
তৈমুস বাদশাহের কন্যা জুলেখা।
দারুন সুন্দরী। বেশ ধুমধাম করে বাদশা আজিজের সাথে তার বিয়ে হয়। তখন জুলেখার বয়স মাত্র ১৩ বছর। জুলেখার ভীষন বাচ্চার শখ। বাদশা আজিজের সমস্যা আছে। বাচ্চা হয় না। এদিকে পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে। সারাদিন জুলেখা মন খারাপ করে থাকে। আজিজ ব্যস্ত থাকে তার রাজ দরবার নিয়ে। জুলেখার দিকে ফিরে তাকানোর তার সময় নেই। বয়সে ইউসুফ (আ) ছো। জুলেখা বড়। ৪/৫ বছরের বড়। ইউসুফ (আঃ) দারুন স্মার্ট ছিলেন। প্রচন্ড রুপবান এবং হৃদয়বান ছিলেন।
সাহিত্যিকেরা নানান রঙ রস মিশিয়ে ইউসুফ জুলেখার কাহিনী লিখেছেন।
যা মনগড়া। এমন কি মুখে মুখে নানান রকম গল্প প্রচিলিত আছে। যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীণ। বিভিন্ন সাহিত্যে ইউসুফ (আ.)-এর সঙ্গে জুলেখার পুনর্মিলনের বর্ণনা পাওয়া যায়। ইউসুফ-জোলেখা সেই মধ্যযুগের লেখকদের রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি প্রণয়-কাব্য। তারও বহু আগে পনেরো শতকে শাহ মুহম্মদ সগীর এটি রচনা করেন।
ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের বিষয়বস্তু প্রণয় কাহিনী।
সাহিত্যের সকল লেখকই কুরআন কাহিনী অবলম্বন করেছেন তবে ইউসুফ -জুলেখার মিলন দিয়ে সকলেই কাহিনী শেষ করেছেন। এটি স্পষ্টত কোরআনের খেলাফ। সত্যি কথা এই যে, জুলেখার সাথে ইউসুফের বিবাহ হয়েছিল এমন কোন ভিত্তি নেই। কুরানে জুলেখা নামটি নেই। বলা হয়েছে আজীজের স্ত্রী। কোন কোন তাফসিরকারক আজীজের স্ত্রির নাম দিয়েছে জুলেখা।
আজীজের স্ত্রী জুলেখা ইউসুফের রুপ আর সৌন্দর্যে মুগ্ধ ছিল।
সে ইউসুফকে বেশ কয়েকবার সহবাস করার জন্য আহবান জানায়। কিন্ত আল্লাহ ভীরু ইউসুফ তার এই আহবান থেকে নিজেকে মুক্ত রাখেন। জুলেখার প্রস্তাবে রাজী না হওয়াতে জুলেখা প্রচন্ড রেগে যায়। অপমানিত বোধ করে এবং রেগে গিয়ে কারাগারে বন্ধী করে রাখেন ইউসুফ (আ) কে।
কোরআনে ইউসুফ নবীর ঘটনাবলী একত্রে সাজিয়ে একটি সূরাতে সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে।
আর এর মধ্যে যেসব ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, তা যেমনি অলৌকিক, তেমনি চমকপ্রদ ও শিক্ষণীয়। ইউসুফ (আ.) প্রথম জীবনে ক্রীতদাস, পরবর্তীতে জেলের আসামি এবং শেষ জীবনে মিসরের ক্ষমতাধর রাজকর্মচারী বা মন্ত্রী ছিলেন বলে ধারনা করা হয়। এর বাইরে তিনি ছিলেন আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী। স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদানের দুর্লভ ক্ষমতা বা দক্ষতা তাকে প্রসিদ্ধ করে তোলে। তিনি নবী হিসেবে তৎকালে মূর্তি উপাসকদের মাঝে এক আল্লাহর একাত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন।
পবিত্র কোরআনের ১২তম সূরার নাম ‘সূরা ইউসুফ’।
কোরআনের কাহিনী ইউসুফ জুলেখার প্রেম কাহিনী নয়। ইউসুফ [আঃ] এর প্রতিষ্ঠার কাহিনী। একজন নবীর প্রতিষ্ঠার কাহিনীকে গৌণ করে সেটিকে প্রেমোপাখ্যানে পরিণত করা সাহিত্যের আদালতে অপরাধ না হলেও নৈতিকতার দিক দিয়ে নীচ সন্দেহ নেই। নবীদের কাহিনীর নামে বাংলা ভাষায় অনেক বই রচিত হয়েছে। যা বাজারে রাস্তায়, ফুটপাথে বিভিন্ন যায়গায় কিনতে পাওয়া যায়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তাই আসুন আমরা কুরান পড়ি, কুরান নিয়ে গবেষনা করি।
নবীদের জীবন কাহিনী কুরান থেকেই জানার চেষ্টা করি। তার থেকে শিক্ষা নেই। নিজের জীবনকে সে আলোয় আলোকিত করি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২০ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


