somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

Life Is Beautiful

০৯ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ চমৎকার একটা দিন।
কাঁচের মতো স্বচ্ছ রোদ! শীতল বাতাস। চারপাশের মানুষজনকে কেমন সুখী সুখী লাগছে। রাস্তায় জ্যাম নেই। ছোট এক বাচ্চা মায়ের হাত ধরে বাসায় যাচ্ছে। বাচ্চার হাতে একটা নীল রঙের বেলুন। বাচ্চাটা বেলুন হাতে নিয়ে রাজা বাদশার মত হেঁটে যাচ্ছে। ভ্যান গাড়িতে করে এক লোক নানান রকম সবজি বিক্রি করছে। এক বুড়ো রাস্তায় দাঁড়িয়ে খুব সিগারেট টানছে। একজন রিকশা চালক রাস্তায় রিকশা রেখে ফুটপাত বসে আরাম করে চা খাচ্ছে। প্রতিটা দৃশ্য দেখে আমি মজা পাচ্ছি। আনন্দ পাচ্ছি। কোনো কোনোদিন এরকম হয় অতি তুচ্ছ দৃশ্যও মনে আনন্দ দেয়। আমি আনন্দ পেয়ে এবং আনন্দ দিতে পছন্দ করি।

কোনো কারন ছাড়াই একটা বাসে উঠে গেলাম।
বাস যেখানে গিয়ে থামবে নেমে যাবো। রাস্তায় জ্যাম নেই, তাই বাস খুব দ্রুত চলছে। ভাগ্য বেশ ভালো সিট পেলাম, তাও আবার জানালার ধারে। জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস আসছে। বাতাসে আমার মাথার লম্বা চুল গুলো উড়ছে। খুব ভালো লাগছে। বাস বনানী থামলো। হঠাৎ একটি তরুনী মেয়ে উঠলো কিন্তু আর সিট খালি নেই। মেয়েটি খুব সুন্দর। দারুন সুন্দর। আমি লাফ দিয়ে উঠে বললাম, আসসালামু আলাইকুম, নিন এইখানে বসুন। মেয়েটি হাসি মুখে আমার সিটে বসল। বলল, আপনি কি সব সময় মেয়েদের এই রকম সিট ছেড়ে দেন? আমি বললাম- জ্বী। ছোটবেলা থেকেই। কিন্তু আমাকে দেখে কেউ কোনোদিন সিট ছেড়ে দেয়নি। হে হে

মেয়েটা দেখতে ভীষন মিষ্টি।
ইচ্ছা করছে আজ সারাটা দিন মেয়েটার সাথে থাকি। হাত ধরে হাঁটি। চা খাই, ফুসকা খাই। বার্গার খাই। কোক খাই। আমি মুগ্ধ চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি! কিছু কিছু মেয়ে এত সুন্দর হয়! একদম বুকে এসে লাগে। আল্লাহ যেন তাদের নিজের হাতে তৈরি করেন। ঘটনা চক্রে আমরা একই জাগায় দু'জন নামলাম। মেয়েটি বলল, আমার খুব ইচ্ছা করছে আপনাকে একটা বার্গার আর কোক খাওয়াই। আমি বললাম- চলুন। ঠিক তখন মাথার উপরে সূর্য। নরম রোদ। একেবারে স্বচ্ছ কাচের মতোন রোদ। আমরা একটা ফাস্টফুডের দোকানে ঢুকলাম। দোকানে প্রবেশের সাথে সাথে সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। কতগুলো এসি ছেড়ে রেখেছে কে জানে!

আমি আরাম করে বার্গার আর কোক খেলাম।
খুব আরাম করে খেলাম। আর বার্গারটা এত মজা। মুখে দিতেই গলে গলে যাচ্ছে। বেশ ক্ষিধে পেয়েছিল আমার। মেয়েটি কিভাবে বুঝলো কে জানে! আসলে মেয়েরা অনেক কিছু বুঝে যায়। জেনে যায়। এই ক্ষমতা ঈশ্বরই তাদের জন্মের সময় দিয়ে দেন। মেয়েটি বলল, আপনার হাতে কাজ না থাকলে আমার সাথে চলুন। আমি বললাম, অবশ্যই। মানুষের জীবন কত সহজ সরল সুন্দর! কারা জীবনকে জটিল করে, কুটিল করে! এই মুহুর্তে নিজেকে আমার সমস্ত ইউরোপের বাদশা বলে মনে হচ্ছে। চিৎকার করে বলতে ইছা করছে- দেখো আমার পাশে কে! ক্লিওপেট্রা বা জিউসের কন্যা হেলেন এই মেয়ের কাছে কিছু না।

সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা একসাথে ছিলাম।
কত রকমের যে গল্প হলো। মেয়েটা হাত নেরে নেরে কি যে সুন্দর করে গল্প করে। ইচ্ছা হয় মেয়েটাকে বলি- তুমি ননস্পট গল্প করে যাও। থামবে না। রাতের পর রাত পার হয়ে যাক। তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। মেয়েটির সাথে আমার খুব ভাব হয়ে গেল। আমি মেয়েটাকে তার বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিলাম। গতমাসে মেয়েটি আমস্টারডাম গিয়েছিল। গতকাল ঢাকা ফিরেছে। আগামীকাল মেয়েটির সাথে আমার দেখা হবে। আমার খুব ভালো লাগছে। খুব আনন্দ হচ্ছে। আমি গুনগুন করে গান গাইছি- ফাগুন, হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান--. তোমার হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান--. আমার আপনহারা প্রাণ আমার বাঁধন-ছেড়া প্রাণ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৩০
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×