somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

উপভোগ করার নামই জীবন

০৬ ই মে, ২০২০ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জীবন নিয়ে আপনি কি ভাবেন?
একটা মানুষ জন্মায়, বড় হয়, লেখাপড়া শিখে, রোজগার করে, বিয়ে হয়, সন্তান হয়, টাকা জমায়, বাড়ি করে, তারপর বুড়ো হয়ে একদিন মরে যায়। শুধু এইটুকুর জন্যই কি জীবন? ব্যাপারটা বড় অদ্ভুত! শুনুন, জীবন অনেক মূল্যবান। তাই প্রতিটা মুহুর্ত হিসাব করেই চলা উচিত। অযথা সময় নষ্ট করা মোটেও ঠিক না। একটা শিশু যখন জন্মায় মা বাবার খুশির শেষ থাকে না। অথচ বাবা মা বুঝে না, চিন্তা করে না- কোন দুনিয়ায় শিশুটিকে আনলাম। কোন সমাজে? শিশুটি কি এক আকশ আনন্দ নিয়ে বড় হতে পারবে? শিশুটির সব চাওয়া কি পূরন করা যাবে? ভালো একটি স্কুলে কি ভরতি করা যাবে? দরিদ্র দেশ। দরিদ্র জনগোষ্ঠি। চারপাশে দুষ্টলোক দিয়ে ভরা। এর মাঝে আপনার সন্তান কিভাবে আনন্দ নিয়ে বেচে থাকবে? হয়তো আপনি যতদিন বেচে থাকবেন, ততদিন আপনার সন্তানকে বুকে আগলে রাখবেন। কিন্তু আপনি মরে গেলে? কে খেয়াল রাখবে আপনার প্রিয় সন্তানের?

লেখাপড়ার বিকল্প কিছু নেই।
কিন্তু যারা শুধু মাত্র একটা চাকরির জন্য লেখাপড়া শিখে তারা দেশের মেরুদন্ডটাই নড়বড়ে করে দেয়। বাঙ্গালী ছেলেমেয়েদের চিন্তা একটাই। লেখাপড়া শেষ করে যেন একটা চাকরী পায়। যেন তাদের কাছে চাকরিটাই সব। চাকরিতে শুধু আনন্দ নাই। অনেক অপমান অবহেলাও আছে। বন্ধুগন জীবনে চাকরীই সব না। বরং চাকরি আপনার ক্ষতি করে। সারাটা দিন অফিসেই কেটে যায়। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর। নিজের যে একটা ব্যাক্তিগত জীবন আছে তা চাকরি করলে মনে থাকে না। কামলা খাটতে খাটতেই জীবন শেষ। নিজের শখ, আনন্দ, স্বপ্ন এবং অবসর সব বিসর্জন দিতে হয়। অবশ্য চাকরি করলে টাকা পাওয়া যায়। কাজ না করলে টাকা দিবে কে? আমার বন্ধু শাহেদ চাকরি করে না। সকাল আট টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। সে গাড়ি, বাড়ি করতে চায় না। জমি কিনতে চায় না। মাস শেষে কিছু টাকার জন্য জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় করার কোনো মানে হয় না। বরং চাকরির সময়টায় সে ভালো মুভি দেখে, অথবা বই পড়ে কাটায়। অথবা ঘুরে বেড়ায় কোনো পার্কে। চাকরি করে না বলে তার কোনো আফসোস নেই।

বাঙ্গালী ছেলেদের এডভেঞ্চার বিয়ে পর্যন্ত।
বিয়ে করার পর সংসারের ঘানি টানতে টানতেই জীবন শেষ। সংসারে শুধু নাই নাই। এবং শুধু আনো আনো। আর দাও দাও। বাড়ি ভাড়া দাও, প্রাইভেট টিউটরের বেতন দাও। পরীক্ষার ফিস দাও। সন্তানের ভালো স্কুলে ভরতি, ওষুধ, ডাক্তার, দাওয়াত ইত্যাদি সামলাতে সামলাতে জীবন শেষ। অফিসে বসের জারি, ঘরে বউয়ের জারি। এই করতে করতে একসময় দেখবেন বুড়ো হয়ে গেছেন। নিজের জীবনের শখ, স্বপ্ন, আনন্দ কিছুই পূরন করা হয়নি। তখন ছেলের বিয়ে দাও, মেয়ের বিয়ে দাও। চাকরি বা ব্যবসা করে যদি কিছু সঞ্চয় থাকে তো সেই সঞ্চয় ছেলে মেয়ের বিয়েতে খরচ করা। জীবনে হয়তো আপনার শখ ছিলো বাড়ি করবেন, গাড়ি করবেন। জমি করবেন। ছুটি কাটাতে যাবেন আন্দামান দ্বীপে। কিন্তু কোথাও যাওয়া হয় না আপনার। আপনি বুরো হয়ে গেছেন। মাথার সব চুল সাদা হয়ে গেছে। একটানা দশ মিনিট দাড়িয়ে থাকতে পারেন না। আবার বেশিক্ষন বসে থাকলে কোমরে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। প্রস্বাবের বেগ পেলে আটকাতে পারেন না। মুহুর্তেই কাপরে চোপড়ে হয়ে যায়।

একদিন নুরু সাহেবের মতো বুড়ো হয়ে গেলেন।
শেষ জীবনে এসে মনে হবে ঘর সংসার করে জীবনটা বেহুদা শেষ করে দিলেন। কাজের কাজ কিচ্ছু করলেন না। দিন শেষে বেলকনিতে বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আফসোস আর আফসোস করে যাবেন। জীবনে সবাই সাফল্য পায় না। অতি ভাগ্যবান যারা তারাই শুধু জীবনে সাফল্য পায়। সাফল্য পাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা হাতে গোনা যায়। তাই বুঝতে হবে জীবন একটাই। এই দুনিয়াতে আপনি বারবার আসবেন না। বুদ্ধিমান লোকেরা জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত শুধু উপভোগ করে যায়। ভালো খাবেন, ভালো পড়বেন, ঘুরে বেড়াবেন, মুভি দেখবেন, আড্ডা দিবেন। আনন্দ করবেন। ভালোবাসবেন। ভালোবাসতে হবে। সবাই সবাইকে ভালোবাসতে হবে। তাহলে একটা সুন্দর পৃথিবী তৈরি করা সম্ভব। দীর্ঘদিনের তথাকথিত নিয়ম ভাঙ্গুন। দুনিয়াটাকে ভালো করে দেখুন। চিন্তা করুন। ভাবুন। উপভোগ করতে শিখুন। কি হবে কারি কারি টাকা করে? একদিন তো মরেই যাবেন। তাই যতটা দরকার ততটুকুই ইনকাম করুন। নির্বোধ মানুষের মতোন টাকা খামচে ধরে রাখবেন না। দুই হাতে টাকা খরচ করুন।

আমার বন্ধু শাহেদ। শাহেদ জামাল।
জীবনটা সবাই উপভোগ করতে জানে না। বন্ধু শাহেদ জানে। শাহেদ জামাল বুদ্ধিমান ছেলে। সে জীবনটা উপভোগ করতে জানে। তার কারি কারি টাকার করার নেশা নাই। টাকার প্রতি কোনো লোভ নাই। গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট করার কোনো ইচ্ছা নাই। সারা জীবন চাকরি করে সে জীবনটা শেষ করে দিতে চায় না। ছোট্র একটা জীবন। আর এই পৃথিবীতে আসা হবে না শাহেদ জানে। তাই শাহেদ অন্য সবার মতোন টাকার চিন্তা করে না। জমি কেনার চিন্তা করে না। ব্যাংকে টাকা জমানোর চিন্তাও তার নেই। সে তার স্ত্রী আর এক কন্যা নিয়ে বেশ আছে। প্রিয় বই গুলো পড়ছে, প্রিয় মুভি গুলো দেখছে, হাতে টাকা থাকলে বউ বাচ্চা নিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছে। স্ত্রী কন্যাকে প্রচুর সমস্য দিচ্ছে। নিজে বাজার ঘুরে ঘুরে বাজার করছে। খাচ্ছে। কে গাড়ি করলো, কে বাড়ি করলো, কে জমি কিনলো, কে ইউরোপ ট্যুরে গেলো সেসব নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নাই।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০২০ রাত ১০:৩৭
১৭টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×