somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবনের গল্প- ২৯

০৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষের জীবনে একাধিক গল্প থাকে।
জীবনের গল্প গুলো সাধারনত সহজ সরল হয় না। পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষের গল্প ফুরাবে না। চারিদিকে নানান রকম মানুষ, নানান রকম তাদের গল্প। সেই গল্প গুলো লিখতে হবে, পড়তে হবে, অপরকে জানাতে হবে। আমি বুঝতে চেষ্টা করি মানুষকে। জানতে চেষ্টা করি মানুষের গল্প গুলো। বাঙ্গালীদের আনন্দের চেয়ে দুঃখের গল্প বেশি। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মানুষের চেয়ে বাঙ্গালীদের গল্প অনেক বেশি। আমি ঠিক করেছি জীবনের গল্প ব্লগারদের বলব। মানুষ বাস্তব গল্প শুনতে ভালোবাসে। মানুষ অন্যের জীবনের গল্প নিজের সাথে মিলিয়ে নেয়। তারপর গোপনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে!

আমার বন্ধু বাবলু।
জগন্নাথ থেকে বাংলায় মাস্টার্স করেছে। খুব ভালো ছেলে। সব সময় শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে। কথায় কাজে বেশ দক্ষ। ঢাকা শহরে বাবলুর কেউ থাকে না। বাবলু মেসে থাকে। চাকরির খোজে বাবলুর জুতো অনেক গুলো ক্ষয় হয়েছে। অথচ কত অগা-মগা-জগা চাকরি করছে। জীবন তেজপাতা করে অবশেষে আমার বন্ধু একটা চাকরি যোগাড় করতে পেরেছে। ট্রাভেল এজেন্সীতে। বেতন মাত্র ১৪ হাজার টাকা। বাবলু অনেক খুশি। মাস্টার্স পাশ করে ১৪ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করতে হচ্ছে। অথচ একই প্রতিষ্ঠানে মালিকের গাড়ির ড্রাইভার ক্লাশ ফাইভ পাশ করে বেতন পাচ্ছে বাইশ হাজার টাকা। উপরি ইনকামও আছে। দুপুরের খাবার ফ্রি। মালিকের ড্রাইভার হওয়াতে অফিসের সবাই তাকে তোয়াজ করে চলে। অথচ আমার বন্ধু সারাদিন গাধার মতো পরিশ্রম করে। তার লেখাপড়ার দামটা রইলো কোথায়? অবশ্য এই শহরে গাড়ি চালানোও বিরাট দিকদারি। অনেক কষ্ট।

আমাদের সমাজে বৈষম্য দিয়ে ভরা।
ঘরে বাইরে, অফিস আদালতে সব জাগায় বৈষম্য। অথচ দেশ নাকি উন্নয়নের মহাসড়কে। এখন বন্ধু বাবলু ১৪ হাজার টাকা বেতন পেয়ে ঘর ভাড়া দিবে কি? খাবে কি? বাবলু এমন পজিশনে আছে যে দূর্নীতি করার সুযোগও নেই। দূর্নীতি করার সুযোগ থাকলে আমি বলতাম দূর্নীতি কর। ইচ্ছা মতো দূর্নীতি কর। অথচ ড্রাইভারের এক্সট্রা ইনকাম আছে। ড্রাইভার আমার বন্ধুর সাথে খুব ভাব নেয়। আমার বন্ধুকে তুমি তুমি করে বলে। যাই হোক, অন্য কথা বলি- মেয়েদের লেখাপড়ার দরকার আছে? অবশ্যই দরকার আছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এযুগের মেয়েরা লেখাপড়ায় অনেক দূর এগিয়েছে। অনার্স-মাস্টার্স পাশ করা মেয়ের অভাব নেই সমাজে। বহু মেয়ে বেশ ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। সেলারিও বেশ ভালো। কিন্তু বহু মেয়ে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করে না। তারা ঘর সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাহলে তাদের লেখাপড়া শিখে লাভটা কি হলো?

অন্য মানুষের কথা কি বলব!
আমার ঘরেই তো এই অবস্থা। সুরভি মাস্টার্স পাশ করে এখন ঘর সংসার নিয়ে ব্যস্ত? আমি সুরভিকে বলি- লেখাপড়া শিখলে অথচ তোমার লেখাপড়া দেশের কোনো উপকারে আসলো না। তাহলে লেখাপড়া শিখে লাভটা কি হলো? সুরভি অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে! সুরভির মতো এরকম বহু মেয়ে আছে। লেখাপড়া শিখে ঘর সংসার করে। আমার কথা হলো- যদি ঘর সংসার করবি তো তাহলে এত লেখাপড়া করলি কেন? ইন্টার পর্যন্ত পড়লেই তো হতো। শুধু শুধু বাপ মায়ের টাকা নষ্ট। অবশ্য সুরভি আমাকে বলে, তাহলে আমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দাও। তখন আমি বলি- থাক, চাকরির দরকার নাই। মন দিয়ে সংসার করো। যে মেয়েরা চাকরি করে তারা কি খুব ভালো আছে? চাকরিতে সম্মান যেমন আছে, বেশ লাঞ্ছনা আছে। এই আধুনিক যুগে এসেও আমাকে বলতে হচ্ছে- মেয়েদের জন্য কোথাও নিরাপদ স্থান নেই।

নিজের চোখে দেখা একটা ঘটণা বলি।
এক কোম্পানীতে আমি ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছি। সেখানে দেখি, একটা মেয়ে এসেছে ইন্টারভিউ দিতে তার বাবাকে সাথে নিয়ে। আরেক মেয়ে সাথে করে নিয়ে এসেছে তার মাকে। আরেকজনকে দেখলাম মামাকে নিয়ে এসেছে। দেখুন, দেশের অবস্থা মাস্টার্স পাশ করা একটা মেয়ে ইন্টারভিউ দিতে একা যেতে সাহস পায় না। সাথে করে বাবা, মা বা মামাকে নিয়ে যেতে হয়। অথচ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। এমন উন্নয়নের মুখে লাথি মারি। যুগ যুগ ধরে এই সমাজ আর ধর্ম মেয়েদের কোনঠাসা করে ফেলেছে। খুব দুঃখজনক। আমাদের দেশের মানুষ ভালো না। প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে বিরাট বদ। বিনা দ্বিধায় তাদের অমানুষ বলা যায়।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৪১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×