
অনেক রাত!
ঝুম বৃষ্টির মধ্যে মধ্যরাত্রে কে দরজায় কড়া নাড়ে?
জানি, আকাশি রঙের শাড়ি পরা একটি মেয়ে এসেছে-
কড়া নাড়ার ধরন দেখেই বুঝতে পারছি। দুই হাত ভরতি তার কাঁচের চুড়ি আর কপালে বড় একটা নীল টিপ
শাড়িটা গায়ের সাথে লেপটে আছে, মাথা ভরতি চুল বেয়ে ঝরছে পানি।
জীবনান্দের কবিতা পড়ছিলাম ''পান্ডুলিপি কাছে রেখে ধূসর দীপের কাছে আমি নিস্তব্ধ ছিলাম ব'সে; শিশির পড়িতেছিলো ধীরে-ধীরে খ'সে''
আমি আগে দরজা না খুলে ঝটপট দুই মগ চা বানাতে গেলাম রান্না ঘরে-
অপেক্ষা করুক বৃষ্টিতে ভেজা মেয়েটি। নাকি চা'র বদলে আইসক্রীম দিব, ফ্রীজে আছে আইস্ক্রীম
এই ঝড় বৃষ্টির রাতে আজ ইচ্ছে মতোন মেয়েটির সাথে পাপ করলে কেমন হয়? প্রয়োজনে নরকে যাবো
ঠিক এই সময় কড়া বেলী ফুলের ঘ্রান পেলাম, মেয়েটির খোঁপায় কি বেলী ফুলের মালা আছে?
আচ্ছা, ডারউইন সাহেবের মুখের সাথে কি আমাদের এরশাদ সাহেবের মুখের মিল আছে? অথবা মাদার তেরেসার সাথে লতা মঙ্গেশকর!
আমাদের ধর্মমন্ত্রীর নামটা যেন কি?
একদিন আমি মধ্যরাত্রে শহীদ মিনারের সামনের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম,
কয়েকজন নিশিকন্যা দেখলাম খুব হাত নেড়ে নেড়ে গল্প করছে, যদিও তারা আমার দিকে ফিরেও তাকায়নি
মেয়ে গুলো কি করে জানলো আমার পকেটে টাকা নেই! এই ঘটনার পর আমি বেশ বদলে গেলাম
রবীন্দ্রনাথের মতোন আমারও একটা বজরা নৌকা আছে, মাঝে মাঝে জোছনা রাতে নৌকা বিলাস করি
পাশের বাসায় গান বাজছে- '''আমি কোথায় পাবো তারে? আমার মনের মানুষ যে রে।''
এক হাতে চায়ের মগ অন্য হাতে টাওয়াল নিয়ে দরজা খুলে দেখি- কেউ কোথাও নেই!
(আমি কবি নই। কবিতা লেখার সামান্য যোগ্যতা আমার নেই। তারপরও কয়েকদিন পর পর কবিতার মতোন কিছু একটা না লিখলে ভালো লাগে না। দীর্ঘ দিনের অভ্যাস। আমার এই দোষ অবশ্যই ক্ষমার চোখে দেখবেন। আপনারা ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

