
বলা হয় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯৪৫ সালে ফরমোসার তাইহোকু (বর্তমান তাইওয়ান) বিমান বন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যবরণ করেন। তিনি বিমান দূর্ঘটনায় আহত হোন। আগুনে তার শরীর অনেকখানি পুড়ে যায়। কিন্তু মারা যান নাই। গোপনে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর তিনি অনেক বছর বেচে ছিলেন। বিশ বছরের মধ্যে সুভাষ চন্দ্র মোট ১১ বার গ্রেফতার হয়েছিলেন। অনেক সাহসী, পরিশ্রমী একজন মানুষ এবং আশাবাদী মানুষ সুভাষ। তার মহৎ কর্মের কারনে জীবনে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েছেন। দেশের প্রতি ছিলো তার সীমাহীন ভালোবাসা।

১৮৯৭ সালে ২৩ জানুয়ারি, বর্তমান ভারতের উড়িষ্যার কটক শহরে জন্মগ্রহণ করেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। তাঁর পিতা জানকীনাথ বসু ছিলেন আইনজীবী। তাঁর মায়ের নাম প্রভাবতী দেবী। সুভাষ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯১১ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রেসিডেন্সি কজেও লেখাপড়া করেন। অবশ্য এ কলেজ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়। ইংল্যান্ডে সুভাষ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার্থে ভর্তি হন। ইংল্যান্ডে থাকা অবস্থায়ই তিনি জানতে পারেন দেশের অবস্থা- রাউটাল বিল বাতিলের জন্য গান্ধীজী দরখাস্ত করেন। সত্যগ্রহ আন্দোলন শুরু হয় এবং হরতাল পালিত হয়। গান্ধীজী গ্রেফতার করা হয়। জালিয়ানওয়ালাবাগে হত্যাকান্ড। এরকম নানান ঘটনায় সুভাষ দিনকে দিন তীব্র বৃটিশ বিরোধী হয়ে উঠেন।

১৯২১ সালে ১৬ জুলাই জাহাজ থেকে নেমেই গান্ধীজী'র সাথে দেখা করেন সুভাষ। গান্ধীজী'র নির্দেশে তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সাথে দেখা করেন। চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন সবার রাজনৈতিক গুরু। চিত্তরঞ্জন দাশের অনুপ্রেরণায় স্বরাজ নামক সংবাদ পত্রে লেখালেখি শুরু করেন। সুভাষচন্দ্র ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু। তিনি ধ্যানে অনেক সময় অতিবাহিত করতেন। তার স্ত্রী এমিলি শেংকেল কখনো ভারতে আসেননি। ১৯১০ সালের ২৬ জানুয়ারী অস্ট্রিয়ার এক ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম হয়েছিল এমিলির। এমিলি অবশ্য সুভাষের স্মৃতি নিয়েই ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাদের একমাত্র মেয়ে অনিতা বসু পাফ তার পিতার দেশ ভারতে বহুবার এসেছেন। তিনি পেশায় অর্থনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৪২ সালের ২৯ নভেম্বর জন্ম নেয় অনিতা।

সুভাষ চন্দ্র বসুর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হল, "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" (হিন্দিতে, তুম মুঝে খুন দো, ম্যায় তুমহে আজাদি দুঙ্গা)। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভাষচন্দ্রকে 'দেশনায়ক' আখ্যা দিয়ে 'তাসের দেশ' নৃত্যনাট্যটি তাকে উৎসর্গ করেন। আজ কলকাতার একাধিক রাস্তা তার নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে।

স্ত্রী এমিলিকে লেখা চিঠি
১৯৩৭ সালে সুভাষ চন্দ্র এক চিঠিতে তার স্ত্রীকে লিখেছিলেন, "আমি জানি না ভবিষ্যতে কী হবে। হতে পারে, পুরো জীবনটাই হয়তো জেলে কাটাতে হবে, অথবা আমাকে গুলি করে দেওয়া হতে পারে, কিংবা ফাঁসীও হতে পারে। এও সম্ভব যে তুমি হয়তো আমাকে কখনও আর দেখতেই পাবে না, অথবা আমি হয়তো কখনও তোমাকে চিঠিও লিখতে পারব না। কিন্তু ভরসা রেখ, তুমি চিরকাল আমার হৃদয়ে থাকবে, আমার মনে, আমার স্বপ্নে থাকবে। যদি এই জীবনে সম্ভব না হয়, তাহলে পরের জীবনে তোমার সঙ্গেই থাকব আমি।"
"আমি তোমার অন্তরে থাকা নারীত্বকে ভালবাসি, তোমার আত্মার সঙ্গে আমার প্রেম। তুমিই আমার জীবনে প্রথম প্রেম,"।
একেবারে শেষে চিঠিটা নষ্ট করে ফেলতে বলেছিলেন সুভাষ। কিন্তু এমিলি সেটাকে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন।

সুভাষের কন্যা অনিতা ও স্ত্রী এমিলি।
এক নজরে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু
# ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি জন্ম সুভাষ চন্দ্র বসু।
# ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতা থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
# ১৯১৩ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন।
# ১৯১৬ সালে একজন ব্রিটিশ অধ্যাপকের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
# ১৯১৭ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজের দর্শন অনার্সে যোগদান করেছিলেন।
# ১৯১৮ সালে বিএ পাশ করেন সুভাষ।
# ১৯১৯ সালে দর্শনে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন
# ১৯২০ সালে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
# ১৯২১ সালে দেশে ফিরে আসেন।
# ১৯২২ সালের ১ আগস্ট তিনি জেল থেকে বের হয়ে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে গয়া কংগ্রেস দলে যোগ দেন।
# ১৯২৩ সালে তিনি ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন।
# ১৯২৫ সালে চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যু তাকে অত্যন্ত শোকাহত করে।
# ১৯২৭ সালে জওহরলাল নেহেরুর সাথে নেতাজি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
# ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাকে ইউরোপে নির্বাসিত করা হয়।
# ১৯৩২-এর ফেব্রুয়ারী থেকে অসহযোগ আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার সময় থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
# ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ভিয়েনার উদ্দেশ্যে বোম্বে থেকে জাহাজযোগে রওনা দেন।
# ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে বর্মার (বর্তমান মায়ানমার) মান্দালয়ের জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় সুভাষচন্দ্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
# ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর প্রেমিকা এমিলি-কে বিবাহ করেন।
# ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি গান্ধীর বিরোধিতার মুখে ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন।
# ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে তারিখে সুভাষ অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক (All India Forword Block) নামক একটি দল গঠন করেন।
# ১৯৪০ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হলেও গৃহবন্দী করে রাখা হয় তাকে।
# ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ২৮ শে মার্চ জার্মানির রাজধানী বার্লিনে এসে উপনীত হন ।
# ১৯৪২ এর ডিসেম্বরে ভিয়েনায় পৌঁছান সুভাষ চন্দ্র মেয়েকে দেখার জন্য।
# ১৯৪৩ সালে রাসবিহারি বসু এই সেনাবাহিনীর দ্বায়ীত্ব সুভাষ চন্দ্র বসুকে হস্তান্তর করেণ ।
# ১৯৪৫, ১৮ আগষ্ট রাত প্রায় ন'টার সময়ে সুভাষ চন্দ্র বসু শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এমনটা ধারনা করা হয়।



অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

