
১। করোনার জন্য ঢাকায় যদি কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সে দায় কি গার্মেন্টস মালিকরা নেবেন?
২। সবাইকে ঘরে থাকতে বলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের রাস্তায় নামায় দেয়ার কি মানে!
৩। কেন এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত? গার্মেন্টস খোলা কি খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিল?সরকার গার্মেন্টস মালিকদের ৫০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেবার পরও মালিক পক্ষ কেনো সারা দেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিলেন?তাহলে কেনো এই লকডাউন, কোয়ারান্টাইন?
৪। মানবজাতি আজ নিজেদের করুণ পরিনতির জন্য নিজেরাই দায়ী।
৫। ইতিহাস একসময় বলবে, 'সম্মিলিত আত্মহত্যার মিছিল দেখেছি।' ধর্মীয়, ব্যাবসায়িক, সামাজিক আত্মহত্যা!
৬। আগামীকাল থেকে ঢাকার গার্মেন্টসের একটা অংশ খুলে দেওয়ায়, ভুল হলেও আগের যে ক্ষতিটা হয়নি সেটি এখন হবে। আর মাত্র ১০/১৫ দিন যদি সরকার কঠোর সাধনার মাধ্যমে, জনগণকে ঘরে রাখতে পারত, যাদের ভবিষ্যৎ ১০/১৫ দিনে সিম্পটম প্রকাশ পেত তাদেরকে আলাদা করে আইসোলেশনে নিয়ে যেত, হয়তো আল্লাহর রহমতে বিপদ মুক্ত হওয়া যেত। ততদিনে রমজান এসে যেত, মানুষ এমনিতেই ঘরমুখো হয়ে যেত।
কিন্তু কি ভুলটাই ন করল! এই ভুলের মাশুল দিতে হবে কড়ায় গন্ডায়, আমাকে ও আপনাকে। সম্ভবত সরকারকেও।
৭। সব খুইলা দিলেই হয়। হুদাই দিনের পর দিন ঘরে আটকাই আছি আমরা। কিছু খুলবেন, কিছু আটকাবেন, এইভাবে কি নিজেরা বাঁচতে পারবো না কাউরে বাঁচাইতে পারবো? তার চেয়ে সব খুইলা দেন। যতোক্ষণ বাঁচি কাজ কর্ম কইরা, রোজগার ধান্ধা কইরা বাঁচি। মরলে সবাইরে লগে নিয়া মরবোনে।
৮। করোনা হলে গরীবেরই হবে। বড়লোকের হবে না। রুবানার হবে না। মন্ত্রী সচিব উপদেষ্টাদের হবে না। সরকার ভাবতেসে আরকি। উনারা ঘরে থাকবেন। এমনিতেও গরীবের গায়ে কেই বা ঘেষে। গরীব ফকিন্নিদের গায়ে না ঘেষলেই হৈল। তাছাড়া রুবানা শ্রেণির ইমিউনিটি পাওয়ার অন্নেক। প্রতিদিন ব্রেকফাস্টে কমলালেবুর জুস খান। স্ট্রবেরি খান। পচ্চুর ভিটামিন সি। বাচ্চারাও গায়ে গতরে বেশ। কারু কিচ্ছু হবে না। উনারা সবাই ফেবু প্রো পিকচারে স্টে হোম ফ্রেম দিয়েচেন। এরপর বাসায় আচেন।
৯। ৩০০ কোটি ডলারের অর্ডার নাকি বাতিল হলো। এরপরও এই মুহূর্তে উৎপাদনে যাওয়া কি জরুরি? হেঁটে গিয়ে কাজে যোগদান অমানবিক না। কিন্তু একজন শ্রমিককে ৫০, ৬০, ৯০, ১০০ বা ১৫০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হবে কেন? এত দীর্ঘ পথ হেঁটে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া অমানবিক। সত্যি অমানবিক। আমাদের সমাজের ওপরওয়ালারা কবে মানবিক হবেন?
১০। গার্মেন্টস কারখানা খুলে, হাজারো লোককে রাস্তায় নামিয়ে ঘরে থাকা আর সামাজিক দূরত্বের বারোটা বাজিয়ে দিলেন। এখন শবে বরাতের নামাজ মসজিদে না গিয়ে ঘরে পড়ার আহবান চরম হাস্যকর!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




