
মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কোনটা?
আমি বলব অবশ্যই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় প্রেমে পড়ার সময়টা। প্রেমের চেয়ে আনন্দময় দুনিয়াতে আর নেই। কোনো কোনো প্রেম মানুষকে ধ্বংস করে দেয়, আবার কোনো প্রেম মানুষকে মহান করে তোলে। তবে প্রেম করা ভালো। প্রেম মানুষকে ভালো করে তোলে, প্রেম মানুষকে শক্তি দেয়। কিন্তু যার সাথে দীর্ঘ দিন প্রেম ছিলো তাকে বিয়ে না করা অনেক বেশি ভালো। কারন, তাহলে তাকে না পাওয়ার কারনে সারা জীবন তাকে নিয়ে ভাবা যায়। হা হুতাশ করা যায়। পাওয়া না পাওয়ার মাঝখানে থাকা যায়। তাকে নিয়ে অদ্ভুত স্বপ্ন দেখা যায়। শত ব্যস্ততার মাঝেও এক আধদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকে নিয়ে সাতপাঁচ ভাবতে বেশ লাগে। আর যদি যার সাথে প্রেম করলেন এবং তাকেই পেয়ে গেলেন, তাকেই বিয়ে করে ফেললেন। তাহলে ভবিষ্যতে আপনি অনেক কিছু মিস করে গেলেন। বিয়ের চেয়ে বেশি আনন্দময় ঘটনা প্রেম।
শাহেদ জামাল বিয়ে করেছে।
তার স্ত্রী নীলা বেশ ভালো মেয়ে। তাদের একটা কন্যা আছে। অহনা না। সুন্দর সংসার তাদের। অথচ শাহেদ আজকাল সাদিয়া নামের একটা মেয়ের কথা খুব ভাবে। মেয়েটার রোল নম্বর ছিলো নয়। তার আট। মেয়েটা খুব সুন্দর ছিলো। একদম সহজ সরল সুন্দর। সাদিয়ার মুখটা ফুলের মতো সুন্দর ছিলো। পবিত্র। ক্লাশে সাদিয়া কোনো হইচই করতো না। এমন কি কারো সাথে কোনো কথাও বলতো না। প্রতিটা ক্লাশে তার খুব মনোযোগ ছিলো। শাহেদ মুগ্ধ হয়ে সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতো। ক্লাশ ছিলো চল্লিশ মিনিট। শাহেদ টিচারের কথা না শুনে সাদিয়ার দিকে চেয়ে থাকতো। তখন হয়তো শাহেদ প্রেম ভালোবাসা এগুলো ঠিক বুঝতো না। কিন্তু সাদিয়াকে তার ভালো লাগতো- একথা সে কিছুতেই অস্বীকার করতে পা্রবে না। অবশ্য শাহেদ ভীষন লাজুক। তাই সাদিয়াকে কোনো ভালোবাসার দু'চারটা কথা কখনও বলা হয় নি।
নীলা আর অহনা গভীর ঘুমে।
শাহেদ বেলকনিতে বসে আছে। এখনও আকাশ পুরোপুরি ফরসা হয় নি। একদিন শাহেদ সাহস করে সাদিয়ার পাশে গিয়ে বসলো। তখন ক্লাশে কেউ ছিলো না। স্পোর্টস ডে ছিলো। সবাই মাঠে ছিলো। শাহেদ বলল, তুমি সব সময় এমন চুপ করে থাকো কেন? হাসো না কেন? সব সময় মুখটা কেমন বিষন্ন করে রাখো! আমার ভালো লাগে না। সাদিয়া বলল, প্লীজ আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। শাহেদ বলল, ঠিক আছে বিরক্ত করবো না। শুধু বলো আজ কি এনেছো? আমি জানি প্রতিদিন তুমি বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসো। সাদিয়া টিফিন বক্স বের করে দিলো। শাহেদ দেখলে বক্সে দু'টা রুটি আর আলু বাজি। শাহেদ বলল, রুটি আলু বাজি আমার ভীষন প্রিয়। আমার খিদে পেয়েছে। আমি কি রুটি আলু ভাজি খেতে পারি? সাদিয়া হেসে ফেলল। সাদিয়ার হাসিটা যেন শাহেদের বুকে এসে লাগলো। একটা মেয়ে এত সুন্দর করে হাসে কি করে!
শাহেদ একটা সিগারেট ধরালো।
বেশ লাগছে তার সাদিয়ার কথা ভাবতে। স্ত্রী, কন্যা ঘুমাক আরামে। শাহেদ একটু পুরোনো দিনে ফিরে যাক। একদিন শাহেদ তার বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলো। বন্ধুর বাসায় গিয়ে জানতে পারে বন্ধু হাসপাতালে ভরতি। শাহেদ হাসপাতালে গেলো। বন্ধু বলল, সারারাত একাএকা থাকি ভালো লাগে না। আজ তুই থেকে যা। শাহেদ বলল, অবশ্যই থাকবো। কোনো সুবিধা নাই। অনেক রাত। বন্ধু ঘুমাচ্ছে। শাহেদের চোখে ঘুম নেই। শাহেদ রুম থেকে বের হয়ে হাসপাতালের করিডোরে এসে দাড়ালো। করিডোরের সব গুলো বাতি বন্ধ। তবে রাস্তার ল্যাম্পপোষ্টের আলো এসে ভরে দিয়েছে করিডোর। ল্যাম্প পোষ্টের আলোতে শাহেদ সাদিয়াকে দেখলো। গ্রীলে মাথা ঠেকিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে! মুখটা বেশ মলিন। চোখে কি দু'টা পানি দেখেছিলো? ল্যাম্পপোষ্টের আলোতে সাদিয়াকে অন্য ভূবনের মানুষ বলে মনে হচ্ছিলো! শাহেদের ইচ্ছা করছিলো সাদিয়াকে জড়িয়ে ধরতে। তুমি মন খারাপ করো না রাজকুমারী। আমি আছি। জানালার গ্রীলে নয় তুমি এসো আমার বুকে মাথা রাখো।
সাদিয়া এখন কোথায় আছে?
কেমন আছে? বিয়ে করেছে? বিয়ে করলে তার স্বামী কি করে? বাচ্চা কয়টা। এখন যদি সাদিয়া শাহেদকে দেখে তাহলে চিনতে পারবে? আচ্ছা, শাহেদ যেমন এই ভোরবেলা সাদিয়ার কথা ভাবছে, সাদিয়াও কি এক আধদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে শাহেদের কথা ভাবে? ভেবে ভেবে মন খারাপ করে? হাসে? আবেগে আপ্লুত হয়? বিষন্ন হয়? বাকি জীবনে কি সাদিয়ার সাথে দেখা হবে? একবার? মাত্র একটি বার? দেখা হলেইবা শাহেদ কি বলবে? সাদিয়া তোমাকে আমার ভালো লাগতো। তোমার কথা আমি অনেক ভাবতাম। এরকম নাটুকে কথা শুনে সাদিয়া নিশ্চয়ই বিরক্ত হবে। না সাদিয়াকে শাহেদ বিরক্ত করতে চায় না। বহু বছর আগে সাদিয়াকে একটা গভীর চুমু দেওয়ার খুব ইচ্ছা হয়েছিলো শাহেদের। এই ইচ্ছা কি আর কোনো দিন পূরন হবে শাহেদের? অসংখ্য ইচ্ছার মতোন এই গোপন ইচ্ছাটাকেও মাটি চাপা দিতে হবে। হয়তো কোনো একদিন সাদিয়ার সাথে দেখা হয়ে যাবে। সাদিয়া রাগ করে বলবে- শাহেদ তুমি এতো বোকা কেন? কেন বলোনি তুমি আমাকে ভালোবাসো? তাহলে.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

