ালাম। চারিদিকে ভয়াবহ কুয়াশা। খুব ঠান্ডা। সুরভিকে বললাম পার্কে যাবে নাকি হাঁটতে? সে বলল, এই ঠান্ডায় আমি ঘর থেকে বের হবো না। এমনিতেই ঠান্ডা লেগে গেছে। কাশি শুরু হলে তো মুশকিল।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৩
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×