somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

শাহেদ জামাল এবং তার চিন্তা ভাবনা

০৪ ঠা মে, ২০২০ রাত ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শাহেদ জামাল বেশ সমস্যায় পড়েছে।
রাত হলেই কেমন ভূতের ভয় করে তার। রাত যত বাড়ে, ভয়টাও বাড়ে। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় তার। তখন সে টিকটিকির ডাক শুনে। মূরগীর ডাক শুনে। তার মনে হয় চারপাশে কেমন একটা বিরক্তিকর শব্দ হতেই থাকে। প্রতিদিন ঠিক রাত আড়াইটায় ঠাণ্ডা একটা বাতাস গায়ে লাগে। তখন অজানা ভয় গলা টিপে ধরে তার। মনে হয় সমস্ত মৃত মানুষেরা শাহেদের চারপাশে বসে আছে। তারা ফিসফিস করে কথা বলে। যেন কোনো একটা গোপন ষড়যন্ত করছে। তারা শাহেদকে নিতে এসেছে। হায় হায়! শাহেদ তার শিক্ষককে ফোন দিয়ে ভয়ের কথাটা বলে। মন দিয়ে শুনে স্যার বলেন, আয়তুলকুরছি আর চার কুল পড়ে ঘুমাতে যাবে। ইনশাআল্লাহ আর এমন হবে না। আমারও আগে এমন হতো।

বেচে থাকার অনেক কষ্ট আছে।
তবু কোনো মানুষের মরতে ইচ্ছা করে না। মরার কথা ভাবলেই নিঃশ্বাস যেন বন্ধ হয়ে আসে শাহেদের। কেউ কেউ মরে গিয়েও বেচে থাকে। কারন তারা বেচে থাকা অবস্থায় অনেক ভালো ভালো কাজ করেছে। ভালো মানুষদের মরে গিয়েও কিছু থাকে। সবটা শেষ হয় না। কিছু একটা থেকে যায়। সারা বিশ্বে করোনায় পটাপট মানুষ মরছে। প্রতিটা মৃত্যু শাহেদকে কষ্ট দেয়। যদি শাহেদের কোনো দেবতা থাকতো। আর সেই দেবতা যদি শাহেদকে বলতো, তোমাকে একটা মাত্র বর দেওয়া হবে। যা খুশি চাইতে পারো। সমস্ত অন্তর দিয়ে শাহেদ বলতো, পৃথিবীর কোনো সম্পদ চাই না, চাই না টাকা, সাম্রাজ্য, খ্যাতি-সফলতা বা ক্ষমতা। শুধু চাই করোনামুক্ত বিশ্ব। ব্যস এইটুকু মাত্র। এমন দেবতা কি আছেন বিশ্বে?

এটা নাকি বিজ্ঞানের যুগ?
পৃথিবীর এত বড় বড় বাঘা বিজ্ঞানীরা সামান্য একটা ভাইরাসের ওষুধ বানাতে পারছে না! শুধু কেমিকেল, কসমেটিকস জিনিসপত্র দিয়ে লোকজনকে চমকে দেওয়ার জন্য ম্যাজিক আউটেম তৈরি করলে হবে? রকেট, ইন্টারনেট আর স্যাটালাইটই কি বিজ্ঞানের শেষ কথা? দুনিয়ার মানুষকে শিক্ষা, উপোস আর রোগেভোগে রেখে স্যাটালাইট কি দিচ্ছে আমাদের? শাহেদের ধারনা বিজ্ঞানীরা আসলে আমাদের হাতে খেলনা দিয়ে আমাদের ভুলিয়ে রেখেছে। এই যে করোনাতে আমরা মরতে বসেছি, সমস্ত বিজ্ঞানীরা করছেটা কি? যদি বেঁচেই না থাকি তাহলে এই বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির দাম রইলো কি? শাহেদ জামাল বিশ্বের সমস্ত বিজ্ঞানীরদের উপর খুব হতাশ।

শাহেদ পরিস্কার বুঝতে পারছে-
আগামী কয়েক দশকে প্রকৃতির নিয়মেই লাখ লাখ মানুষ মরবে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নাম না জানা রোগ, যুদ্ধ, খুন এভাবেই মানুষ মরতেই থাকবে। আর একের পর এক কঠিন ভাইরাসের আগমনে মহামারী আকার ধারন করবে সারা বিশ্বে। করোনার চেয়ে কঠিন সব ভাইরাস পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। শাহেদ চোখ বুজলেই দেখতে পায়- সমস্ত পৃথিবী জুড়ে লাখ লাখ মৃত দেহ পড়ে আছে। কবর দেওয়ার লোক নাই। সামনের দিন গুলোতে যে বিরাট সংকট আসছে পৃথিবীতে তা মানুষের চিন্তার বাইরে। সাধারন মানুষ অন্ন বস্ত্রের বাইরে কিছু ভাবতে চায় না। তাই ধনী রাস্ট্র গুলোর এখনই ভাবার সময়। মানুষ শুধু পৃথিবীর ক্ষতিই করেছে। পৃথিবী যেন ভালো থাকে তার চেষ্টা করেনি। তাই তো পৃথিবী করো্না দিয়ে প্রতিশোধ নিচ্চে। বোকা মানুষ বুঝে না- সম্মেলন আর কনফারেন্স করে পৃথিবীর ভালো করা যায় না।

শাহেদ জামাল বিশ্বাস করে না-
বিল গেটস যতই বলুক- কোভিড-১৯ এর পরে আর কোন জীবানু বিশ্ববাসীকে কাবু করতে পারবে না। কারণ বিজ্ঞানীরা এমন কিছু আবিষ্কার করবেন যার কাছে কোন ভাইরাসই টিকতে পারবে না। শাহেদের ধারনা বিশ্ব থেকে যে কোনো ক্ষতিকর ভাইরাস দূর করার একটাই পথ- তা হলো সারা বিশ্ব গাছ লাগিয়ে ভরে ফেলতে হবে। পৃথিবী হবে সবুজ। গাছ মানুষকে বাচাবে। গাছ মানুষকে সমস্ত রকম বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবে। তাই উঠান, রাস্তা, ফুটপাত, মাঠঘাট, নদীর পাড়, সব গাছ লাগিয়ে ভরে ফেলতে হবে। যেন একটু জায়গায়ও খালি পড়ে না থাকে। পৃথিবী ভরতি গাছ থাকলে কোনো প্রকার ভাইরাস আসবে না। মানুষের জীবন হবে সহজ সরল সুন্দর। এবং অবশ্যই কলকারখানা কমাতে হবে। এবং নতুন কোনো কলকারখানা স্থাপন সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করতে হবে। পৃথিবীর ক্ষতি হয় এরকম কিছু করা যাবে না। তবেই আপনি ভালো থাকবেন। ভালো থাকবে সমস্ত বিশ্ব।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০২০ রাত ১২:৪৯
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×