
মানুষের স্বভাবগত ধর্ম হচ্ছে ক্ষমতা অর্জন এবং প্রয়োগ। রাজনীতিবিদদের সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা একটি ক্ষমাহীন ভুল। আমেরিকার রাজনৈতিক দলে দুর্বল লোকজন প্রবেশ করেছে বলেই ট্রাম্প জয়ী হতে পেরেছিলো। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই আমেরিকার প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প যদি আগামী নির্বাচনে পরাজিত হয়, তবে তার বিচার হবে।
আমেরিকায় ছয় লাখ বাঙ্গালী বাস করে। আগামী ১৫ বছরে আরো ৬/৭ লাখ আসবে। ভয়ংকর ভাবে ঘন জনসংখ্যার দেশ থেকে কিছু মানুষ ভালো দেশে বাস করে হার্ড কারেন্সী পাঠায়। চীন করোনার আক্রান্ত ও মৃত্যুহার নিয়ে লুকোচুরি করেছে ফলে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা ইউরোপ, আমেরিকা বুঝতে পারিনি, হালকাভাবে নেওয়াটা তাদের জন্য মারাত্মক হয়েছে।
অবশ্য আমেরিকা নিয়ে আমাদের চিন্তার কিছু নেই। বিশ্ব মোড়ল যে কোন ভাবেই তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিবেই। মরণদশা হবে তৃতীয় বিশ্বের। আমরা অর্থনৈতিক ভাবে দারুন ক্ষতিগ্রস্থ হবো যা পুষিয়ে নিতে আমাদে কয়েক দশক চলে যাবে। নিউইয়র্কে ডুবায়ে দিয়েছে ট্রাম্প ও গভর্ণর।
গজব একটি আজব শব্দ।
এই শব্দটির প্রয়োগ এক মাত্র বাংলাদেশেই হয়। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে শব্দটির আসলেই কোন প্রয়োগ আছে কিনা আমার জানা নাই। আমাদেরকে যুক্তিবাদী হতে হবে। বুঝতে হবে সঠিক রহস্য। জানতে হবে সঠিক তথ্য। বিজ্ঞানকে এভয়েড করে যতই যুক্তি দিক, আমার কাছে কুযুক্তি মনে হয়। গজব দিচ্ছে হাবিজাবি এসব আমার অনুভূতিতে কোন কাজই করে না। বাংলাদেশের পদ্মাসেতু গড়ছে চীন, বাঙ্গালীরা মালয়েশিয়া গিয়ে দাসের চাকুরী করছে, কেন? কারণ, তাদের দক্ষতা ও জ্ঞানের লেভেল তাদেরকে এতটুকুই দিতে পারে।
এখন আরেকটা দিক দেখেন, এটা যদি 'গজব' হয়, সেটার জন্য চীনকে বা অন্য কাউকে দায়ী করা কি ঠিক হবে? মানুষ সভ্যতার ইতিহাসে করোনা ভয়ংকর মহামারী হিসেবে স্থান পাবে। এজন্য আল্লাহকে অকারণ জড়াচ্ছে কিছু লোকজন। কিন্তু পশ্চিম ইহাকে আল্লাহর গজব বলছে না, কারণ তারা লজিক্যালী ভাবে। বিশ্ব ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দিন শেষে বলা যায়- যেসব জাতি বিজ্ঞান, টেকনোলোজী, অর্থনীতি, ফাইন্যান্স জানবে, তারা ভালো থাকবে। মৌলিকভাবে বাঙালি, অবাঙালি সবাই একই রকম। ধর্ম সবাই প্রাণ দিয়ে পালন করে কিংবা অন্তত বিশ্বাস রাখে, এটা শুধু বাঙালি নয় বিশ্বজুড়ে সকল ধর্মপ্রাণ জাতিই।
সারাবিশ্ব জুড়েই কুসংস্কার রয়েছে। আর কুসংস্কারের জন্ম হয়, ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে অথবা সামাজিক জ্ঞানের অভাবে। 'গজব' প্রাকৃতিক দুর্যোগের লজিকবিহীন ব্যাখা। কোন বাইওলোজিষ্ট, পেথোলোজিষ্ট, ডাক্তার যদি ইমাম হতেন, মসজিদে কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারতেন। দুনিয়ার সব মুসলিম কান্ট্রি জুমার নামায পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে অথচ দেখেন আমাদের দেশে পাচ ওয়াক্ত নামায সহ জুমার নামায সবই হচ্ছে, কারো কোন ধারনাই নাই আসলে কি হচ্ছে! এইভাবে কি করোনা মোকাবেলা করা যায়? মসজিদ কি ইনফেকশানের বাইরে? এ কি ধরনের লক ডাউন?
একজনের ভালো কর্মের জন্য যেমন কোটি মানুষ সুবিধা ভোগ করতে পারে, একজনের খারাপ কর্মের জন্য তেমন কোটি মানুষ অসুবিধা ভোগ করতে পারে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। যে সকল ডাক্তার নিজের ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে নিরন্তর এই সংগ্রামে অগ্র নায়কের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তাদের জানাই সশ্রদ্ধ সালাম। তোমরা দিনরাত ছায়া দিয়ে আছ বলে আমরা শঙ্কাহীন নিদ্রা যেতে পারছি।
মানুষের মাঝে সচেতনতা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা পরাজিত হোক এইটাই চাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




