
আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বলেছেন- “আমি শুনতে ভালোবাসি, শুনতে শুনতে অনেক কিছু অর্জন করেছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শুনতে আগ্রহী নন।
আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন-
যে শ্রমিক গুলো দিন-রাত কাজ করে- মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আকাশ ছোঁয়া বিল্ডিং বানায়, রাতে এসে সে বস্তিতে ঘুমায়। যে ছেলেটি সারাদিন পথে ঘুরে-ঘুরে জুতো পালিশ করে, সে একজোড়া ভালো জুতো পড়েনি কোনোদিন। যে লোকটা বারো মাস বাড়ি-বাড়ি গিয়ে দুধ বিক্রি করে, সেই'ই সারাটা বছর পুষ্টিহীনতায় ভোগে। যে লোক গুলো বড় বড় মঞ্চ বানায়, তারা কোনোদিন সে মঞ্চে বসার দাওয়াত পায় না।
আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন বন্ধু-
গ্রাম বাংলার কৃষক গুলো সারা বছর চাষ-বাস করে, তারা হয় মূর্খ- দরিদ্র-অনাহারি ও অসহায়- আর এই কৃষকদের নিয়ে যারা গল্প, কবিতা
উপন্যাস লিখে- তারা হয় সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি। যুগ-যুগ ধরে যে শ্রমিক চা বাগানে কাজ করে, তার ঘরে এক সেট ভালো চায়ের পেয়ালা নেই, কিন্তু একজন মডেল টিভিতে একটা চায়ের বিজ্ঞাপন করে হয়ে যায় তারকা, সেলিব্রেটি। ধনী লোকেরা জাহাজে করে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে যায় অবসর যাপন করতে আর পরিবারের সুখের জন্য, জীবিকার সন্ধানে যে লোক গুলো রাতের অন্ধকারে সমুদ্র পাড়ি দেয়- তারা হয় অবৈধ্য অধিবাসী। শ্রমিকেরা সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যার পর রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেয়- ধনীরা যায় তাদের রঙ মহলে, পেগ এর পর পেগ চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।
বাড়িঘর যেমন নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয়, না করলে যেমন ধুলো জমে যায় ঠিক তেমনি প্রতিদিন মনের ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে মুছে সাফ করুন। তাহলে দেশের ভালো হবে। এই পরিস্থিতিতে অনেক মানুষের চাকরি চলে গেছে। কারো কারো বেতন হয় নি। আর যাদের বেতন হয়েছে তাও অর্ধেক। দুনিয়া ভরে গেছে পাপে। পাপের টাকায় বিশ্ব সংসার চলছে। এই জন্যই মানুষের মধ্যে মায়া মমতা একেবারেই কমে গেছে।
যদিও ধনীরাই চাকুরী সৃস্টি করতে সক্ষম, দরিদ্রা চাকুরী সৃস্টি করতে পারে না! তবে, একজন ধনী এবং গরীব একটা জায়গায় সবাই সমান হয়- সবার শেষ ঠিকানা- সাড়ে তিন হাত মাটি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

