somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

এপিলেপ্সি

১০ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের এলাকায় একটা পাগল আছে।
নাম সোহেল। সবাই সোহেল পাগলা বলে ডাকে। বয়স ২২ বা ২৫ হবে। একসময় সোহেল পাগলা রাস্তায় সুন্দরী মেয়ে দেখলে গান গেয়ে উঠতো- 'শ্বশুর বাড়ি যাও, ভালা ভালা খাও'। তার এই একটাই গান। চিৎকার দিয়ে গানটা গাইতো। এলাকার মানুষজন বেশ মজা পেত। গানের সাথে সাথে সোহেল পাগলা অদ্ভুত ভাবে নাচতো। এখন সোহেল পাগলা নাচে না, গান গায় না। তার একটা অসুখ আছে। হঠাৎ হঠাৎ সে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। ধাম করে মাটিতে পড়ে গিয়ে তার মাথা ফাটে, ঠোট কাটে এবং হাতে পায়ে বেশ ব্যথা পায়। মাটিতে পড়ে পুরো শরীর কাপতে থাকতে। মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। খিচুনী রোগীর মতোন অবস্থা। সোহেল পাগলার মৃগী রোগ আছে। জুতোর ঘ্রান শুকলে নাকি মৃগী রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। সোহেল পাগলার গলায় সব সময় চামড়া মালা আছে।
সোহেল পাগলার মা আছে, দুই ভাই আছে, ভাবী আছে, আছে দুই বোন। অথচ সোহেল পাগলাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অনেক বছর ধরে সে এক বিল্ডিং এর নীচে ঘুমায়। মাঝে আশে পাশের দোকানদারদের টুকটাক কাজ করে দেয়। এই পানি এনে দিলো, এই চা এনে দিলো। বিনিময়ে তারা তাকে রুটি কলা খেতে দেয়। আজ থাক। সোহেল পাগলার গল্প আরেকদিন বিস্তারিত বলবো। এখন মূল লেখায় যাই।

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটা বই আছে 'পার্থিব'।
চমতকার বই। অনেক মোটা বই। আমি দুইবার পড়েছি আগে। আবার নতুন করে পড়া শুরু করেছি। এই 'পার্থিব' বইটাতে একটা চরিত্র আছে 'চয়ন' নামে। সে ইংরেজি এবং অংকে অনেক ভালো। বেশ কয়েকটা টিউশনি করে চয়ন জীবিকা নির্বাহ করে। তার ভাই ভাবী আছে, তারা চয়নের দিকে ফিরেও তাকায় না। মা বেচে ছিলো। দীর্ঘদিন রোগে ভূগে মা-ও মরে গেল। চয়নের অনেক কষ্ট। কিন্তু কষ্টের কথা বলার তার কেউ নেই। চয়নের মৃগী রোগ আছে। হঠাত হঠাত তার খিচুনী দেখা দেয়। তখন তার ভীষন কষ্ট হয়। লেখক শীর্ষেন্দু মৃগী রোগের বর্ননা দিয়েছেন। মৃগী রোগীর কি পরিমান কষ্ট সহ্য করতে হয় তা বিস্তারিত বলেছেন। বাংলা সাহিত্যে আর কেউ মনে হয় মৃগী রোগ বা রোগী নিয়ে লিখেন নি। যদিও বাংলা সাহিত্য আমি অল্প পড়েছি। যাই হোক, আজ আমার লেখার বিষয় এই মৃগী রোগ। আসুন এই রোগ নিয়ে বিস্তারিত জানি। জানার দরকার আছে। জেনে রাখা ভালো।

মৃগী রোগীর চিকিৎসা আছে।
চিন্তার কিছু নেই। সঠিক চিকিৎসায় রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। ৯০ শতাংশ রোগী ওষুধ খেয়ে ভালো থাকে। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ বছর ওষুধ খেয়ে রোগমুক্ত হয়। মৃগী এক প্রকার মস্তিষ্কের রোগ। মৃগী রোগকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'নিউরোলোজিক্যাল ডিজিজ' বলা হয়।
মৃগী রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে। এটা কোনো সংক্রামক রোগ নয়। এই রোগের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। মৃগী রোগে খিঁচুনি হঠাৎ শুরু হয়ে কিছুক্ষণ পর এমনিতেই থেমে যায়। সাধারণত এ ধরনের অ্যাটাক আধা মিনিট বা এক মিনিট সময় ধরে হয়ে থাকে। অনেকে অস্থির হয়ে রোগীর হাত-পা চেপে ধরে, মাথায় পানি দেয় আবার অস্থির হয়ে মুখে ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে, চামড়ার জুতা বা গরুর হাড় বা লোহার শিক ইত্যাদি মুখে চেপে ধরে। কিন্তু এসব কোন কিছুই করার দরকার নেই। এসবে কিন্তু কোনো কাজ হয় না বরং ক্ষতিই বেশি হয়। রোগটি নিজে নিজেই থেমে যাবে এবং রোগী ঘুমিয়ে পরবে।

বর্তমানে মৃগী রোগের উন্নত চিকিৎসা আছে।
মৃগী রোগীকে মানসিক ভাবে অনেক বেশি সহযোগিতা করতে হয়। জগতে বিখ্যাত অনেক মানুষদের মৃগী হয়েছে। যেমন- আর্টিস্ট ভিনসেন্ট ভ্যানগগ, বিজ্ঞানী সক্রেটিস, সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্সসহ বহু লোক। তারা তাদের কাজের মধ্যে দিয়ে খিঁচুনি রোগকে জয় করতে পেরেছেন। ১৭ নভেম্বর সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব এপিলেপসি বা মৃগী দিবস।
এপিলেপ্সি বা মৃগী রোগ গ্রিক শব্দ এপিলেপ্সিয়া থেকে এসেছে। এই রোগ নারীদের কম হয়। মানুষের দেহের সব কাজ নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে। যখন মস্তিষ্কের উদ্দীপক ও নিবৃত্তিকারক অংশদ্বয়ের কার্যপ্রণালির ভারসাম্য নষ্ট হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন মৃগি রোগ বা এপিলেপসির উপসর্গ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৪৬
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×