somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রোল নম্বর ৯

০৬ ই মে, ২০২০ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কোনটা?
আমি বলব অবশ্যই মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় প্রেমে পড়ার সময়টা। প্রেমের চেয়ে আনন্দময় দুনিয়াতে আর নেই। কোনো কোনো প্রেম মানুষকে ধ্বংস করে দেয়, আবার কোনো প্রেম মানুষকে মহান করে তোলে। তবে প্রেম করা ভালো। প্রেম মানুষকে ভালো করে তোলে, প্রেম মানুষকে শক্তি দেয়। কিন্তু যার সাথে দীর্ঘ দিন প্রেম ছিলো তাকে বিয়ে না করা অনেক বেশি ভালো। কারন, তাহলে তাকে না পাওয়ার কারনে সারা জীবন তাকে নিয়ে ভাবা যায়। হা হুতাশ করা যায়। পাওয়া না পাওয়ার মাঝখানে থাকা যায়। তাকে নিয়ে অদ্ভুত স্বপ্ন দেখা যায়। শত ব্যস্ততার মাঝেও এক আধদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকে নিয়ে সাতপাঁচ ভাবতে বেশ লাগে। আর যদি যার সাথে প্রেম করলেন এবং তাকেই পেয়ে গেলেন, তাকেই বিয়ে করে ফেললেন। তাহলে ভবিষ্যতে আপনি অনেক কিছু মিস করে গেলেন। বিয়ের চেয়ে বেশি আনন্দময় ঘটনা প্রেম।

শাহেদ জামাল বিয়ে করেছে।
তার স্ত্রী নীলা বেশ ভালো মেয়ে। তাদের একটা কন্যা আছে। অহনা না। সুন্দর সংসার তাদের। অথচ শাহেদ আজকাল সাদিয়া নামের একটা মেয়ের কথা খুব ভাবে। মেয়েটার রোল নম্বর ছিলো নয়। তার আট। মেয়েটা খুব সুন্দর ছিলো। একদম সহজ সরল সুন্দর। সাদিয়ার মুখটা ফুলের মতো সুন্দর ছিলো। পবিত্র। ক্লাশে সাদিয়া কোনো হইচই করতো না। এমন কি কারো সাথে কোনো কথাও বলতো না। প্রতিটা ক্লাশে তার খুব মনোযোগ ছিলো। শাহেদ মুগ্ধ হয়ে সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতো। ক্লাশ ছিলো চল্লিশ মিনিট। শাহেদ টিচারের কথা না শুনে সাদিয়ার দিকে চেয়ে থাকতো। তখন হয়তো শাহেদ প্রেম ভালোবাসা এগুলো ঠিক বুঝতো না। কিন্তু সাদিয়াকে তার ভালো লাগতো- একথা সে কিছুতেই অস্বীকার করতে পা্রবে না। অবশ্য শাহেদ ভীষন লাজুক। তাই সাদিয়াকে কোনো ভালোবাসার দু'চারটা কথা কখনও বলা হয় নি।

নীলা আর অহনা গভীর ঘুমে।
শাহেদ বেলকনিতে বসে আছে। এখনও আকাশ পুরোপুরি ফরসা হয় নি। একদিন শাহেদ সাহস করে সাদিয়ার পাশে গিয়ে বসলো। তখন ক্লাশে কেউ ছিলো না। স্পোর্টস ডে ছিলো। সবাই মাঠে ছিলো। শাহেদ বলল, তুমি সব সময় এমন চুপ করে থাকো কেন? হাসো না কেন? সব সময় মুখটা কেমন বিষন্ন করে রাখো! আমার ভালো লাগে না। সাদিয়া বলল, প্লীজ আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। শাহেদ বলল, ঠিক আছে বিরক্ত করবো না। শুধু বলো আজ কি এনেছো? আমি জানি প্রতিদিন তুমি বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসো। সাদিয়া টিফিন বক্স বের করে দিলো। শাহেদ দেখলে বক্সে দু'টা রুটি আর আলু বাজি। শাহেদ বলল, রুটি আলু বাজি আমার ভীষন প্রিয়। আমার খিদে পেয়েছে। আমি কি রুটি আলু ভাজি খেতে পারি? সাদিয়া হেসে ফেলল। সাদিয়ার হাসিটা যেন শাহেদের বুকে এসে লাগলো। একটা মেয়ে এত সুন্দর করে হাসে কি করে!

শাহেদ একটা সিগারেট ধরালো।
বেশ লাগছে তার সাদিয়ার কথা ভাবতে। স্ত্রী, কন্যা ঘুমাক আরামে। শাহেদ একটু পুরোনো দিনে ফিরে যাক। একদিন শাহেদ তার বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলো। বন্ধুর বাসায় গিয়ে জানতে পারে বন্ধু হাসপাতালে ভরতি। শাহেদ হাসপাতালে গেলো। বন্ধু বলল, সারারাত একাএকা থাকি ভালো লাগে না। আজ তুই থেকে যা। শাহেদ বলল, অবশ্যই থাকবো। কোনো সুবিধা নাই। অনেক রাত। বন্ধু ঘুমাচ্ছে। শাহেদের চোখে ঘুম নেই। শাহেদ রুম থেকে বের হয়ে হাসপাতালের করিডোরে এসে দাড়ালো। করিডোরের সব গুলো বাতি বন্ধ। তবে রাস্তার ল্যাম্পপোষ্টের আলো এসে ভরে দিয়েছে করিডোর। ল্যাম্প পোষ্টের আলোতে শাহেদ সাদিয়াকে দেখলো। গ্রীলে মাথা ঠেকিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে! মুখটা বেশ মলিন। চোখে কি দু'টা পানি দেখেছিলো? ল্যাম্পপোষ্টের আলোতে সাদিয়াকে অন্য ভূবনের মানুষ বলে মনে হচ্ছিলো! শাহেদের ইচ্ছা করছিলো সাদিয়াকে জড়িয়ে ধরতে। তুমি মন খারাপ করো না রাজকুমারী। আমি আছি। জানালার গ্রীলে নয় তুমি এসো আমার বুকে মাথা রাখো।

সাদিয়া এখন কোথায় আছে?
কেমন আছে? বিয়ে করেছে? বিয়ে করলে তার স্বামী কি করে? বাচ্চা কয়টা। এখন যদি সাদিয়া শাহেদকে দেখে তাহলে চিনতে পারবে? আচ্ছা, শাহেদ যেমন এই ভোরবেলা সাদিয়ার কথা ভাবছে, সাদিয়াও কি এক আধদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে শাহেদের কথা ভাবে? ভেবে ভেবে মন খারাপ করে? হাসে? আবেগে আপ্লুত হয়? বিষন্ন হয়? বাকি জীবনে কি সাদিয়ার সাথে দেখা হবে? একবার? মাত্র একটি বার? দেখা হলেইবা শাহেদ কি বলবে? সাদিয়া তোমাকে আমার ভালো লাগতো। তোমার কথা আমি অনেক ভাবতাম। এরকম নাটুকে কথা শুনে সাদিয়া নিশ্চয়ই বিরক্ত হবে। না সাদিয়াকে শাহেদ বিরক্ত করতে চায় না। বহু বছর আগে সাদিয়াকে একটা গভীর চুমু দেওয়ার খুব ইচ্ছা হয়েছিলো শাহেদের। এই ইচ্ছা কি আর কোনো দিন পূরন হবে শাহেদের? অসংখ্য ইচ্ছার মতোন এই গোপন ইচ্ছাটাকেও মাটি চাপা দিতে হবে। হয়তো কোনো একদিন সাদিয়ার সাথে দেখা হয়ে যাবে। সাদিয়া রাগ করে বলবে- শাহেদ তুমি এতো বোকা কেন? কেন বলোনি তুমি আমাকে ভালোবাসো? তাহলে.....
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১০:০১
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×