
আজ চমৎকার একটা দিন।
কাঁচের মতো স্বচ্ছ রোদ! শীতল বাতাস। চারপাশের মানুষজনকে কেমন সুখী সুখী লাগছে। রাস্তায় জ্যাম নেই। ছোট এক বাচ্চা মায়ের হাত ধরে বাসায় যাচ্ছে। বাচ্চার হাতে একটা নীল রঙের বেলুন। বাচ্চাটা বেলুন হাতে নিয়ে রাজা বাদশার মত হেঁটে যাচ্ছে। ভ্যান গাড়িতে করে এক লোক নানান রকম সবজি বিক্রি করছে। এক বুড়ো রাস্তায় দাঁড়িয়ে খুব সিগারেট টানছে। একজন রিকশা চালক রাস্তায় রিকশা রেখে ফুটপাত বসে আরাম করে চা খাচ্ছে। প্রতিটা দৃশ্য দেখে আমি মজা পাচ্ছি। আনন্দ পাচ্ছি। কোনো কোনোদিন এরকম হয় অতি তুচ্ছ দৃশ্যও মনে আনন্দ দেয়। আমি আনন্দ পেয়ে এবং আনন্দ দিতে পছন্দ করি।
কোনো কারন ছাড়াই একটা বাসে উঠে গেলাম।
বাস যেখানে গিয়ে থামবে নেমে যাবো। রাস্তায় জ্যাম নেই, তাই বাস খুব দ্রুত চলছে। ভাগ্য বেশ ভালো সিট পেলাম, তাও আবার জানালার ধারে। জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস আসছে। বাতাসে আমার মাথার লম্বা চুল গুলো উড়ছে। খুব ভালো লাগছে। বাস বনানী থামলো। হঠাৎ একটি তরুনী মেয়ে উঠলো কিন্তু আর সিট খালি নেই। মেয়েটি খুব সুন্দর। দারুন সুন্দর। আমি লাফ দিয়ে উঠে বললাম, আসসালামু আলাইকুম, নিন এইখানে বসুন। মেয়েটি হাসি মুখে আমার সিটে বসল। বলল, আপনি কি সব সময় মেয়েদের এই রকম সিট ছেড়ে দেন? আমি বললাম- জ্বী। ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু আমাকে দেখে কেউ কোনোদিন সিট ছেড়ে দেয়নি। হে হে
মেয়েটা দেখতে ভীষন মিষ্টি।
ইচ্ছা করছে আজ সারাটা দিন মেয়েটার সাথে থাকি। হাত ধরে হাঁটি। চা খাই, ফুসকা খাই। বার্গার খাই। কোক খাই। আমি মুগ্ধ চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি! কিছু কিছু মেয়ে এত সুন্দর হয়! একদম বুকে এসে লাগে। আল্লাহ যেন তাদের নিজের হাতে তৈরি করেন। ঘটনা চক্রে আমরা একই জাগায় দু'জন নামলাম। মেয়েটি বলল, আমার খুব ইচ্ছা করছে আপনাকে একটা বার্গার আর কোক খাওয়াই। আমি বললাম- চলুন। ঠিক তখন মাথার উপরে সূর্য। নরম রোদ। একেবারে স্বচ্ছ কাচের মতোন রোদ। আমরা একটা ফাস্টফুডের দোকানে ঢুকলাম। দোকানে প্রবেশের সাথে সাথে সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। কতগুলো এসি ছেড়ে রেখেছে কে জানে!
আমি আরাম করে বার্গার আর কোক খেলাম।
খুব আরাম করে খেলাম। আর বার্গারটা এত মজা। মুখে দিতেই গলে গলে যাচ্ছে। বেশ ক্ষিধে পেয়েছিল আমার। মেয়েটি কিভাবে বুঝলো কে জানে! আসলে মেয়েরা অনেক কিছু বুঝে যায়। জেনে যায়। এই ক্ষমতা ঈশ্বরই তাদের জন্মের সময় দিয়ে দেন। মেয়েটি বলল, আপনার হাতে কাজ না থাকলে আমার সাথে চলুন। আমি বললাম, অবশ্যই। মানুষের জীবন কত সহজ সরল সুন্দর! কারা জীবনকে জটিল করে, কুটিল করে! এই মুহুর্তে নিজেকে আমার সমস্ত ইউরোপের বাদশা বলে মনে হচ্ছে। চিৎকার করে বলতে ইছা করছে- দেখো আমার পাশে কে! ক্লিওপেট্রা বা জিউসের কন্যা হেলেন এই মেয়ের কাছে কিছু না।
সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা একসাথে ছিলাম।
কত রকমের যে গল্প হলো। মেয়েটা হাত নেরে নেরে কি যে সুন্দর করে গল্প করে। ইচ্ছা হয় মেয়েটাকে বলি- তুমি ননস্পট গল্প করে যাও। থামবে না। রাতের পর রাত পার হয়ে যাক। তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। মেয়েটির সাথে আমার খুব ভাব হয়ে গেল। আমি মেয়েটাকে তার বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিলাম। গতমাসে মেয়েটি আমস্টারডাম গিয়েছিল। গতকাল ঢাকা ফিরেছে। আগামীকাল মেয়েটির সাথে আমার দেখা হবে। আমার খুব ভালো লাগছে। খুব আনন্দ হচ্ছে। আমি গুনগুন করে গান গাইছি- ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান--. তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান--. আমার আপনহারা প্রাণ আমার বাঁধন-ছেড়া প্রাণ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


