
ইদানিং আমার খাই খাই স্বভাব হয়েছে।
খালি ক্ষুধা লাগে। শুধু ভালো মন্দ খেতে ইচ্ছা করে। এই দুর্যোগে এত খিদা কেন লাগে? কিছু দিন ধরে ইচ্ছা মতো খাচ্ছি। একদম পেটুক হয়ে গেছি। আগে খাওয়াটা বিরক্তকর লাগতো, এখন খাওয়াটা বড় আনন্দময় লাগে। মাঝে দিয়ে একদিন বের হয়ে দুনিয়ার বাজার করে নিয়ে আসছি। সুরভি রান্না করছে, আমি খেয়ে যাচ্ছি। এদিকে কোনো কাম কাজ নাই। সারাদিন বাসায় আজাইরা শুয়ে বসে আছি। টিভি দেখছি, বই পড়ছি, মুভি দেখছি। গেমস খেলছি। ছাদে যাই গাছে পানি দেই। সারারাত ঘুম আসে না। ফযরের আযান দিয়ে দেয় তবু ঘুম আসে না। অবশ্য আমি সময় অপচয় করি না। বই পড়ি। জানি পরিশ্রম না করলে তো ঘুম আসে না। খিলগাও থেকে উত্তরা পর্যন্ত হাটা দিতাম। শরীর ক্লান্ত থাকতে, এমনিতেই ঘুম এসে যেত। বন্দী জীবন যাপন মোটেও আনন্দময় কিছু না। জেলখানায় আসামীরা কিভাবে থাকে কে জানে!
গতকাল সুরভিকে বললাম, আজ তেহারী রান্না করো।
গোস্ত বেশি দিবা। সুরভি তেহারী রান্না করলো। দুপুরে ইচ্ছা মতো খেলাম। খুব স্বাদ হয়েছে। সাথে সালাদ ছিলো, কোক ছিলো। সেদিন বিকেলেই সুরভিকে বললাম, সেমাই খেতে ইচ্ছা করছে। দুধ সেমাই। সুরভি সেমাই রান্না করলো। খেতে অসাধারন হয়েছে। প্রতি রোজায় ঢাকার বংশাল এলাকায় আল রাজ্জাক হোটেলে দুধ সেমাই করে। খেতে বেশ ভালো। কিন্তু আমি কসম খেয়ে বলতে পারি আল রাজ্জাক হোটেলের চেয়ে সুরভির সেমাই রান্না বেশি ভালো হয়েছে। বড় বাটির এক বাটি খেয়ে ফেললাম। আমি আরাম করে বসে খাচ্ছি- এটা দেখতে সুরভির খুব ভালো লাগে। এরপরের দিন বললাম, সুরভি আজ শুকনা সেমাই রান্না করো। সেটাও বেশ হয়েছে। হাম হাম করে খেলাম। বন্ধী জীবন খেয়ে খেয়ে পার করছি। গতকাল রাতে দুইটা মুভি দেখলাম। অতি সস্তা মুভি। তবু খুব আগ্রহ নিয়ে দেখলাম। মুভিতে নায়ক ট্রেনের ভিআইপি বগিতে খাবার দিয়ে আসে। পরের মুভিতে দেখলাম নায়ক থাকে দালাল। জমি বিক্রির দালাল। দু'টা ফালতু মুভিই খুব মন দিয়ে দেখলাম। মুভি শেষ হতে হতে আমি দুই পেকেট বিস্কুট আর এক পেকেট চানাচূর শেষ করে ফেলেছি।
আমি নির্লজ্জ হয়ে গেছে।
দেশের এই পরিস্থিতে, থুক্কু দেশের না বিশ্বের এই পরিস্থিতিতে আমি শুধু খেয়ে যাচ্ছি। দেশে কত মানুষ না খেয়ে আছে। এদিকে অফিস আদালত সব বন্ধ। দরিদ্র লোকজনরা ত্রানের আশায় সারাদিন বাইরে রোদের মধ্যে বসে থাকছে। আর আমি কোলকাতার ঘটি-বাটিদের মতো সুরভিকে বলছি- 'আজ একটু তেহারী রান্না করো দিকিনি।' ছিঃ রাজীব ছিঃ! যাই হোক, গতকাল দুপুরের কথা। সুরভি মূরগীর ঝাল ফ্রাই রান্না করেছে। আলু দিয়ে করলা ভাজি করেছে। ডাল রান্না করেছে আর ইলিশ মাছ ভাজা। আমি সুরভিকে বললাম, আজ আমি এসব কিছুই খাবো না। আজ পান্তা ভাত খাবো লেবু পাতা দিয়ে। সুরভি বলল পান্তা ভাত নেই। আমি বললাম, গরম ভাতের মধ্যে পানি দিয়ে দাও, পান্তা ভাত হয়ে যাবে। ছাদে লেবু গাছ আছে। লেবু পাতা এনে দিলো সুরভি। লবন আর লেবু পাতা দিয়ে পান্তা ভাত খেলাম। বেশ আরা্ম পেলাম। ফ্লোরে বসে, খালি গা, কাধে একটা গামছা। বাইররে ঝা ঝা রোদ। বেশ আরাম করে খেলাম। লেবু পাতা দিয়ে আমাকে ভাত খেতে দেখে পরী অবাক চোখে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো। এর মধ্যে সুরভি একটা ডিম ভেজে নিয়ে আসছে। আমি দিলাম ধমক। নো ডিম ভাজা। বিলাসিতা আমার পছন্দ না। বুঝতে হবে আমাদের দেশটা দরিদ্র।
গত দুই দিন ধরে ডিম চপ খেতে ইচ্ছা করছে।
সুরভিকে বললাম- সুরভি এখন ডিম চপ বানাচ্ছে। সুরভির হাতের ডিমচপ টা অসাধারন হয়। নিজের স্ত্রী বলে বলছি না। আসলেই খেতে অসাধারন হয়। আজ সন্ধ্যায় নাস্তা করবো ডিমচপ। শেষে এক মগ চা। কাপে চা খেয়ে আমার পোষায় না। গতকাল সন্ধ্যায় ছোট ভাই লুডু খেলায় হেরেছে এক হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়ে সে সবাইকে বার্গার খাওয়াবে। দোকান পাট সব বন্ধ বার্গার কোথায় পাবে? শেষে কোথা থেকে বনরুটি যোগাড় করে নিয়ে এলো। ঘরেই সে নিজে বার্গার বানালো। খেতে বেশ হয়েছে। আমিই দুটা বার্গার মুহুর্তের মধ্যে শেষ করে দিলাম। এর আগের দিন আরিশের মা পিয়াজু বানালো। সেই রকম হয়েছে খেতে। আমি একা ১১ পিস খেয়ে ফেলেছি। সুরভি বানালো নুডুলসের পাকোরা। পাকোরার ভিতরে আবার একটা করে চিংড়ি মাছ দিয়ে দিলো খোসা ছাড়িয়ে। সেই রকম টেস্ট হয়েছে। আগামীকাল ভাবী বানাবেন চাপটি। চাপটি আমার ভালো লাগে। চালের গুড়া বেটে, তাতে লবন, পেয়াজ আর মরিচ দিয়ে পাতলা করে বানানো হয়। গরম গরম খেতে বেশ লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




