
সকালে এক অফিসে গিয়ে অবাক হয়ে গিয়েছি!
অফিসের সবাই মাস্ক পরা। পিয়ন থেকে শুরু করে অফিসের বড় স্যার পর্যন্ত। রিসিপশনের ছেলেমেয়ে দু'টিও মাস্ক পড়ে আছে। এক সিকিউরিটি গার্ড লোক আমার কাছে এসে বলল, দাঁড়ান। তার মুখেও মাস্ক। সে আমার কপালের কাছে কি যেন একটা ধরলো। আমি বললাম, কি হয়েছে? গার্ড বলল, আপনার করোনা ভাইরাস আছে কিনা দেখছি। সব মিলিয়ে দুই-তিন সেকেন্ড সময় থাকলো। গার্ড হাসি দিয়ে বলল- না, নেই। আপনি নিরাপদ। আর একটু সামনে যেতেই দেখি- টেবিলের উপর অনেক গুলো বোতল সাজিয়ে রেখেছে। সেখানে একজন গার্ড বলল, বোতলের নিচে হাত পাতুন। আমি হাত পাতলাম। কোনো কিছু টিপ দেওয়া ছাড়াই হাতে বোতল থেকে এক চা চামুচ কি যেন পড়লো। গার্ড বলল, দুই হাতে ভালো করে মাখুন। তাতে হাতে কোনো জীবানু থাকবে না। করোনা আতঙ্কে বেশ ভালো নিয়ম করেছে। সব অফিস আদালত, স্কুল কলেজে এরকম নিয়ম করলে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে হয়তো। এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে সচেতন থাকতে হবে। সাবধান থাকতে হবে।
বাসায় গত তিনদিন ধরে আমি একা।
সুরভি তার বাবার বাড়ি গিয়েছে। কারন তার বোন এসেছে ইটালি থেকে। জমজ বোন। সে একমাস থাকবে। এই একমাস সে তার বোনের সাথে থাকবে। বোন যেখানেই যাক বোনের সাথে থাকবে। অবশ্য বোন আসার আগেই সুরভি আমাকে বলে রেখেছে- একমাস সে তার বোনের সাথে থাকবে। বোন যদি সুসং দূর্গাপুর যায়, সেও সাথে যাবে। বোন যদি তেতুলিয়া যায় সেও তেতুলিয়া যাবে। যাক। আমি মানা করি নাই। আমার সমস্যা হলো আমি রাতে একা ঘুমাতে পারি না। রাতে ভয় পাই। বাতি বন্ধ করে বিছানায় যাওয়া মাত্র মনে হয় ঘরে আমি ছাড়াও অন্য কেউ আছে। তারা ফিসফিস করে কথা বলে। এমন কি তাদের নিঃশ্বাসের শব্দও যেন শুনতে পাই। এমনই পোড়া কপাল আমার- এই ভয়ের সাথে আরো নতুন নতুন দু'টা ভয় যুক্ত হয়েছে। আমি জানি, সুরভিকে যদি আমার ভয়ের কথা বলি- সে যাবে না তার বাপের বাড়ি। স্ত্রীকে নিজের ভয়ের কথা বলতে আমার ভালো লাগে না। স্ত্রীরা স্বামীকে হিরো ভাবতে চায়। সন্তানরা বাপকে সুপারম্যান ভাবতে চায়। হিরো আর সুপারম্যান হওয়ার জন্য আমাকে অনেক কিছু করতে হয়।
নতুন দু'টা ভয়ের কথা বলে নিই। পরে ভুলে যেতে পারি।
গতরাতের কথা। বিছানায় গিয়েছি দুইটায়। কিছুতেই ঘুম আসছে না। এপাশ ওপাশ করছি। এপাশ ওপাশ করতে করতে রাত তিনটা বেজে গেল। ঘুম আসছে না। কিছুক্ষন মোবাইলে গেমস খেললাম। মোবাইলে চার্জ শেষের দিকে। চোখ বন্ধ করে পড়ে আছি। যে করেই হোক, ঘুমাতে হবে। হঠাত শুনি খাটের নিচে কেমন যেন শব্দ! সাপ আর বেজি মারমারি করলে যেরকম শব্দ, ঠিক সেরকম শব্দ। খাটের নিচে যে দেখব সেই উপায় নাই। বক্স খাট। মনে মনে ভাবছি সাপ আর বেজি যদি মারামারি করতে করতে কোনোভাবে খাটের উপর চলে আসে। হায় হায়! এটা ভাবতেই প্রচন্ড ভয় পেলাম। এই ভয়ের চোটেই ঘুম এসে গেল। কিন্তু কিছুক্ষন পরেই তীব্র আতরের গন্ধে ঘুম ভেঙ্গে গেল। মারাত্মক তীব্র গন্ধ! আমি আতরের গন্ধ সহ্য করতে পারি না। রাত সাড়ে তিনটায় কে আতর দিচ্ছে? লাফ দিয়ে খাট থেকে নামলাম। আতরের গন্ধের অনুসন্ধান করলাম। অনুসন্ধানে কিছু পেলাম না।
গত রাতের আগের রাতের কথা।
মাসরুর আরেফিন এর 'আগস্ট আবছায়া' বইটা পড়তে পড়তে রাত দুইটা বেজে গেল। সুরভি যাওয়ার আগে বলে গেছে, রাত জেগো না। বারোটার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ো। আমি আড়াইটা পর্যন্ত বই পড়লাম। ফ্রিজে মিষ্টি আর সন্দেশ ছিলো। দু'টা খেলাম। পানি খেলাম। তারপর ব্যলকনিতে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট শেষ করে বিছানায় গেলাম। সোয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়লাম। গভীর ঘুম। কতক্ষন ঘুমিয়েছি জানি না। হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেল! কে যেন আমাকে ডাকছে। ব্যকুল হয়ে ডাকছে- নূর দরজা খোলে। এই নূর দরজা খোলে। সাথে দরজায় খটখট শব্দ করছে। আমি প্রচন্ড ভয় পেলাম। ভয়ে আমার শরীর কাঁপছে। ভয়ে বালিশ দিয়ে মাথা ডেকে ফেললাম। যেন কোনো শব্দ আমার কানে না ডুকে। তখন হঠাত তীব্র গন্ধ নাকে এসে লাগলো। বেলি ফুলের গন্ধ। বেলি ফুলের গন্ধটা আমার ভীষন প্রিয়। অনেক সাহস সঞ্চয় করে আমি বিছানা থেকে নামলাম। এক গ্লাস পানি খেলাম। আর কি আশ্চর্য সাথে সাথে সমস্ত ভয় দূর হয়ে গেল। এবং বেলি ফুলের গন্ধটার উৎস ধরে ফেললাম।
আজকের পোষ্ট এখানেই শেষ করলাম।
এখন বাইরে যাবো। তাছাড়া আজ মনটাও ভালো নেই। আজ সুরভির জন্মদিন। অথচ সুরভির সাথে দেখা হলো না। অবশ্য ইচ্ছা করলে এখনই চলে যেতে পারি তার কাছে। সুরভি আজ জিন্দা পার্ক গিয়েছে। আমাকেও খুব অনুরোধ করেছিলো তাদের সাথে যাওয়ার জন্য। আমি কঠিন করে মানা করে দিয়েছি। অবশ্য সুরভি বাসায় থাকলে বিকেলে আমরা বের হতাম। পরীকে সাথে নিতাম না। সুরভিকে অবাক করে দিয়ে বেইলী রোড থেকে একটা চুন্ডি শাড়ি কিনে দিতাম। রিকশা করে এক ঘন্টা এলোমেলো ঘুরতাম। রাতে বাসায় ফেরার আগে কোনো বড় রেস্টুরেন্টে রাতের খাবারটা সেরে নিতাম। বাসার কাছে এসে রিকশা থেকে নেমে দু'টা কন আইসক্রীম কিনে খেতে খেতে বাসায় ফিরতাম। গত বছরও তো এই রকম'ই করেছিলাম। সুরভি ভালো থাকুক। সুস্থ থাকুক এটুকুই চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



